রপ্তানি খাতে বাড়ছে শঙ্কা
বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানিতে নতুন শঙ্কা, অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে প্রস্তাবিত শুল্ক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া তালিকাভুক্ত আরও ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জনমত গ্রহণ ও শুনানির পর যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। এছাড়া বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় বা অব্যাহতির সুযোগ রাখা হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিতে হবে।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ
হাজারো নেতাকর্মীর শক্তি প্রদর্শন, নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলে পিছু হটল পুলিশ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বিপুলসংখ্যক মিছিলকারীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরে যান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ, জনসমাগমে নিয়ন্ত্রণ হারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক বাঁধের হাট বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে পুলিশ মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, “দেশে অন্যায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে, মিছিলকারীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রথমে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ওসি বলেন, “পুলিশের ছয় সদস্যের একটি টিম সেখানে ছিল। কিন্তু মিছিলকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
প্রবাসে সফল বগুড়ার সুন্দরী আতিয়া
শুধু রূপেই নয়, কর্মগুণেও প্রবাসে উজ্জ্বল বগুড়ার সুন্দরী আতিয়া
“নীল শাড়ির জমকালো সাজে অপরূপা আতিয়া ইসলাম; যিনি নিজ কর্মগুণে আজ সুদূর আমেরিকায় সুপ্রতিষ্ঠিত।”
চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত্যু
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল চৌদ্দগ্রামের যুবকের
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতি গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত নূরুল আমিন সোহাগ (৪০) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস সোবহানের ছেলে। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।
চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, দগ্ধ বোন-ভগ্নিপতি হাসপাতালে
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যান সোহাগ। সেখানে মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত একটি পাঁচতলা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন তারা।
বুধবার (৩ জুন) সকালে হোটেলটিতে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান নূরুল আমিন সোহাগ।
অগ্নিকাণ্ডে তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহতের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, “চিকিৎসার আশায় ভারতে গিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু সেখানে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ রাখছেন।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “নিহতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে।”


















