

পিরোজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চুরির অপবাদ দিয়ে মো. ইউনুস নামে এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারের পুরুষাঙ্গে মোমবাতির আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউনুস বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতনের ভয়াবহতা: অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) পিরোজপুর পুলিশ অফিসার্স মেসে কর্মরত কেয়ারটেকার ইউনুসকে টাকা চুরির অভিযোগে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে দফায় দফায় অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার পুরুষাঙ্গে মোমবাতি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তথ্য গোপনের চেষ্টা: ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইউনুসকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ১৪ এপ্রিল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ইউনুসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলতে বাধ্য করা হয় যে—স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ পুড়িয়েছেন এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য: এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে ‘নিউজ না করার’ জন্য বারবার অনুরোধ জানান এবং প্রয়োজনে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এদিকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরিবারের দাবি: ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না, যেভাবে আমার ভাইকে বিনা অপরাধে করা হয়েছে। আমরা কোনো প্রলোভন বা কর্মসংস্থান চাই না; আমরা এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
চিকিৎসকের ভাষ্য: পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, “ইউনুসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুরুষাঙ্গে পোড়া দাগ দেখা গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই গুরুতর অভিযোগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত তদন্তের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।