মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

রিমান্ড শেষে ফের কারাগারে

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে শিবির নেতা দাউদকান্দির জিসান মিয়া

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
জিসান মিয়ার ধর্ষণ মামলা

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কুমিল্লার আদালতে হাজির করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
  • আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
  • মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন।

দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কুমিল্লার আদালতে হাজির করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে গত রোববার একই আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জিসান মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জিসান মিয়াকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ আরো তথ্য

  • ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জিসান মিয়া প্রধান।
  • জিসান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
  • আদালত সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
  • রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
  • মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
  • ঘটনা প্রকাশের পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জিসান মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিসান মিয়ার পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ তাকে আদালতে হাজির করেন। আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এদিন ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে কিংবা আসামিপক্ষ থেকে নতুন কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে গত রোববার আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছিলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, আদালতের দেওয়া সময় অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিসান কী ধরনের তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

এর আগে গত ১৬ জুন একই আদালতের বিচারক জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি চার দিন ধরে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে ১৬ জুন দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে মামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এক বিধবা নারী জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন আসামিও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জিসান মিয়ার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে জিসান একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানার পর জিসান মিয়া ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করেন এবং একসময় আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে শুরু থেকেই জিসান মিয়ার পরিবার দাবি করে আসছিল, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে তার স্বজনরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পরিবারের দাবি ছিল, জিসান নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্তে অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং বিয়ের চাপ এড়ানোর উদ্দেশ্যে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর ভ্রূণ নষ্ট করার বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু বিয়ের নির্ধারিত সময়ের আগের রাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এতে ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয় এবং তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

পরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ১২ জুন রাতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে। একই রাতে ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
1 মন্তব্য
Oldest
Newest Most Voted
Nevaeh897
Nevaeh897
1 month ago
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এবারের এসএসসিতে পরীক্ষার ফলাফলে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১২১৭ নম্বর। তার এই অসাধারণ ফলাফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেবীদ্বার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাকিয়া সুলতানা ইভার এই সাফল্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তবে বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভার ১২১৭ নম্বর অর্জন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে সে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জাকিয়া সুলতানা ইভার এমন ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো বিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তার এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবারের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত।
মো. মজিবুর রহমান
প্রধান শিক্ষক- দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

তিনি বলেন, “জাকিয়ার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়।”

জাকিয়া সুলতানা ইভাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান আরও বলেন, “তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”

বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২১৭ নম্বর পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাকিয়া সুলতানা ইভার এই ফলাফল তার দীর্ঘদিনের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। একই সঙ্গে ৬১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

জাকিয়ার এমন সাফল্যে দেবীদ্বারের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জাকিয়া তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ এএম
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনও মরদেহের হাত ও পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।

​হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার পাকের ঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে পরিত্যক্ত একটি ড্রামের আড়ালে লুকানো কানের এক জোড়া দুল, একটি গলার চেইন, একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাইলীর তথ্যানুযায়ী, টয়লেটের কমোট থেকে আলমারির চাবি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।

​নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঐ বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক লাইলী আক্তার পারিবারিক কলহের কারণে ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। লাইলী ইতিপূর্বে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছিলেন।

​হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোকাতে ঘাতকরা মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে প্যাকেট করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখে। কিছু অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার রাতে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত চলছে। লাইলী আক্তার প্রাথমিকভাবে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরে ঠান্ডা মাথায় মরদেহের অংশগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। CC ক্যামেরার ফুটেজে তার কর্মকাণ্ড স্পষ্ট দেখা গেছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে মর্মান্তিক মৃত্যু

দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার মা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দেবীদ্বার সদর এলাকার মোল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফরিন আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আফরিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তারা ‘খান মঞ্জিল’-এর ওই বাসায় থাকছিলেন।

পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য জামসেদ মিয়ার ছেলে ও পেশায় ক্যামেরাম্যান সাখাওয়াত হোসেন সানি (২৬)-এর সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা ও তার প্রবাসী দুই ভাই।

সানি প্রায় ছয় মাস ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার বাড়ির মালিক শাহ আলম খান ও তার ভাইয়ের উপস্থিতিতে সানিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাগ করে মেয়েকে বাসায় একা রেখে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
মরিয়ম বেগম
নিহত আফরিনের মা

মরিয়ম বেগমের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে সৌদি প্রবাসী ছোট ছেলে আজাদ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেন। আজাদ জানান, সানি তাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আফরিনকে বিয়ে করবেন না এবং আফরিন আত্মহত্যা করতে পারেন।

পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান মরিয়ম বেগম। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় সানিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।

বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকায় সোমবার দুই পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা ছিল।

পুলিশের বক্তব্য

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও পারিবারিক মনোমালিন্যের বিষয়টি সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

×
CLOSE X
ENG