বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

স্মরণসভায় দলীয় ঐক্যের আহ্বান

‘বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করা ব্যক্তিদের দলে থাকার অধিকার নেই’— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন কুমিল্লা-২৫০ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।

প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন কুমিল্লা-২৫০ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনে তাদের সমর্থন দিয়েছে।
  • যারা বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করেছে, তাদের বিএনপি করার কোনো অধিকার নেই।
  • এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার হোমনা-তিতাস আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।

আমাদের দল কখনো এনসিপিকে সমর্থন করেনি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনে তাদের সমর্থন দিয়েছে। যারা বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করেছে, তাদের বিএনপি করার কোনো অধিকার নেই।

এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার হোমনা-তিতাস আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।

দৈনিক আজকের কথা
আব্দুল আউয়াল খান ছিলেন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শিক রাজনীতিক। দলের জন্য তাঁর অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
— — অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, এমপি
সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি (কুমিল্লা বিভাগ) ও সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-২৫০ (হোমনা-তিতাস)

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আ. আউয়াল খান স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় (কুমিল্লা বিভাগ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খান কখনো নিজের পরিবার নিয়ে ভাবেননি; রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান কর্ম। করোনা মহামারির সময় যখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেত, তখনও তিনি ঘরে বসে থাকেননি; দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বিএনপির জন্য যা করেছেন, তার বিনিময়ে বিএনপি তাঁর জন্য তেমন কিছুই করতে পারেনি। এটি দলের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।

দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তিন মাস সময় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এনসিপির কমিটি দিয়ে তো আর বিএনপি চলবে না। তাই দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে প্রতিপক্ষেরই লাভ হয়। তাই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে সবাইকে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিএনপির পতাকার আড়ালে যারা এনসিপির নির্বাচন করেছে, তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। আর কেউ যদি টাকা দিয়ে নেতৃত্ব কিনতে চায়, সেই খবর পেলে তার পদ বাতিল করা হবে।”

দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি ও গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম. এ. আউয়াল খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ওমর ফারুক সাফিন ও সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, রেজভিউল আহসান মুন্সী, সুফিয়া বেগম এবং দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খানের পুত্র, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা আসাদুজ্জামান খানসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত নেতা আ. আউয়াল খানের রাজনৈতিক জীবন, দলীয় অবদান ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভার আগে প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের নিজ গ্রামে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

ডার্বি নাসীরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতা ওই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির অন্য নেতাদের বক্তব্যও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে দিন দিন তাদের ‘আস্ফালন’ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”

পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্যের পর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, তাঁদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।

দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

সবুজ-শ্যামল দেবীদ্বার গড়ার প্রত্যয়

আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ-শ্যামল, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেবীদ্বার গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মোল্লাবাড়িতে অবস্থিত সাজেদা ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের ১৬০ জন উপকারভোগী সদস্যের মাঝে ফলজ, বনজ ও কাঠজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১ হাজার ২০০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, ডালিম, লটকন, সেগুন, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন জাতের গাছ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বাংলাদেশ গ্রাম আদালতের দেবীদ্বার উপজেলা সমন্বয়কারী সাইফুল করিম খান, দেবীদ্বার থানার এএসআই মো. ইয়াকুব, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম রাশেদুজ্জামান সরকার, সূচনা ফাউন্ডেশন কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম, এলাকা ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা, এলাকা হিসাব ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিন এবং সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের দেবীদ্বার শাখা ব্যবস্থাপক দুলাল তুর্কী ও কুমিল্লা অঞ্চলের এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম অফিসার রেদওয়ানুল হক। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বৃক্ষের চারা বিতরণের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ফলজ গাছের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।

তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না—গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উপকারভোগীদের নিজ নিজ চারার যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের ৩ হাজার ৫০০ উপকারভোগী সদস্যের মধ্যে মোট ২০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দেবীদ্বারের এ কর্মসূচি সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।

দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম
দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

চান্দিনায় ট্রাক আটকে ফাঁস হলো দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ

বন্ধকী সম্পদ সরানোর সময় দুই ট্রাক জব্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কাছে বন্ধকীকৃত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের প্রায় ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন মালামালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় অবস্থিত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ভেতর থেকে এসব মালামাল বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার আটজন হলেন—ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), চালকের সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকের চালক শাহআলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং কথিত পাচারকাজের সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)।

মামলায় মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসির স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকার মামলাকৃত ও শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (সংশোধন ২০১০) অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ মার্চ অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১০০১/২০২৪।

অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মিলের মালিকপক্ষ ব্যাংকের কাছে বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বিপুল পরিমাণ মালামাল মিল থেকে বের করে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করে।

মালামাল নিয়ে দুটি ট্রাক দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা সুমনের ভাঙারি দোকানের সামনে ট্রাক দুটি আটক করে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চালক ও সহযোগীদের আটক করে।

পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জব্দ করা মালামালের মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ নম্বর ট্রাক থেকে ৮ হাজার ৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বর ট্রাক থেকে ৪ হাজার ৯০০ কেজি স্পিনিং মেশিনের মোটর ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি ট্রাক থেকে মোট ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল দেবীদ্বার থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দ করা ট্রাক ও মালামাল এবং আটক ব্যক্তিদের দেবীদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
ENG