৩৮ রোগীর মুখে হাসি
দেবীদ্বারে ৩৮ ক্যান্সার রোগীর পাশে মানবিক উদ্যোগ, আর্থিক সহায়তা ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ

দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মাঝে আর্থিক অনুদান, ঔষধি গাছের চারা ও বীজ বিতরণ করছেন প্রধান অতিথি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ। ছবি : আজকের কথা
‘ক্যান্সার রোগীদের প্রয়োজন মানসিক শক্তি ও সামাজিক সহায়তা’
— চেয়ারম্যান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দিশেহারা ৩৮ জন ক্যান্সার রোগীর মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা, ঔষধি গাছের চারা ও বিভিন্ন ফল-সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে “Raise Your Hands for Needy Cancer Patients” গ্রুপের উদ্যোগে এবং “দেবীদ্বার উপজেলা জনকল্যাণ সংঘ”-এর সহযোগিতায় এ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ক্যান্সার রোগীদের শুধু ওষুধ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদের প্রয়োজন মানসিক সাহস, সামাজিক সমর্থন এবং আশাবাদী পরিবেশ। ক্যান্সার মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি কঠিন লড়াই, যেখানে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “একজন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে। তাই এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, রোগীদের নতুন করে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। আপনারা নিজেদের রোগী নয়, যোদ্ধা হিসেবে ভাবুন। তাহলেই এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার শক্তি পাবেন।”
ঢাকা বাংলা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. জেসমিন পারভীন সিমা-এর সভাপতিত্বে এবং মো. সফিউল্লাহ সোহাগ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সমাজসেবক মো. মোজাফ্ফর আহমেদ, দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, সাংবাদিক সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল এবং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী মো. শাহ আলম।
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার প্রতিরোধ, সচেতনতা ও চিকিৎসা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন ডা. মো. আল আমিন এবং ডা. মো. সাহেদ কামাল।
এদিন গলা, ফুসফুস, স্তন, জরায়ু, রক্ত ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৩৮ জন রোগীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন ভেষজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং ফল ও সবজির বীজ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, রোগীদের সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ঔষধি গাছগুলোর পরিচর্যা ও ব্যবহার সম্পর্কেও রোগীদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সহায়তা পাওয়া এক ক্যান্সার রোগীর স্বজন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে আমরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এমন কঠিন সময়ে কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করিনি। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. জেসমিন পারভীন সিমা বলেন, “আমি নিজেও একজন ক্যান্সারজয়ী মানুষ। তাই এই রোগের কষ্ট এবং রোগী-পরিবারের সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে বুঝি। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা এবং তাদের লড়াইয়ে অংশ নিতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তাহলে কোনো ক্যান্সার রোগী নিজেকে অসহায় বা একা মনে করবেন না।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত রোগী ও তাদের স্বজনদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও মিলনায়তনজুড়ে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আশার এক অনন্য আবহ বিরাজ করে। এই উদ্যোগ দেবীদ্বারের অসহায় ক্যান্সার রোগীদের মাঝে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন ও সাহস জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যান্সার সম্পর্কে জানুন
ক্যান্সার হলো শরীরের কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও সচেতনতা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসার কারণে অনেক ধরনের ক্যান্সার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় করা সম্ভব হচ্ছে। তামাক সেবন, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবেশ দূষণ এবং বংশগত কারণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সাহস, পারিবারিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সমর্থনও সমানভাবে প্রয়োজন। কারণ আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
তদন্তে মিলছে নতুন সূত্র
ডিএনএ বিশ্লেষণে মিলেছে পাঁচজনের শুক্রাণু, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন গতি

ডিএনএ পরীক্ষায় নতুনভাবে মোড় ঘুরতে শুরু করেছে তনু হত্যা মামলা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রায় এক দশক পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ায় তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে চার সাবেক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে গত ১৭ জুলাই আরও দুই ব্যক্তির ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন আদালত। তারা হলেন কুমিল্লার রাজাপাড়ার বাসিন্দা ও তনুর বন্ধু ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএনএ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চলতি বছরের এপ্রিলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
এর মধ্যে জাহিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে চলে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত হয়েছে।
নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তার প্রশ্ন, ভুয়া ফরেনসিক প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এখনো কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই হত্যার শিকার হন।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে আছি। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই বুঝি মারা গেলাম। মৃত্যুর আগে শুধু আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার এবং তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।”
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, যিনি এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর বাস
বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ১৫

বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বেরুয়াইল গ্রামে একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনিক মিয়া ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পুলিশ বাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন অনিক মিয়া। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের মৎস্য খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে গরুর জন্য কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খামারের পানিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।






















