ক্ষুব্ধ সুবিধাভোগীদের দীর্ঘশ্বাস
নওগাঁয় কুরবানির মাংস বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ২ কেজির বদলে মিলল ১ কেজি!

নওগাঁয় কুরবানির মাংস বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ২ কেজির বদলে মিলল ১ কেজি! ছবি : আজকের কথা
নওগাঁয় কুরবানির মাংস বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত ওজন না পেয়ে ক্ষুব্ধ উপকারভোগীরা
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামিক রিলিফ ইউএসএ’র অর্থায়নে নওগাঁ জেলার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ২ কেজির পরিবর্তে কম মাংস দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক উপকারভোগী। একই সঙ্গে গরু ক্রয়, মাংস সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ইসলামিক রিলিফ ইউএসএ’র অর্থায়নে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সোশ্যাল এইড’-এর বাস্তবায়নে নওগাঁ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ২৬টি কুরবানির গরু জবাই করা হয়। এসব গরুর মাংস নওগাঁ সদর, রানীনগর, মান্দা, মহাদেবপুর ও পত্নীতলা উপজেলার ২ হাজার ৮০ জন দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। প্রতিটি পরিবারকে ২ কেজি করে মাংস দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় আগে থেকেই সুবিধাভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়। ঈদের দিন থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত (২৮ থেকে ৩০ মে) বিভিন্ন কেন্দ্রে মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে মাংস সংগ্রহ করতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম মাংস পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের মাতাসাগর গ্রামের বাসিন্দা বুলবুলি বেগম বলেন, “আমাকে ২ কেজি মাংস দেওয়ার কথা বলে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। ৫০ টাকা ভাড়া খরচ করে উপজেলা সদরে এসেছি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর একটি প্যাকেট দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, আমার ভাগে ১ কেজি মাংস রয়েছে। বাধ্য হয়ে সেটাই নিয়ে ফিরেছি।”
রানীনগর উপজেলার গোনা গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান, “চারটি কার্ড নিয়ে মাংস নিতে এসেছিলাম। যাতায়াতেই প্রায় ১৭০ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ওজন করে দেখি একটিতে ১ কেজি ৭০০ গ্রাম, আরেকটিতে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম মাংস রয়েছে। বাকি দুই কার্ডের বিপরীতে মাংস দিতে অনুরোধ করলেও তারা দেয়নি।”
একই উপজেলার বরবরিয়া গ্রামের নাছিমা খাতুন বলেন, “প্রথমবার এ ধরনের সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু ২ কেজির পরিবর্তে আমার প্যাকেটে ছিল মাত্র ১ কেজি ৪০০ গ্রাম মাংস।”
মাংস ওজনের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী মর্জিনা বেগম বলেন, অধিকাংশ প্যাকেটে ১ কেজি ৮০০ থেকে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস ছিল। বড় আকারের মাংসের টুকরার কারণে কিছু ক্ষেত্রে ওজনের তারতম্য হতে পারে। তবে মাত্র ১ কেজি মাংস দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী ও বেসরকারি সংস্থা ‘রানি’র প্রধান নির্বাহী ফজলুল হক খান বলেন, “২৬টি গরুর মাংস জেলার পাঁচটি উপজেলার উপকারভোগীদের মধ্যে জনপ্রতি ২ কেজি হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও সামান্য কম-বেশি হতে পারে, তবে ৫০০ গ্রাম বা ১ কেজি কম দেওয়ার সুযোগ নেই।” তবে প্রকল্পের মোট বাজেট বা বরাদ্দের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি উদ্যোগ নয়, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত একটি মানবিক কর্মসূচি। তাই এখানে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। গরু ক্রয় থেকে শুরু করে মাংস বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা উচিত।”
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাংস বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন নিতে এলে বিষয়টি জানানো হবে এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, উপকারভোগীদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে গরু ক্রয়, মাংস সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন তারা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
হত্যা মামলার আসামি ফাহাদ, দুই সপ্তাহ আগেও ছিল অপ্রতিমের বাবার কর্মচারী

“আইফোন ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগ, আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তি”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করতেন। চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে তাকে ওই কাজে নেওয়া হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের আগে তার সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি।
অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে তার মোবাইল সরঞ্জামাদির শোরুম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইয়েসটেক’। ফাহাদ অপ্রতিমদের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা অটোচালক।
ফাহাদের বাবা-মায়ের অনুরোধেই তাকে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার। মাস শেষে তার সঙ্গে চুক্তিপত্র করার পরিকল্পনাও ছিল। অপ্রতিমের সঙ্গে ফাহাদের তেমন কোনো ঘনিষ্ঠতা বা বিরোধ ছিল না বলেও জানান তিনি।
অপ্রতিমের বাবা বলেন, অপ্রতিমও ফাহাদকে খারাপ মনে করত না। কয়েক দিনের কর্মজীবনে তাদের মধ্যে কোনো খারাপ সম্পর্কের তথ্যও তিনি পাননি।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। পুলিশের দাবি, সেখানে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়।
তবে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি আরও একটি বিরোধের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ফাহাদ অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অপ্রতিম ওই টাকা ফেরত চাইছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফাহাদ অপ্রতিমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারে, এমন তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে অপ্রতিম আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়। এর আগে জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে বাবার সঙ্গে খাবার খায়। পরে তুহিন মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে নেয় বলে জানান তার বাবা।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা ফাহাদকে ফোন করে ডেকে আনেন। অপ্রতিম কোথায় গেছে, তা খুঁজে বের করার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। ফাহাদ তখন তাদের ইন্টারনেট গ্রুপে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানায়।
এর মধ্যে পরিবারের হাতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ আসে। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে দেখিয়ে দেওয়া হলে ফাহাদ তাকে চিনতে পারেন। পরে ফাহাদকে তুহিনকে ফোন করে অপ্রতিমকে দেখেছে কি না জানতে বলা হয়। রাত ১০টার দিকে ফোনে তুহিন অপ্রতিম তার কাছে আসেনি বলে জানায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যেই অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
পরদিন শনিবার সকালে তুহিন ও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিয়াম মোটরসাইকেলে করে অপ্রতিমদের বাসায় আসে। তারা অপ্রতিমের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং সান্ত্বনাও দেয়। পুলিশের ধারণা, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়।
অপ্রতিমের বাবা জানান, শনিবার সকালে তুহিন স্বাভাবিক আচরণ করলেও বিভিন্ন প্রশ্নের সময় তার সঙ্গে থাকা সিয়াম কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল।
শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর ফাহাদকে পরিবারের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। তখন সে শরীর খারাপ লাগছে জানিয়ে চলে যায়।
অপ্রতিমের বাবা আরও জানান, কামরুলকে তিনি আগে চিনতেন না এবং হত্যাকাণ্ডের আগে কখনো দেখেননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কামরুল তুহিনের বন্ধু এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তুহিন তাকে ফাহাদের মতোই সঙ্গে নিয়েছিল।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, মো. কামরুল হাসান এবং সিয়াম (১৯)। সিয়ামকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও ২০২৫ সালে অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কামরুল কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া-কালিবাজার এলাকার বাসিন্দা। আর সিয়াম সদর দক্ষিণ উপজেলার এলাহীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং কুমিল্লার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।
মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যাওয়ায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে আটক করা হয়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার আইফোন নিয়ে তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রহ্মণপাড়ায় ছিনতাই-চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা জনতার হাতে আটক

“৩ লাখ টাকা ছিনতাই, আরও ২ লাখ চাঁদা দাবির অভিযোগ; ভিডিও ভাইরাল”
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৩ লাখ টাকা ছিনতাই এবং আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটক দুজন হলেন নাগাইশ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি গাজী নাঈম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. শাকিল সরকার। তাদের আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজী নাঈম ও শাকিল সরকার ৩ লাখ টাকা ছিনতাই এবং আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, “৩ লাখ টাকা ছিনতাই এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এর জন্য আমরা এই দুজনকে আটক করেছি। তারা ছাত্রদলের নেতা।”
অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফয়সাল আহমেদ আখন্দ বলেন, বিষয়টি কয়েকজন তাকে জানিয়েছেন এবং তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমন কোনো অভিযোগ পাই নাই। তবে তাদের মধ্যে ফেসবুকে একটা ভিডিও আমি দেখতে পেয়েছি। এখনো আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসে নাই।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জুবায়ের আলম জিলানী বলেন, বিষয়টি রাতে উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা তাকে জানিয়েছেন। সাংগঠনিক নিয়মবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাগাইশ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি গাজী নাঈম ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. শাকিল সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তিনি দেখেছেন।
হামলায় গুরুতর আহত ভাবি
মাকে কুপিয়ে, ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা : দেবীদ্বারে যুবক আটক

দেবীদ্বারে যুবকের দা’র কোপে মা-ভাতিজি নিহত, আটক ঘাতক
হামলায় গুরুতর আহত ভাবি
কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক যুবকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় তার মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজি নিহত হয়েছেন। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই যুবকের ভাবি। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
নিহতরা হলেন—অভিযুক্ত ইমনের মা পেয়ারা বেগম এবং তার আট মাস বয়সী ভাতিজি। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইমন (২৪) হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দা দিয়ে তার মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর আট মাস বয়সী ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় রাবেয়া বেগম বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। একই সময় অভিযুক্ত ইমনকে আটক করে পাশের একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন তারা। ইমন ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

























