মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

দুই দিনে দুই হামলা

মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তাক্ত তাণ্ডব: দুই দিনে দফায় দফায় হামলা, আহত ২০, থানায় পৃথক ২ অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
দফায় দফায় হামলা

মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তাক্ত তাণ্ডব: দুই দিনে দফায় দফায় হামলার চিত্র। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে দুই দিনে দফায় দফায় সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
  • আহতদের মধ্যে এক পক্ষের ৯ জন ও প্রতিপক্ষের ২ জনসহ মোট ১১ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
  • হামলার ঘটনায় একই আসামিদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে দুই দিনে দফায় দফায় সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক পক্ষের ৯ জন ও প্রতিপক্ষের ২ জনসহ মোট ১১ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনায় একই আসামিদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও দাঙ্গাবাজ চক্র হিসেবে পরিচিত। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না। সর্বশেষ এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কাজিয়াতল গ্রামের চাঁনগাজী মুন্সী বাড়িতে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে সাইদুল (২০) বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে মেকানিক শহিদ মুন্সীর বাড়ির সীমানা বেড়ার ওপর উঠিয়ে দিলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সাইদুল ও তার সহযোগীরা লোহার রড, লাঠি, বাঁশ এবং ধারালো দা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে শহিদ মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শহিদ মুন্সী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মুরাদনগর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কিন্তু প্রথম দিনের রক্তাক্ত হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন ২৯ মে শুক্রবার আবারও একই পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে কাজিয়াতল বাজার এলাকায় একা পেয়ে মোবারক হোসেনকে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তার কাকা রাজীব মুন্সীকে একা পেয়ে নাক, মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। হামলার সময় তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এই দ্বিতীয় হামলার ঘটনায় মৃত জলিল মুন্সীর ছেলে মোবারক মুন্সী বাদী হয়ে একই আসামিদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় আরও একটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

দুইটি অভিযোগে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— মো. সায়মন (২০), পিতা রবিউল; মো. সুজন (২০), পিতা মোকবল হোসেন; মো. সাইদুল (২০), পিতা দুলাল মিয়া; আনোয়ার হোসেন (৩০); দেলোয়ার হোসেন (৩৫); সাইদুল ইসলাম (২৪); মো. জহির (২৮), পিতা রবিউল; মো. সেলিম (৩৫), পিতা মোকবল হোসেন; মো. শফিক (৪০), পিতা আব্দুল খালেক এবং রাসেল মিয়া (২৭), পিতা ফজলু মিয়া। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের দফায় দফায় সংঘটিত হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর জখম হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের ৯ জন এবং প্রতিপক্ষের একই পরিবারের ২ জন সদস্য রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। হামলার শিকার পরিবারটির সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে শনিবার (৩০ মে) সকালে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একই আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের একটি অংশ এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। তারা প্রায়ই বিভিন্ন সংঘর্ষ, হামলা ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG