“পাকা ঘরের প্রলোভন, সর্বস্ব হারাল শতাধিক পরিবার—পলাশবাড়ীতে তোলপাড়”
টিউবওয়েল দিয়ে আস্থা অর্জন, পরে টিনশেড ঘরের নামে কোটি টাকার ফাঁদ—স্ত্রী-সন্তানের অ্যাকাউন্টে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
পাকা ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শত শত অসহায় পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬৫ পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরের উদয়সাগর হাজীপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বগুড়া সদর উপজেলার বৃন্দাবন পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আকবার আলীর ছেলে। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন গাইবান্ধা জামিয়া ইসলামিয়া আসমা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মো. আল আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে পরিচয়ের সূত্র ধরে শহিদুল ইসলাম স্থানীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। প্রথমে জনপ্রতি মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে ২০টি পরিবারে টিউবওয়েল স্থাপন করে বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি। এরপর সেই আস্থাকেই পুঁজি করে শুরু হয় বড় প্রতারণার ফাঁদ।
পরবর্তীতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে ইটের দেয়ালঘেরা টিনশেড পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এতে ৩৬৫ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৭০ টাকা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এবং বাকি ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩৩০ টাকা নগদে গ্রহণ করেন শহিদুল ইসলাম। পরে কাঠ ও খুঁটি কেনার কথা বলে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে মোট আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের পাশাপাশি স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও সন্তানদের ব্যাংক হিসাবেও এসব টাকা লেনদেন করেন অভিযুক্ত শহিদুল।
নির্ধারিত সময় পার হলেও ঘর না পেয়ে ভুক্তভোগীরা এখন চরম হতাশা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা বারবার টাকা ফেরতের দাবি জানালেও কোনো সাড়া পাননি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে আল আমিন ইসলাম বাদী হয়ে শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, ছেলে সালাউদ্দিন ও মেয়ে সুমাইয়া বেগমকে আসামি করে গাইবান্ধা আমলী আদালতে (সি আর-৮০/২০২৬) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির ওপর ন্যস্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউল ইসলাম পারভেজ, শরিফুল ইসলাম শরিফ, আব্দুল হান্নান, সোহেল রানা, হাবিবুর রহমান ও লাভলু মিয়াসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা।





















