একজন মেয়ের একাকী লড়াই
বাবার লাশ বাড়িতে, মা কারাগারে—মায়ের জন্য ছুটলেন দীপাবলী

বাবার মৃত্যুর পর মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করতে ছুটে চলা তানী দীপাবলী নেওয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
প্যারোলের খবরের আড়ালে যে মেয়ের গল্প: বাস্তবের মাটিতে যেন ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলী
বাবা নেই।
বাবার লাশ বাড়িতে পড়ে আছে, নিথর দেহ।
আর মা—কারাগারে।
একজন মেয়ের জন্য এর চেয়ে কঠিন বাস্তবতা আর কী হতে পারে?
বাবাকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই মায়ের জন্য ছুটতে হলো তাকে। কারাগারে বন্দি মাকে বাবার শেষ মুখটি দেখাতে হবে। প্রয়োজন প্যারোলের। প্রয়োজন প্রশাসনিক অনুমোদনের। আর সেই দায়িত্ব এসে পড়ল মেয়েটির কাঁধে।
মেয়েটির নাম তানী দীপাবলী নেওয়াজ।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রয়াত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মেয়ে তিনি। তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করেছিলেন দীপাবলী। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দীপু মনিকে স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে মানবিক অধ্যায়টি যেন প্যারোলের সরকারি আদেশের আড়ালেই থেকে গেছে।
বাবাকে হারানোর দিনেই শুরু মায়ের জন্য লড়াই
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা গেলেন। পরিবারের ওপর নেমে এলো শোকের ছায়া।
কিন্তু শোক পালনের সুযোগটুকুও যেন দীপাবলীর সামনে পুরোপুরি ছিল না।
কারণ, তাঁর মা তখন মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে।
বাবার মরদেহ ঢাকায়।
মা কারাগারে।
আর মেয়েটিকে দাঁড়াতে হলো এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান দীপাবলী। এরপর মায়ের প্যারোলের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক দিনের প্যারোল চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার অনুমোদন দেওয়া হয়।
সেই ১২ ঘণ্টার পেছনে ছিল একটি মেয়ের ছুটে চলা।
নিজের শোক ভুলে মায়ের কথা ভাবা
বাবাকে হারানোর পর একজন সন্তানের প্রথম কাজ হওয়ার কথা নিজের শোক সামলানো।
কিন্তু দীপাবলীর সামনে তখন অন্য এক দায়িত্ব।
মা যেন স্বামীর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারেন।
মা যেন জানাজায় থাকতে পারেন।
মা যেন স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
এই চাওয়াটুকু পূরণ করতেই নিজের কষ্টকে যেন সাময়িকভাবে পাশে সরিয়ে রাখলেন তিনি।
কারাগার থেকে প্রশাসনিক কার্যালয়—আবেদন, অনুমোদন, অপেক্ষা—সবকিছুর মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেন একজন মেয়ে।
শিরোনাম হলো ‘দীপু মনি প্যারোলে’, গল্পটি কিন্তু দীপাবলীর
পরদিন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এলো—
‘১২ ঘণ্টার প্যারোলে দীপু মনি’
স্বাভাবিকভাবেই এটি ছিল বড় সংবাদ। একজন সাবেক মন্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন—জাতীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
কিন্তু সেই সংবাদটির পেছনে আরেকটি গল্প ছিল।
একজন মেয়ের গল্প।
যে মেয়েটি বাবাকে হারানোর পরও মায়ের জন্য ছুটেছিল।
যে মেয়েটি জানত, মায়ের কাছে হয়তো এটাই শেষ সুযোগ—জীবনসঙ্গীকে শেষবারের মতো দেখা।
দীপু মনি ২০ আগস্ট সকালে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে প্যারোলে বের হয়ে ঢাকায় যান। তিনি স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নেন এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার মুন্সীগঞ্জ কারাগারে ফিরে যান।
এখানেই মনে পড়ে ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলী
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলী বাঙালি পাঠকের কাছে সংগ্রাম, আত্মনির্ভরতা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার এক প্রতীকী চরিত্র।
জীবনের কঠিন আঘাত তাকে থামাতে পারেনি।
সামাজিক বাধা তাকে ভেঙে দিতে পারেনি।
নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছিল তাকে।
