তারেক রহমানের প্রশংসা
‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এমন প্রধানমন্ত্রী পাইনি’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসায় কে. এম. মুজিবুল হক

প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ইউএপি ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক; এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অতিথিবৃন্দ ও আয়োজকরা। ছবি : আজকের কথা
মুরাদনগরে প্রবাসী গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমক উদ্বোধন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ, বিপুল দর্শক সমাগম ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ‘ভূইতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠন গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
হাইলাইটস
- কে. এম. মুজিবুল হকের বক্তব্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা
- ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না’—এমন মন্তব্য প্রধান অতিথির
- মুরাদনগরে উৎসবমুখর পরিবেশে গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার ওপর গুরুত্বারোপ
- উদ্বোধনী ম্যাচে সাহেদাগোপ ইয়াং স্টার ফুটবল একাদশের ৩-০ গোলের জয়
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্রীকাইল কৃষ্ণকুমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)-এর ছোট ভাই, ইউএপি ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান এবং টাস গ্রুপের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে কেএম মুজিবুল হক বলেন,
“স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এরকম প্রধানমন্ত্রী আমরা পাইনাই। যার মুখে প্রতিহিংসার ভাষা নাই। তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া কোনো নির্যাতনের প্রতিশোধ নিচ্ছেন না। আপনারা সবাই ওনার জন্য দোয়া করবেন।”
ইউএপি ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং করতালির মাধ্যমে বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট মনিরুল হক জর্জ। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক, সমাজসেবক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা একজন তরুণকে শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে না, বরং তার মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা গড়ে তোলে।
তারা আরও বলেন, যুবসমাজকে সুস্থ ধারার বিনোদন ও ক্রীড়াচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পরিবার, সমাজ, প্রবাসী এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্ট তরুণদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী ম্যাচেও ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সাহেদাগোপ ইয়াং স্টার ফুটবল একাদশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাফরগঞ্জ ফুটবল একাডেমিকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে। ম্যাচজুড়ে সাহেদাগোপ দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং প্রতিটি গোলেই মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
খেলা উপভোগ করতে বিকেল থেকেই মাঠে ভিড় করেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার হাজারো ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ছোট-বড়, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত হন।
আয়োজকরা জানান, ভূইতাইল সেতুবন্ধন প্রবাসী মানব কল্যাণ সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ক্রীড়া উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় আয়োজিত এই গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
তারা আরও জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়; বরং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
জনস্বাস্থ্যের লড়াইয়ে সাহসী কণ্ঠের অবসান
দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক আর নেই

কুমিল্লার দেবীদ্বারের কৃতিসন্তান, বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔষধ বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসা শেষে মেয়ের বাসায় অবস্থানকালে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান।
তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুন।
পারিবারিক ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন, ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ছিলেন। দেশের ঔষধ বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হাবিবুর রহমান পেশায় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে তাঁর পরিবার ঢাকার মিরপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর অধ্যাপক ফারুক সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন এবং ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ‘জাতীয় ঔষধনীতি ২০১৬’ প্রণয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সোচ্চার ছিলেন অধ্যাপক ফারুক। নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ নিশ্চিত করা, ভেজাল প্রতিরোধ এবং দেশের ঔষধশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার বাজারে পাওয়া বিভিন্ন পাস্তুরিত তরল দুধ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। গবেষণার ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন মহলের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তিনি নিজের গবেষণালব্ধ তথ্য ও বৈজ্ঞানিক অবস্থানে অটল ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা তাঁকে দেশের নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে পরিচিত করে তোলে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম এবং ঔষধের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়ে তিনি নিয়মিত কথা বলেছেন ও লেখালেখি করেছেন।
দেশের ঔষধ বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য আন্দোলনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক ফারুকের পারিবারিক অবস্থা এবং তাঁর মরদেহ দেশে আনা বা দাফনের সময় ও স্থান সম্পর্কে স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি।
জরুরি বিভাগের দরজায় বিতর্কিত নির্দেশনা
‘স্যার-ম্যাডাম’ না বললেই ভোগান্তি, মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ক্ষোভ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন না করলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের কীভাবে সম্বোধন করতে হবে, সে বিষয়ে শুধু মৌখিক সতর্কতা নয়, জরুরি বিভাগের সামনের দরজাতেও লিখিত নির্দেশনা টানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম-স্যার ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না।’
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় সামাজিক রীতি ও আঞ্চলিক ভাষায় তাঁরা নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষ চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে থাকেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু হাসপাতালে এসে ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে ডাকলে কেউ কেউ বিরক্ত হন এবং এতে চিকিৎসাসেবা নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, “আমরা গ্রামের মানুষ। নারীদের আপা আর পুরুষদের ভাই বলেই অভ্যস্ত। এখানে ডাক্তারদের ভাই বা আপা বললে তারা রেগে যান। এ কারণে অনেক সময় চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।”
হাসপাতালের কয়েকজন রোগীর স্বজনও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাঁদের মতে, রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট সম্বোধন ব্যবহারে বাধ্য করার পরিবর্তে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে জরুরি বিভাগের সামনে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন ব্যবহার না করার লিখিত নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রোগীরা চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ বলতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হবে।”
টিএইচওর এমন বক্তব্যের পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দুই দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন স্থানীয়রা
কায়কোবাদ এমপিকে প্রধান অতিথি করে চন্দনাইলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, উদ্বোধনে কে এম মুজিবুল হক

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চন্দনাইলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ডা. পি. কে সাহার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং ‘মুরাদনগর উপজেলা বিসিএস ক্যাডার অফিসার্স ফোরাম’-এর সার্বিক সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প-২০২৬ শুরু হয়েছে।
স্বর্গীয় রাজমোহন সাহা ও তাঁর সহধর্মিণী মাখন বালা সাহার পুণ্যস্মৃতি স্মরণে চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত ব্যানারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আলহাজ্ব কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) এমপির নাম উল্লেখ করা হলেও শারীরিক অসুস্থতা কিংবা অনিবার্য কারণে তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পের উদ্বোধন ও কর্মসূচির শুভসূচনা করেন টিএএস (TAS) এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক।
আয়োজকরা জানান, মুরাদনগরের দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কাছে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দিনব্যাপী ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পের প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, অ্যাডভোকেট সরকার নূরুল হক, ড. মো. হেলাল উদ্দিন (এনডিসি), ডা. আমির হোসেন, ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ খান এবং মো. শফিউর আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এমন আয়োজন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





























