বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঈদের আনন্দে শোকের মাতম

গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
গলায় মাংস আটকে মৃত্যু

গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ঈদের খাবারেই ঝরল দুই শিশুর প্রাণ, গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে মর্মান্তিক মৃত্যু পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও জামালপুরে।
  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসাথে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী।
  • পৃথক দুই ঘটনায় মারা যাওয়া শিশুদের একজন মাদ্রাসাছাত্রী এবং অপরজন স্কুলশিক্ষার্থী।

ঈদের খাবারেই ঝরল দুই শিশুর প্রাণ, গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে মর্মান্তিক মৃত্যু

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও জামালপুরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসাথে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। পৃথক দুই ঘটনায় মারা যাওয়া শিশুদের একজন মাদ্রাসাছাত্রী এবং অপরজন স্কুলশিক্ষার্থী। ঈদের উৎসবের মধ্যেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় দুই জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে খাবার খাওয়ার সময় গলায় মাংস আটকে মারা যায় আখিতারা খাতুন ওরফে আঁখি (১১) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী।

নিহত আঁখি স্থানীয় ডিএস দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে লোকনাথপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ হকের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তান হওয়ায় তার মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে আঁখির গলায় মাংসের টুকরো আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সে শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার সময় শিশুটি আর জীবিত ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আঁখি অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। ঈদের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

এক প্রতিবেশী বলেন, “সকালেও মেয়েটাকে হাসিখুশি দেখেছি। দুপুরের মধ্যেই এমন খবর শুনতে হবে ভাবতেই পারিনি। পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে একই দিনে প্রায় একই ধরনের আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে মারা যায় মো. ইয়াসিন (১৪) নামে এক কিশোর।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার পোড়ারচর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন ওই এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বটচর নিম্নমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের দুপুরে সবাই একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ ইয়াসিনের গলায় মাংস আটকে যায়। এতে সে শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে শুরু করে। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ইয়াসিনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। বড় মাংসের টুকরো বা শক্ত খাবার শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়েও সচেতনতা জরুরি।

দুই জেলায় একই দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঈদের আনন্দের সময় অসাবধানতাবশত এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। শিশুদের খাবার পরিবেশন ও খাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এদিকে দুই পরিবারের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ঈদের আনন্দের দিনে দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসাবধানতাই কেড়ে নিতে পারে একটি তাজা প্রাণ।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

অস্ত্রের মুখে এক লাখ টাকা দাবি

নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে তুলে নিয়ে গুলি, টাকা-মোবাইল ছিনতাই

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে তুলে নিয়ে গুলি, টাকা-মোবাইল ছিনতাই

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়েছেন রাব্বি হোসেন রাকিব (২২)।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বর্দি গ্রামের চুল্লার বাড়ির পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত রাকিব আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সোনাইমুড়ী গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।

ভুক্তভোগী রাকিবের অভিযোগ, রাতে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে বাজার করে স্থানীয় হায়দার বাড়ির দরজায় ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পথে আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংলগ্ন এলাকায় একদল অস্ত্রধারী তার অটোরিকশার গতিরোধ করে।

পরে অস্ত্রের মুখে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে চুল্লার বাড়ির পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আলমগীর (৩০), রাজন (২৮), রিপন (২১) ও আলম (২৮) নামে চারজন তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রাকিব।

তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তার ডান পায়ের হাঁটুর পাশে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে পাশের একটি ডোবায় লাফ দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান রাকিব। পরে তিনি চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।

এক ব্যক্তির শরীরে ২.২ বোরের ছোট একটি গুলি লাগার খবর পেয়েছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. হাবীবুর রহমান
পরিদর্শক (তদন্ত), বেগমগঞ্জ থানা, নোয়াখালী

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, এক ব্যক্তির শরীরে ২.২ বোরের ছোট একটি গুলি লাগার খবর তারা পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার

দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে লাইলী কারাগারে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে লাইলী কারাগারে

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার লাইলী আক্তারকে (৩৭) তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিনের বাসা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার পর মরদেহটি ৫০টিরও বেশি খণ্ডে বিভক্ত করে ১৪টি পলিথিনের ব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মাথা ও পা-সহ মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গত সোমবার ও মঙ্গলবার (১০ ও ১১ আগস্ট) পৃথক অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, মরদেহ কাটার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি, নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে লাইলী আক্তার একাধিক ব্যক্তির নাম বলেছিলেন। তবে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে একজন প্রবাসে রয়েছেন, আরেকজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, নিজের দায় কমানোর কৌশল হিসেবেই লাইলী অন্যদের নাম বলে থাকতে পারেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন লাইলী। ফরিদা ইয়াসমিন ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে দা ও কাঠের গুঁড়ি ব্যবহার করে খণ্ডিত করা হয়। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো পলিথিনের ব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের পর সকালে লাইলীকে স্বাভাবিকভাবে একটি ব্যাগ হাতে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যাগে থাকা মরদেহের একটি অংশ বাসার অদূরে ফেলে যাওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের উদ্দেশ্যেই লাইলী হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অন্য কেউ জড়িত থাকলে আলমারিতে থাকা প্রায় ৭ লাখ টাকা ও ১০ ভরির বেশি স্বর্ণ ফেলে যাওয়ার কথা নয়। একইভাবে মরদেহের খণ্ডিত অংশ সরাতেও সহযোগিতার প্রয়োজন হতো। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া আলামত ও লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের লোভেই লাইলী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে আলমারিতে থাকা ৭ লাখ টাকা ও ১০ ভরিরও বেশি সোনা ফেলে যেত না। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া আলামত ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাই পুরো ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা, কুমিল্লা

তদন্তে আরও জানা গেছে, লাইলী আক্তার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২১ সালে পরকীয়া-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি শিশু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান লাইলী। ওই মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট রাতে দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাসা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের পর ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।

মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে প্রযুক্তির ব্যবহার

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ৩২১ কোটি টাকার ট্যাব কিনছে সরকার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ৩২১ কোটি টাকার ট্যাব কিনছে সরকার

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ব্যবস্থাপনার জন্য ৩২০ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাব সরবরাহ করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব ব্যবহার করা হবে। এ জন্য ৩২০ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ সরকার

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইমপ্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ প্রকল্পের আওতায় এসব ট্যাব কেনা হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় ট্যাবগুলো ব্যবহার করা হবে।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার হবে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব

ক্রয় প্রস্তাবে ট্যাব সরবরাহের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডকে। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা, বন্দরে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয়

একই বৈঠকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের বিদ্যমান মডুলার ডেটা সেন্টার, লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান), নেটওয়ার্ক অবকাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো স্থানান্তর, পুনঃস্থাপন, কমিশনিং এবং সেবা সচল রাখার কাজের জন্য অতিরিক্ত সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্যাকেজ-৬ (লট-১)-এর আওতায় এ কাজ করা হবে। কাজটির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেডকে।

এ কাজের মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৮ কোটি ৬৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৮ টাকার ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ৫৮৮ টাকা।

তিন জেলার সংযোগ সড়কের পুনঃদরপত্র অনুমোদন

এদিকে বৈঠকে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজে পুনঃদরপত্র আহ্বানের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে কুমিল্লা সড়ক জোনের অধীন ফেনী সড়ক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০৬ এবং দরপত্র প্যাকেজ নম্বর এডিপি/এনএসইজেড/ওএসটিইটিএম/এফআরডি/ডব্লিউপি-০৬/২০২৫-২০২৬-এর আওতায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ দরপত্রের আইডি ১২৪৫৬৬৮।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটির সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।

×
ENG