দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি
গাইবান্ধায় ঘুষ দাবি করতে গিয়ে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা আটক

গাইবান্ধার জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে ঘুষ দাবি করার সময় জাফরুল্লাহ নামের এক ভুয়া দুদক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসের অডিটর কে এম মোস্তফা হাবিব রতন জানান, জাফরুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অডিটর কৌশিকুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। বিভিন্ন অনিয়মের ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ঘুষ দাবি করেন তিনি।
তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে অফিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। পরে তার পরিচয় ভুয়া বলে নিশ্চিত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকটি ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খন্দকার মাহাতাব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় অফিসের অডিটর কৌশিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রংপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ফেরদাউস বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্যা আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মামলা
প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে নন্দীগ্রামে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট বাকি বিল্লাহ (৫১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
- বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট গ্রেপ্তার।
- অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
- চিকিৎসা পরীক্ষায় ভুক্তভোগী প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
- আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ অভিযান চালায়।
- গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের গছাইল গ্রামের বাসিন্দা বাকি বিল্লাহ স্থানীয় গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থল ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে একা থাকা ২৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে নিজ কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
গত ৬ জুন একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে চিকিৎসক জানান, ওই তরুণী প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে নন্দীগ্রাম থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাকি বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
ঘটনার পর একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
মুরাদনগরে ১ হাজার কোটি টাকার মামলায় সাংবাদিক আরিফ গ্রেপ্তার: ২৪ ঘণ্টাতেও আদালতে না তোলায় বিতর্ক

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১ হাজার কোটি টাকার মামলায় সাংবাদিক আরিফের গ্রেপ্তার নিয়ে চলছে নাটকিয়তা।বিএনপি নেতার দায়ের করা এক মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও আদালতে উপস্থাপন না করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তাকে অযথা থানায় আটকে রেখে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদের হাইলাইট
- গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ।
- ধর্ষণ মামলার সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার দায়ের করা ১ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।
- আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে সাংবাদিকদের একাধিক ফোনকলের জবাব দেননি বলে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ।
- ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা।
- স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, বুধবার বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মুরাদনগর থানা পুলিশ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর দাবি করে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত সমন জারি করার পর পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
মামলায় বাদীর দাবি, ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলী বিএনপির কেউ নন; তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। সংবাদে তাকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করায় দল এবং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে গ্রেপ্তারের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন না করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিলম্বের মাধ্যমে সাংবাদিককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তারের পর মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি যে একজন সাংবাদিক, সেটি আগে তাদের জানা ছিল না। তবে পরদিন আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওসি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার উচিত গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া। এ বিষয়ে নীরবতা জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, একজন উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়েরের ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দাবির যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঝালকাঠিতে জাতীয় কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী উদযাপন, ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী

আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নজরুলকে শ্রদ্ধায় আয়োজন
ঝালকাঠিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঝালকাঠিতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস. এম. বায়জীদ ইবনে আকবর, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবতার আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও চেতনা আজও সমাজে ন্যায়বিচার, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা জোগায়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাতীয় কবির স্মরণে তাঁর লেখা গান ও কবিতা পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।



















