বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

তারকাদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

শাকিব-বুবলি-অপু প্রসঙ্গে অনসূয়া যূথিকার মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

আজকের কথা বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ এএম
অনসূয়া যূথিকা

ফেসবুক পোস্টে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করেছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অনসূয়া যূথিকা। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান, অভিনেত্রী শবনম বুবলি ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক লেখক অনসূয়া যূথিকা।
  • সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
  • পোস্টটিতে বিশেষভাবে শাকিব খান, শবনম বুবলি এবং অপু বিশ্বাসের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান, অভিনেত্রী শবনম বুবলি ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক লেখক অনসূয়া যূথিকা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পোস্টটিতে বিশেষভাবে শাকিব খান, শবনম বুবলি এবং অপু বিশ্বাসের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পর্ক, বিয়ে ও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট ভাইরাল

পোস্টে অনসূয়া যূথিকা দাবি করেন, বাংলাদেশের বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক বিষয়গুলো প্রায়ই জনআলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। তিনি শবনম বুবলির মাতৃত্ব, অপু বিশ্বাসের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং শাকিব খানের একাধিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে তিনি শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের বিষয়ে নিজের মূল্যায়নও প্রকাশ করেন। তার ভাষ্যে, অভিনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো বারবার আলোচনায় আসার পেছনে তারকা খ্যাতি ও জনপ্রিয়তারও ভূমিকা রয়েছে।

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অনসূয়া যূথিকার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার অনেকে এটিকে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেছেন।

অনসূয়া যূথিকার হুবহু ফেসবুক পোস্টটি হলো-

বিখাউজ টাইপের কিছু নারী আছে যাদের বিয়াইত্তা ব্যাডাই ভাল্লাগে৷ বাচ্চার বাপ হলে আরো ভালো, তারেই যেকোনো ভাবে বশ করতেই হবে৷ গ্রাম দেশে কাঁচা বাংলায় বলে কিছু মেয়ের *দার *লে ছেমা পালে, মানে হলো পিউবিক হেয়ারে তাদের উকুন থাকে। আরেক নারীর স্বামী সংসার তার দখলে নিতে হবেই। পারলে ওই নারীর বিয়ের শাড়ি গহনা পরেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসে যাবেন৷

আমাদের নাইকা বুবুলিকে আমার সেরকম লাগে। তার অভিনয় ক্ষমতার জোর সারাটা বছর জুড়ে মিডিয়ার কল্যাণে সবারই জানতে হয়। স্ত্রী হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতির তোয়াক্কা না করেই দুইটা বাচ্চার জন্ম তিনি দিয়ে ফেলেছেন৷ তো তার স্বামী নামক পুরুষটি প্রকাশ্যেই বলছেন বুবলি তার প্রাক্তন, বর্তমান নন,হাহহহহ!!

আর আমাদের অপু রানী, তিনিও কিছু কম না মশকরা করার ক্ষেত্রে। সিনেমার পর্দার তার অভিনয় ক্ষমতার দাপট তো দেখা গেলো না এবার তিনি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শাকিব খানের বাহুলগ্না হলেন। যেকোনো প্রকারে গোপনে হলেও বিয়ে সারলেন!! যে পুরুষ কোনো নারীকে গোপনে বিয়ে করে তার মানসিকতা না বোঝার মতো বোকা অপু বিশ্বাস নন মোটেই। আবার তিনি নিজেই বলেছেন, একাধিক ভ্রুণ তিনি নস্ট করেছেন তার প্রাক্তন স্বামীর কথা মেনে!!

