বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত করতে মার্কিন চাপ: কী বলছে বাংলাদেশ?

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, ৬:৫৯ এএম
বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত করতে মার্কিন চাপ: কী বলছে বাংলাদেশ?

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত চেয়ে জ্বালানি, টেলিকম ও বীমা খাতে শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি; বাংলাদেশ বলছে “চাপ নয়, চুক্তি চাই” বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সম্প্রতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
  • ইন্দো-প্যাসিফিক বাণিজ্য সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দল জ্বালানি, টেলিকম এবং বীমা খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে।
  • এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত চেয়ে জ্বালানি, টেলিকম ও বীমা খাতে শতভাগ নিয়ন্ত্রণের দাবি; বাংলাদেশ বলছে “চাপ নয়, চুক্তি চাই”

বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সম্প্রতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক বাণিজ্য সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দল জ্বালানি, টেলিকম এবং বীমা খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে—যদি বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হয়, তবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিতে হবে। টেলিকম খাতে অপারেটরদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর নীতিনির্ধারণ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবস্থাপনায় মালিকানা অধিকার ছাড়তে হবে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব খাতে নিয়ন্ত্রণ হারালে তা শুধু বাজার নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তা, তথ্য প্রবাহ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান একই পথে হেঁটে পরে চরম সংকটে পড়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি মালিকানার সীমা রয়েছে—টেলিকম খাতে ৪০%-৬০%। বীমা ও বিদ্যুৎ খাতেও রয়েছে নিয়ন্ত্রিত সীমা। এসব সীমা তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার এখনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন)।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, “বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খোলা রাখতে হবে ঠিকই, তবে মালিকানা নয়—‘পারফরম্যান্স’ ভিত্তিক অংশীদারিত্ব মডেল নিয়ে ভাবা উচিত।” এক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল হতে পারে গ্রহণযোগ্য বিকল্প।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, “বিদেশি কোম্পানির হাতে টেলিকম নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ গ্রিড গেলে, সেটা শুধু আর্থিক নয়—একটি জিওপলিটিকাল হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

বিদেশি মালিকানা উন্মুক্ত বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠন প্রক্রিয়াধীন, যারা বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করবে।

👉 পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
বাংলাদেশ কি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেবে, নাকি নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে? সময়ই বলে দেবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মুরাদনগরে ডেঙ্গুর ভয়াল ছোবল: ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর মৃত্যু, বাঁচল না অনাগত সন্তান

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
মুরাদনগরে ডেঙ্গুর ভয়াল ছোবল: ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর মৃত্যু, বাঁচল না অনাগত সন্তান

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী নূর জাহানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া; পৃথিবীর আলো দেখার আগেই চলে গেল অনাগত সন্তানও

ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মর্মান্তিক এ ঘটনায় তার অনাগত সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর জাহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূর জাহানের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকায়। তার স্বামী জোবায়ের হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। আগামী মাসেই তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল।

স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার মুরাদনগরের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন নূর জাহান। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নূর জাহানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, পরিচিতজন ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে আরও গভীর শোক।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, নূর জাহান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬১তম আবর্তনের একজন মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, নূর জাহান অত্যন্ত আন্তরিক ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

নূর জাহানের মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মুরাদনগরে জমির বিরোধে রক্তের হোলি : ফুফু-ভাতিজা খুন, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ এএম
মুরাদনগরে জমির বিরোধে রক্তের হোলি : ফুফু-ভাতিজা খুন, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা

মুরাদনগরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ; ট্রেন থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পালিত কন্যাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া, তার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি।

জমির বিরোধে জোড়া খুন: ফুফু-ভাতিজার প্রাণ গেল, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা
জমির বিরোধে জোড়া খুন: ফুফু-ভাতিজার প্রাণ গেল, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল নিহত খালেদা আক্তার ও তার স্বজনদের সঙ্গে আবু মিয়ার। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর নিহতদের স্বজনের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে হনুফা বেগম ও তার পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং হত্যার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিস্তারিত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

মহেশখালীর বাসিন্দা হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন?

তিন ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তারা কক্সবাজারের মহেশখালী ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের এ দাবি সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কক্সবাজারের বাসিন্দা হয়েও তাদের কেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে হলো?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তারা যদি সত্যিই কক্সবাজারের স্থায়ী ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়নি কেন? তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখন যারা স্বাক্ষ্য বা প্রত্যয়ন দিচ্ছেন, সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কি আগে তাদের নাগরিকত্ব ও জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে পারতেন না?

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—দেবীদ্বারে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কীভাবে এবং কার মাধ্যমে? যদি প্রক্রিয়াটিতে নিয়মবহির্ভূত কোনো সুপারিশ, প্রত্যয়ন, তথ্য সরবরাহ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে শুধু জন্মনিবন্ধনকারী কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করলেই কি তদন্ত সম্পূর্ণ হবে? প্রত্যয়নদাতা, সুপারিশকারী এবং জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও কি খতিয়ে দেখা হবে না?

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত প্রকৃত পরিচয়

ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।

তারা বাংলাদেশি নাগরিক হলে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসনের নথি, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক রেকর্ড ও পূর্ববর্তী নাগরিক সনদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে ঠিক কোন কাগজপত্র ও কার প্রত্যয়ন বা সুপারিশের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, যদি তদন্তে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেই তথ্যও প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কারণ এখানে শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়—জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নকারীদের দায়ও সামনে আসার প্রশ্ন রয়েছে।

সুতরাং মূল প্রশ্ন একটাই—তারা যদি মহেশখালীর বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকই হন, তাহলে দেবীদ্বারে এসে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? আর যদি প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কার স্বার্থ কাজ করেছে—তারও নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে?

×
ENG