শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ধরা পড়ার পর দুঃখ প্রকাশ

বাবা ‘শহীদ’ ’৭১-এ, জন্ম ’৮১-তে; এবার জানা গেল সেই জামাতি এমপি মুনতাকিমের বাবা এখনও জীবিত!

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১:১৭ এএম
আব্দুল মুনতাকিম বিতর্ক

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার পর ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বাবার সন্তান’ দাবি নিয়ে আলোচনায় নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। ছবি: সংগৃহীত।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ব্যক্তির সন্তান দাবি করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম।
  • তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশিত তথ্যের অসঙ্গতি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, সমালোচনা এবং হাস্যরস।
  • সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ।

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ব্যক্তির সন্তান দাবি করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশিত তথ্যের অসঙ্গতি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, সমালোচনা এবং হাস্যরস।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, তাদের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।”

সংসদে দেওয়া এ বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় তথ্য যাচাই-বাছাই।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। অর্থাৎ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পর তার জন্ম। বিষয়টি সামনে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপির বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনই বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। তারা নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে বসবাস করছেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ বিষয়টিকে তথ্যগত বিভ্রান্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও অনেকেই একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যকে দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।

বিতর্কের মুখে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “বক্তব্যের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল শব্দ ব্যবহার করেছি। এ কারণে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

এমপি মুনতাকিম আরও জানান, সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এদিকে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন এবং নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সামনেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা ও সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংসদে উচ্চারিত প্রতিটি বক্তব্য জনগণের কাছে বার্তা হিসেবে পৌঁছে যায়। ফলে এ ধরনের তথ্যগত ভুল সহজেই বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য, জন্মসালের তথ্য এবং পরে জীবিত বাবার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

কঠোর হুঁশিয়ারি

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

নভেম্বরের মধ্যে আইন না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সাংবাদিক সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন,

“সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের গত ৫৫ বছর ধরে নানা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। সাংবাদিকতা পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আহমেদ আবু জাফর আরও বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোরও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। অনেক আসামি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও অধিকাংশ হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের বিমাতাসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ চাইবেন, অথচ তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবেন না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করা হবে।
— আহমেদ আবু জাফর
সভাপতি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ট্রাস্টি বোর্ড

সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি খেয়াল রাখবেন।

তিনি বলেন,

“আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।”

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।

১১১ সদস্যের কমিটির পরিচিতি

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যের পর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন।

এ সময় মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ১০ জন সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।

ডোবায় ভাসল যুবদল নেতার লাশ

কবিরহাটে যুবদল নেতা আজাদকে হত্যা, লাশ গুমের চেষ্টা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম
কবিরহাটে যুবদল নেতা আজাদকে হত্যা, লাশ গুমের চেষ্টা

ডোবায় ভাসল মরদেহ, গলায় দড়ি-চোখে আঘাতের চিহ্ন

নোয়াখালীর কবিরহাটে যুবদল নেতা আজাদ হোসেন (৩৪)কে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন লাভলী বেগম বাদী হয়ে কবিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দায়ের করা মামলাটির নম্বর-৪। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ২০১ (আলামত বিনষ্ট ও লাশ গুমের চেষ্টা) এবং ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দুজনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে আজাদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখের ওপর গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে প্রাথমিকভাবে তাঁকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত আজাদ হোসেন দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাবঘর এলাকায় ব্যবসা করতেন।

রাতে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে একদল লোক আজাদকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সারারাত ও পরদিন সকাল পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি।

পরে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় আজাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) তাঁকে রাতে ডেকে নিয়ে যান। পূর্বশত্রুতা কিংবা স্থানীয় কোনো বিরোধের জেরে তাঁরা আজাদকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ স্বজনদের।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই ভাই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদকবিরোধিতা নাকি রাজনৈতিক বিরোধ?

তদন্তসংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়া কিংবা স্থানীয় কোনো আড্ডাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন,

“আজাদ শুধু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না, তিনি যুবদলের একজন সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও একাধিকবার তাঁর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

পুলিশের অভিযান

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মরদেহের গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। নিহতের বোনের দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে শোক

কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমানের মৃত্যু

কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমানের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সফল কমান্ডার এবং কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমান শেখ আর নেই।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে (২টা ৩০ মিনিট) কোটালীপাড়া পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী লুৎফর রহমান শেখ সাহসিকতার সঙ্গে সম্মুখসমরে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

দীর্ঘদিন তিনি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও মানুষের পাশে থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমান শেখের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজের জন্য তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
— ফাহিমা বেগম প্রিয়া
সহ-সাধারণ সম্পাদক, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটি

তাঁর মৃত্যুতে কোটালীপাড়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোকবার্তায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী লুৎফর রহমান শেখের অবদান এবং স্বাধীনতার পর সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা কোটালীপাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। তাঁর মতো একজন বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তির শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

×
CLOSE X
ENG