শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

চিকিৎসার আড়ালে ব্যবসা? দেবীদ্বার সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
চিকিৎসার আড়ালে ব্যবসা? দেবীদ্বার সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর অভিযোগ

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন।
  • প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে সহস্রাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নেন।
  • তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ও কথিত ভেজাল ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ উঠেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে সহস্রাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নেন। তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ও কথিত ভেজাল ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০৩ নম্বর কক্ষে কর্মরত জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. গোলাম রাশেদের বিরুদ্ধে এক ষাটোর্ধ্ব নারীকে অনুমোদনহীন ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসা নেওয়ার পর স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে গেলে সেখানে কর্মরতরা জানান, প্রেসক্রিপশনে লেখা দুটি ঔষধ—Inj. Galphar-D3 (300000 IU) ও Cap. Glujoint—অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দেবীদ্বারের বেশ কিছু চিকিৎসক জড়িত। অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। সাম্প্রতিক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিষয়টির সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. গোলাম রাশেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযোগ ওঠার পর তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি স্বনামধন্য ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি (এসআর) বলেন, “কিছু অসাধু চিকিৎসক অবৈধ কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এসব ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লিখছেন। এতে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।”

অন্যদিকে, এক ফার্মেসি মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা এসব ঔষধ রাখতে না চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় মারধরের ভয়ও দেখানো হয়। অথচ একই ধরনের ভালো কোম্পানির ঔষধ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এসব নিম্নমানের ঔষধ ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।”

এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম বলেন, “উল্লিখিত ঔষধগুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলীনুর বশির বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নতুন শঙ্কা

বিশ্ব বাটপার ইউনূসের আমল থেকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ এএম
বিশ্ব বাটপার ইউনূসের আমল থেকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা, উদ্বেগ জাতিসংঘের

বিশ্ব বাটপার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলে আসা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে ঘিরে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সক্রিয় সেল বা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষক দল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের Analytical Support and Sanctions Monitoring Team-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত S/2026/651 নম্বরের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত আল-কায়েদা, আইএসআইএল ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও হুমকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AQIS একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। বড় সাংগঠনিক ইউনিটের পরিবর্তে ছোট, ছড়িয়ে থাকা ও বিকেন্দ্রীভূত সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার দিকে ঝুঁকছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিজেদের কার্যক্রম সচল রাখতে লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশকে ঘিরে বিশেষ উদ্বেগ

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল বলেছে, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে AQIS সক্রিয় সেল বা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন উদ্বেগ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নে বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই তথ্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—দেশ কি আবারও জঙ্গিবাদী তৎপরতার পুরোনো ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে? কেউ কেউ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কার জঙ্গি তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন।

বিশেষ করে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার রাজনৈতিক পরিবর্তন, বিভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই যে বিতর্ক ছিল, জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইউনূস সরকার বা কোনো কথিত গোপন চুক্তিকে AQIS-এর বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

দিল্লির লালকেল্লা হামলাতেও AQIS-এর নাম

প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে সংঘটিত হামলার প্রসঙ্গও এসেছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই হামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে AQIS-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দিল্লির ওই হামলার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড AQIS-এর সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছে। সংগঠনটি এখন বড় ইউনিটের বদলে ছোট ছোট সেল, আর্থিক চ্যানেল ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি হুমকি বাড়ার আশঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদা ও আইএসআইএল-এর হুমকির মাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল ও দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী হুমকি আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আল-কায়েদার ক্ষেত্রে বড় আকারের আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও অভিপ্রায় কতটা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং ছোট সেলভিত্তিক কার্যক্রমকে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইএসআইএল নিয়েও সতর্কবার্তা

শুধু আল-কায়েদা নয়, আইএসআইএল ও এর আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ছোট সেল, অনলাইন যোগাযোগ, উগ্রবাদী প্রচারণা এবং বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব সংগঠন তাদের কার্যক্রম ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা অর্জনে সংগঠনগুলো এখনও বিভিন্ন বাধার মুখে রয়েছে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

নতুন করে প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আসায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে AQIS যদি ছোট ছোট সেল ও বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে প্রচলিত বড় সংগঠনভিত্তিক নজরদারির পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগ, অর্থায়ন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফলে ইউনূসের আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—বাংলাদেশে AQIS-এর সম্ভাব্য সেল গঠনের চেষ্টা কতটা বাস্তব, এর পেছনে কারা রয়েছে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বাংলাদেশ অবশ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছে।

গ্যাস সংকটে যাত্রী হয়রানি

দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জরিমানা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে গ্যাস সংকটের অজুহাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং সড়কে ট্রাক পার্কিং করে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ১২টি মামলায় মোট ১৯ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় এসআই বাকেরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ও দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়কে গ্যাস সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সাত সিএনজিচালককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সাতটি মামলায় মোট ৬ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় আজকের অভিযান আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নাগরিকদের খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা, যানজটমুক্ত পরিবেশে চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভোগান্তি রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অশোক বিক্রম চাকমা
দেবীদ্বার, কুমিল্লা

এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের দায়ে দুই হোটেল মালিককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে একটি ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা এবং সড়কে ট্রাক পার্কিং করে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে এক ট্রাক্টর মালিককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অনিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় এ অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা, যানজটমুক্ত চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভোগান্তি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিচারের দাবিতে উত্তাল দেবীদ্বার

ফরিদা হত্যা: দেবীদ্বারে থানা ঘেরাও করে লাইলীসহ খুনিদের ফাঁসির দাবি

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম
ফরিদা হত্যা: দেবীদ্বারে থানা ঘেরাও করে লাইলীসহ খুনিদের ফাঁসির দাবি

ফরিদা হত্যা, কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অবশেষে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়রা। মিছিল থেকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লাইলী আক্তারসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ও পরে দেবীদ্বার থানার ভেতরেই উত্তাল স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।

সভায় বক্তারা বলেন, গহনা ও টাকার লোভে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তারের নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘুমন্ত একজন নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর মরদেহ দা দিয়ে কুপিয়ে অর্ধশতাধিক খণ্ডে বিভক্ত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লাইলী আক্তারসহ জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেক অপরাধী উপযুক্ত শাস্তি না পেয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, লাইলী আক্তার এর আগেও একটি শিশু হত্যা মামলায় আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর কয়েক বছরের মধ্যে জামিনে মুক্তি পান।

সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই। এমন সাজা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।
মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
স্বামী, নিহত ফরিদা ইয়াসমিন

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে সাত বছরের শিশু ফাহিমাকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে কয়েক বছরের মধ্যে আসামিরা জামিনে মুক্ত হন। বক্তাদের দাবি, ওই মামলায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হতো।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই। এমন সাজা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।”

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিহতের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির উদ্দিন, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে তাঁর মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

×
ENG