বাস্তব জীবনের এই দীপাবলী অবশ্য উপন্যাসের চরিত্র নন।
তাঁর সামনে কোনো গল্পের পৃষ্ঠা নেই।
আছে বাস্তব জীবন।
আছে বাবাকে হারানোর শোক।
আছে কারাগারে বন্দি মা।
আছে প্রশাসনিক জটিলতা।
আর আছে একজন মেয়ের দায়িত্ব।
তবুও দুই দীপাবলীর মধ্যে কোথায় যেন একটি অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়—প্রতিকূলতা যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন পিছিয়ে না গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস।
‘মা যেন বাবাকে শেষবার দেখতে পারেন’
দীপাবলীর সেই দিনের পুরো অনুভূতি হয়তো কোনো প্রতিবেদনে লেখা সম্ভব নয়।
কারণ কিছু অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর একজন মেয়ে যখন মায়ের কাছে যায়, তখন সে শুধু সংবাদ বহন করে না—বহন করে এক পৃথিবী শোক।
তারপর যখন সেই মেয়েকেই মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করতে হয়, তখন তার নিজের কান্নার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় মায়ের শেষ দেখা নিশ্চিত করার দায়িত্ব।
এখানেই দীপাবলীর গল্পটি আলাদা।
এটি শুধু প্যারোলের গল্প নয়।
এটি একজন মেয়ের দায়িত্ববোধের গল্প।
ছবির মানুষটির চোখে যেন অনেক কথা
ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে মাথা ঢাকা এক নারী সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। মুখে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। চোখেমুখে ক্লান্তি ও গাম্ভীর্য।
এই ছবিটিকে যদি শুধু একজন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের ছবি হিসেবে দেখা হয়, তাহলে ছবিটির বড় অংশই অদৃশ্য থেকে যাবে।
ছবিটির পেছনে আছে একজন মৃত বাবা।
আছে কারাগারে থাকা একজন মা।
আছে মায়ের জন্য ছুটে চলা এক মেয়ে।
আর আছে এমন এক সময়, যখন নিজের শোকের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে দায়িত্ব।
ইতিহাস বড় ঘটনাকে মনে রাখে, মানুষ মনে রাখে ছোট দৃশ্য
রাজনীতির ইতিহাসে প্যারোল একটি প্রশাসনিক ঘটনা।
কিন্তু পারিবারিক ইতিহাসে এটি অন্যরকম।
একজন স্ত্রী স্বামীর শেষ বিদায়ে যেতে পেরেছিলেন।
আর সেই সুযোগ তৈরি করার জন্য একজন মেয়ে বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেও ছুটে বেড়িয়েছিলেন।
সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যারোলের সরকারি কাগজটি হারিয়ে যাবে।
খবরের কাগজের শিরোনামও পুরোনো হয়ে যাবে।
কিন্তু একজন মেয়ের সেই ছুটে চলার গল্প—যদি ঠিকভাবে বলা যায়—তা মানুষের মনে থেকে যেতে পারে অনেক বেশি দিন।
উপন্যাসের দীপাবলী আর বাস্তবের দীপাবলী
সমরেশ মজুমদারের দীপাবলী আমাদের শিখিয়েছেন—জীবন যত কঠিনই হোক, লড়াই থামানো যায় না।
আর বাস্তবের দীপাবলী যেন সেই কথাটিই নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন।
তবে তাঁর লড়াই ছিল কোনো সামাজিক প্রতিষ্ঠা বা ব্যক্তিগত স্বপ্নের জন্য নয়।
ছিল বাবা-মায়ের শেষ সম্পর্কটির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।
বাবা আর নেই।
মা তখন বন্দি।
আর সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে রইলেন দুই প্রান্তের মাঝখানে।
তারপর ছুটলেন।
মায়ের জন্য।
বাবার শেষ বিদায়ের জন্য।
একজন সন্তানের শেষ দায়িত্বের জন্য।
হয়তো এ কারণেই এই গল্পটি শুধু ‘দীপু মনির প্যারোল’-এর গল্প নয়।
এটি এক মেয়ের গল্প—যে নিজের বাবাকে হারানোর শোক বুকের মধ্যে রেখেও মাকে বাবার শেষ মুখটি দেখাতে লড়েছিল।
সেদিন বাস্তবের পথে যে দীপাবলী হেঁটেছিলেন, তাঁর গল্প হয়তো কোনো উপন্যাসের চেয়ে কম বেদনাদায়ক নয়।
বরং জীবন কখনো কখনো উপন্যাসের চেয়েও নির্মম গল্প লিখে ফেলে।
আর সেই গল্পের নাম—দীপাবলী।
উপশিরোনাম: প্যারোলের খবরের আড়ালে একজন মেয়ের একাকী লড়াই
ছবির ক্যাপশন: বাবার মৃত্যুর পর মায়ের প্যারোলের জন্য আবেদন করতে ছুটে চলা তানী দীপাবলী নেওয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
ট্যাগ: দীপাবলী, দীপু মনি, তৌফিক নেওয়াজ, মুন্সীগঞ্জ, প্যারোল, সাতকাহন, মানবিক গল্প, বিশেষ প্রতিবেদন
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



































