বগুড়ায় মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার
মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ায় বাবাকে হত্যা—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বগুড়ায়। কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় রিকশাচালক শাকিল আহম্মেদকে (৪০) অপহরণ করে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসম্পাদক জিতু ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৪ জুন) দুপুরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, আর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া শহরের শিববাটি এলাকায়। নিহত শাকিল আহম্মেদ একজন দরিদ্র রিকশাচালক। তাঁর কিশোরী মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিতু ইসলাম (৪৩)। মেয়ের বয়স ও প্রস্তাবকারীর বয়সের ব্যবধান এবং চরিত্রগত কারণে বাবা শাকিল ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার দুপুরে জিতু ইসলাম তাঁর লোকজন নিয়ে শাকিল আহম্মেদকে বাড়ি থেকে তুলে নেন।
পরে শহরের ফুলবাড়ী এলাকায় করতোয়া নদীর ঘাটে নিয়ে গিয়ে শাকিলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলমাস আলীর নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত ১০টার মধ্যে জিতু ইসলাম, তাঁর সহযোগী শফিকুল হাসান বিপ্লব (২৮) ও মতিউর রহমান মতি (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্ত জিতু ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ায় বাবাকে হত্যা—এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দলে বহিষ্কার করলেও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত শাকিল আহম্মেদের পরিবার দোষীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।





