শরীর আপনার কিন্তু ভ্রুণ হত্যায় দায় হলো আরেকজনের??? অপু, বহু ছলেবলে নিজের পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তো সেটা তো তিনি আগেও করতে পারতেন! তার তো আসল উদ্দেশ্য ছিলো শাকিব খানের সন্তান জগতে আনতে পারলে তার জীবনের একটা গতি হয়, এর জন্য পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করতেও তার আটকায় নাই। অপু বিশ্বাস অভিনয়ে পারদর্শী বটে তবে সেটা সিনেমার পর্দায় না, বাস্তবে৷ যে সম্পর্কই নাই সেটাই দেখানোর আর প্রমাণের চেষ্টায় অভিনয় করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আমাদের শাকিব্বাই অভিনয় না পারুক, কথা বলার সময় বাংলা ভাষা নিয়ে ক্যারিকেচার করুক তবুও এদেশের একশ্রেণীর মানুষ তার প্রচন্ড ভক্ত৷ এরা সিনেমার কিচ্ছু বোঝে না, কিন্তু শাকিব্বাইয়ের ক্রেজ বোঝে। তার স্টারডম এদেশে এমনই যে একের পর এক নারীর সাথে অবলীলায় তিনি প্রেম করেন৷

আমার বিশ্বাস, শাকিব খান নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভোগেন। সঙ্গে তার কমিটমেন্ট ফোবিয়াও আছেন৷ বারবার তিনি প্রেমে পড়েন, কিন্তু কোথাও তিনি স্হির হন না৷ এই যে এখন আবার বলেছেন, তার বাসা থেকে পাত্রী দেখা হচ্ছে। মানে হলো তিনি আরো একবার বিয়ে করতেও রাজী। তিন বাচ্চার বাপ, দুই নারীর প্রাক্তন স্বামী এই শাকিব্বাইকে বিয়ে করার জন্য বহু মেয়ে মুখিয়ে আছে৷ এই মেয়েগুলারও ব্যপক চুলকানি, বিয়াইত্তা ব্যাডারেই স্বামী বানাতে চায়। ব্যাডার এমনই স্টারডম, বিয়ে করবে আর ভাঙবে তবু তার প্রেমে পড়ার জন্য মেয়ের অভাব হবে না কখনোই।

বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, দেশের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ নতুন নয়। তবে এ ধরনের আলোচনায় ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলির সম্পর্ক, বিয়ে, সন্তান ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হিসেবে রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

কুমিল্লায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে আটক ২৯৯

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
কুমিল্লায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে আটক ২৯৯

এক রাতেই ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, অভিভাবকের জিম্মায় মুক্তি ১৪০ জনের

কুমিল্লায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক রাতেই ২৯৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ১৪০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, মাদক কারবার ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

জেলা পুলিশ আরও জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২ হাজার ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধপ্রবণতা রোধে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এবার জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ এএম
এবার জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী

ডিবিসি নিউজ কার্যালয় থেকে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলায় সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট।

এদিকে একই ঘটনায় ডিবির হেফাজতে নেওয়া ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান।

এর আগে বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের সহকর্মী ও ডিবি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মো. আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, একটি প্রতিবেদন প্রকাশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর তাঁদের দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুকতাদির আনিক জানিয়েছিলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে পুলক ঘটকের ক্ষোভ, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ভয় দেখাচ্ছে সরকার’

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে পুলক ঘটকের ক্ষোভ, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ভয় দেখাচ্ছে সরকার’

সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি। একই ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে আটক করার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং মৌলিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তাঁরা অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলক ঘটক বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং একজন সম্পাদককে আটক করা গণতন্ত্র ও সভ্যতার সঙ্গে চরম বৈরিতার শামিল।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগবিহীন একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভাগাভাগির ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকার নিজেদের বৈধতার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার এখন নার্ভাস। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।

পুলক ঘটক আরও বলেন, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের শীর্ষ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে সাংবাদিক সমাজকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইন প্রয়োগের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে, যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়’—উপদেষ্টা জাহিদের এমন বক্তব্য মানুষকে ভীত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

পুলক ঘটক বলেন, অনৈতিক ও দুর্বল সরকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। হত্যা, নির্যাতন ও নিবর্তনমূলক আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক।

×
ENG