রিমান্ড শেষে ফের কারাগারে
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে শিবির নেতা দাউদকান্দির জিসান মিয়া

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে। ছবি : আজকের কথা
দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কুমিল্লার আদালতে হাজির করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে গত রোববার একই আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জিসান মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জিসান মিয়াকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ আরো তথ্য
- ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জিসান মিয়া প্রধান।
- জিসান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
- আদালত সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
- রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
- ঘটনা প্রকাশের পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জিসান মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিসান মিয়ার পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ তাকে আদালতে হাজির করেন। আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এদিন ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে কিংবা আসামিপক্ষ থেকে নতুন কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে গত রোববার আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, আদালতের দেওয়া সময় অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিসান কী ধরনের তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
এর আগে গত ১৬ জুন একই আদালতের বিচারক জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি চার দিন ধরে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে ১৬ জুন দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে মামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এক বিধবা নারী জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন আসামিও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জিসান মিয়ার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে জিসান একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানার পর জিসান মিয়া ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করেন এবং একসময় আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই জিসান মিয়ার পরিবার দাবি করে আসছিল, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে তার স্বজনরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পরিবারের দাবি ছিল, জিসান নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্তে অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং বিয়ের চাপ এড়ানোর উদ্দেশ্যে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর ভ্রূণ নষ্ট করার বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু বিয়ের নির্ধারিত সময়ের আগের রাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এতে ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয় এবং তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ১২ জুন রাতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে। একই রাতে ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।
ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এতদিন মামলাটি তদন্ত করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে তাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তের দায়িত্ব এখন পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন বাসায় না ফেরায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত থাকার সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তিনজন।
ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।






























https://shorturl.fm/Zbxh0