বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

জিরো লাইনে মানবেতর জীবন

পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি, পঞ্চগড় সীমান্তের জিরো লাইনে দুই দিন ধরে মানবেতর জীবন ১০ জনের

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইন

পতাকা বৈঠকেও সমাধান হয়নি, পঞ্চগড় সীমান্তের জিরো লাইনে দুই দিন ধরে মানবেতর জীবন ১০ জনের। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের ঘটনায় টানা দুই দফা পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নারী ও শিশুসহ ১০ বাংলাদেশি।
  • প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় কাদা-পানির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
  • জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের ঘটনায় টানা দুই দফা পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো জিরো লাইনে মানবেতর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নারী ও শিশুসহ ১০ বাংলাদেশি। প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় কাদা-পানির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভারতীয় অংশের জিরো লাইনে আটকা পড়ে।

পুশইনের শিকারদের মধ্যে রয়েছেন তিন শিশু ও দুই নারী। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দিনের তীব্র রোদ এবং রাতের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছাড়াই কাদা-পানির মধ্যে তাদের রাত কাটাতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য কোনো পক্ষ থেকেই খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। সঙ্গে থাকা সামান্য খাদ্য দিয়ে কোনোমতে জীবনধারণ করছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতে চাইলেও বিজিবির নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। শিশু ও নারীরা খোলা মাঠে জমে থাকা কাদা মিশ্রিত পানি পান করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঠাকুরগাঁও সেক্টরের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম। পরিস্থিতি নিরসনে শনিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আবারও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে বিএসএফের সঙ্গে পুনরায় বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ দাবি করেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের ফেরত নেওয়া হবে না। তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের হস্তান্তর করতে হবে। রাতের অন্ধকারে এভাবে পুশইন করলে আমরা তাদের গ্রহণ করব না।”

তিনি আরও বলেন, “নারী ও শিশুসহ এসব মানুষ বৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে খোলা মাঠে অবস্থান করছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাদের জানিয়েছে।”

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মুরাদনগরে ডেঙ্গুর ভয়াল ছোবল: ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর মৃত্যু, বাঁচল না অনাগত সন্তান

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
মুরাদনগরে ডেঙ্গুর ভয়াল ছোবল: ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর মৃত্যু, বাঁচল না অনাগত সন্তান

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী নূর জাহানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া; পৃথিবীর আলো দেখার আগেই চলে গেল অনাগত সন্তানও

ডেঙ্গুর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মর্মান্তিক এ ঘটনায় তার অনাগত সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর জাহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূর জাহানের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকায়। তার স্বামী জোবায়ের হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। আগামী মাসেই তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল।

স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার মুরাদনগরের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন নূর জাহান। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নূর জাহানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, পরিচিতজন ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে আরও গভীর শোক।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, নূর জাহান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬১তম আবর্তনের একজন মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, নূর জাহান অত্যন্ত আন্তরিক ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

নূর জাহানের মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মুরাদনগরে জমির বিরোধে রক্তের হোলি : ফুফু-ভাতিজা খুন, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ এএম
মুরাদনগরে জমির বিরোধে রক্তের হোলি : ফুফু-ভাতিজা খুন, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা

মুরাদনগরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ; ট্রেন থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পালিত কন্যাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া, তার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি।

জমির বিরোধে জোড়া খুন: ফুফু-ভাতিজার প্রাণ গেল, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা
জমির বিরোধে জোড়া খুন: ফুফু-ভাতিজার প্রাণ গেল, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল নিহত খালেদা আক্তার ও তার স্বজনদের সঙ্গে আবু মিয়ার। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর নিহতদের স্বজনের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার পর মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে হনুফা বেগম ও তার পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং হত্যার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিস্তারিত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
মহেশখালীর নাগরিক হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন? রোহিঙ্গা কাণ্ডে নতুন নাটক

মহেশখালীর বাসিন্দা হলে দেবীদ্বারে জন্মসনদ কেন?

তিন ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তারা কক্সবাজারের মহেশখালী ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের এ দাবি সত্য হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কক্সবাজারের বাসিন্দা হয়েও তাদের কেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে হলো?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তারা যদি সত্যিই কক্সবাজারের স্থায়ী ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়া হয়নি কেন? তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখন যারা স্বাক্ষ্য বা প্রত্যয়ন দিচ্ছেন, সেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কি আগে তাদের নাগরিকত্ব ও জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে পারতেন না?

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—দেবীদ্বারে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কীভাবে এবং কার মাধ্যমে? যদি প্রক্রিয়াটিতে নিয়মবহির্ভূত কোনো সুপারিশ, প্রত্যয়ন, তথ্য সরবরাহ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে শুধু জন্মনিবন্ধনকারী কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করলেই কি তদন্ত সম্পূর্ণ হবে? প্রত্যয়নদাতা, সুপারিশকারী এবং জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও কি খতিয়ে দেখা হবে না?

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত প্রকৃত পরিচয়

ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এ ধরনের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। তাই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।

তারা বাংলাদেশি নাগরিক হলে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসনের নথি, ভোটার তালিকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পারিবারিক রেকর্ড ও পূর্ববর্তী নাগরিক সনদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে ঠিক কোন কাগজপত্র ও কার প্রত্যয়ন বা সুপারিশের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, যদি তদন্তে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেই তথ্যও প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কারণ এখানে শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়—জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নকারীদের দায়ও সামনে আসার প্রশ্ন রয়েছে।

সুতরাং মূল প্রশ্ন একটাই—তারা যদি মহেশখালীর বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকই হন, তাহলে দেবীদ্বারে এসে জন্মনিবন্ধন নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? আর যদি প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কার স্বার্থ কাজ করেছে—তারও নিরপেক্ষ তদন্ত কি হবে?

×
ENG