সহমর্মিতা বনাম প্রতিহিংসার রাজনীতি
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বারবার আলোচনায়
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আততায়ীদের হাতে নিহত হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সিলেটে সাংগঠনিক সফরে ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং জিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন। এমনকি বিএনপির আনুষ্ঠানিক অবস্থানের আগেই আওয়ামী লীগ জিয়া হত্যার বিচারের দাবি তোলে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে তার কার্যালয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আগাম যোগাযোগের পরও সেখানে পৌঁছালে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ফিরে যান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচিত হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে শোক জানান। এছাড়া তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ, সংঘাত ও তিক্ততা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের কিছু উদাহরণও সামনে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড দেশের রাজনীতিকে বহুবার উত্তপ্ত করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সহনশীলতা ও সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরা জরুরি।
















