কুরআন-হাদীসের ব্যাখ্যা
ইসলামে শূকরের গোশত হারাম কেন

শূকরের গোশত হারাম কেন, কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামে শূকরের গোশত হারাম কেন—এই প্রশ্নটি অনেকের মনে আসে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে হালাল-হারামের বিধান সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত। সেই বিধান অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য শূকরের গোশত স্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে।
ইসলামে শূকরের গোশত হারাম কেন: কুরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে শূকরের গোশত হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সূরা আল-বাকারা (২:১৭৩), সূরা আল-মায়েদা (৫:৩), সূরা আল-আনআম (৬:১৪৫) এবং সূরা আন-নাহল (১৬:১১৫)-এ শূকরের গোশতকে ‘রিজস’ (অপবিত্র) বলা হয়েছে।
এ থেকেই স্পষ্ট, ইসলামে শূকরের গোশত হারাম কেন—তার প্রধান কারণ হলো আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ।
শরীয়তের মূলনীতি
ইসলামে মূলনীতি হলো—যা মানুষের জন্য উপকারী তা হালাল, আর যা ক্ষতিকর বা অপবিত্র তা হারাম। এই দৃষ্টিকোণ থেকেও শূকরের গোশতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে ইসলামী ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে।
অতএব, ইসলামে শূকরের গোশত হারাম কেন—এর উত্তর কেবল বৈজ্ঞানিক নয়, বরং ধর্মীয় বিধানের ওপরই নির্ভরশীল।
অন্যান্য ধর্মে শূকরের অবস্থান
শুধু ইসলাম নয়, খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলেও শূকরের গোশতকে অপবিত্র বলা হয়েছে এবং তা ভক্ষণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে (লেভিটিকাস ও ডিউটেরোনমি গ্রন্থে উল্লেখ আছে)।
এতে বোঝা যায়, বিভিন্ন ধর্মেই এই খাদ্য সম্পর্কে সতর্কতা রয়েছে।
স্বাস্থ্যগত ব্যাখ্যা
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, শূকরের গোশতে কিছু পরজীবী যেমন Taenia solium (টেপওয়ার্ম) ও Trichinella থাকার ঝুঁকি থাকতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত বা রান্না না করা হয়।
এছাড়া শূকরের মাংসে তুলনামূলক বেশি চর্বি ও কোলেস্টেরল থাকায় অতিরিক্ত গ্রহণ হৃদরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে উল্লেখ্য, আধুনিক প্রযুক্তিতে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই ইসলামে শূকরের গোশত হারাম হওয়ার মূল কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশ।
উপসংহার
ইসলামে শূকরের গোশত হারাম কেন—এর সরল উত্তর হলো, এটি কুরআনে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অনলাইন জরিপে আপনার ভোট দিন
ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বেরুয়াইল গ্রামে একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনিক মিয়া ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পুলিশ বাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন অনিক মিয়া। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের মৎস্য খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে গরুর জন্য কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খামারের পানিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তাড়াইলে ব্যতিক্রমী চিত্র
তাড়াইলে দুই এইচএসসি কেন্দ্রে মাত্র ২ পরীক্ষার্থী, দায়িত্বে ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দুই এইচএসসি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র দুইজন পরীক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এতে দুটি কেন্দ্রেই দেখা যায় ব্যতিক্রমী চিত্র।
তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০৫ জন। কিন্তু এদিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন কেবল একজন পরীক্ষার্থী। তিনি হাজী মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলগঞ্জের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের মহিনন্দ এলাকায়।
এই কেন্দ্রে হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনেয়ার হোসেন। এছাড়া ছিলেন দুইজন সহকারী হল সুপার, দুইজন কক্ষ পরিদর্শক, পাঁচজন সহায়ক কর্মচারী, তিনজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার এবং ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
অন্যদিকে তাড়াইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দামসুর এলাকার বাসিন্দা প্রিয় রঞ্জন বর্মন। এ কেন্দ্রেও একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষার্থী সংখ্যা কম হলেও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, সহযোগীর বুকে বিদ্ধ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টু (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হকার্স মার্কেটের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয় থেকে বের হয়ে মূল গলির ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এ সময় ইয়াছিন সেন্টু আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে একটি গুলি কাশেমের হাত ছুঁয়ে গিয়ে সেন্টুর বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুর বুকে লাগে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

























