৩৮ রোগীর মুখে হাসি
দেবীদ্বারে ৩৮ ক্যান্সার রোগীর পাশে মানবিক উদ্যোগ, আর্থিক সহায়তা ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ

দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মাঝে আর্থিক অনুদান, ঔষধি গাছের চারা ও বীজ বিতরণ করছেন প্রধান অতিথি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ। ছবি : আজকের কথা
‘ক্যান্সার রোগীদের প্রয়োজন মানসিক শক্তি ও সামাজিক সহায়তা’
— চেয়ারম্যান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দিশেহারা ৩৮ জন ক্যান্সার রোগীর মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা, ঔষধি গাছের চারা ও বিভিন্ন ফল-সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে “Raise Your Hands for Needy Cancer Patients” গ্রুপের উদ্যোগে এবং “দেবীদ্বার উপজেলা জনকল্যাণ সংঘ”-এর সহযোগিতায় এ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ক্যান্সার রোগীদের শুধু ওষুধ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদের প্রয়োজন মানসিক সাহস, সামাজিক সমর্থন এবং আশাবাদী পরিবেশ। ক্যান্সার মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি কঠিন লড়াই, যেখানে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “একজন ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে। তাই এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, রোগীদের নতুন করে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায়। আপনারা নিজেদের রোগী নয়, যোদ্ধা হিসেবে ভাবুন। তাহলেই এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার শক্তি পাবেন।”
ঢাকা বাংলা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. জেসমিন পারভীন সিমা-এর সভাপতিত্বে এবং মো. সফিউল্লাহ সোহাগ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সমাজসেবক মো. মোজাফ্ফর আহমেদ, দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, সাংবাদিক সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল এবং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী মো. শাহ আলম।
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার প্রতিরোধ, সচেতনতা ও চিকিৎসা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন ডা. মো. আল আমিন এবং ডা. মো. সাহেদ কামাল।
এদিন গলা, ফুসফুস, স্তন, জরায়ু, রক্ত ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৩৮ জন রোগীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন ভেষজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং ফল ও সবজির বীজ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, রোগীদের সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ঔষধি গাছগুলোর পরিচর্যা ও ব্যবহার সম্পর্কেও রোগীদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সহায়তা পাওয়া এক ক্যান্সার রোগীর স্বজন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে আমরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এমন কঠিন সময়ে কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করিনি। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. জেসমিন পারভীন সিমা বলেন, “আমি নিজেও একজন ক্যান্সারজয়ী মানুষ। তাই এই রোগের কষ্ট এবং রোগী-পরিবারের সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে বুঝি। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা এবং তাদের লড়াইয়ে অংশ নিতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তাহলে কোনো ক্যান্সার রোগী নিজেকে অসহায় বা একা মনে করবেন না।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত রোগী ও তাদের স্বজনদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও মিলনায়তনজুড়ে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আশার এক অনন্য আবহ বিরাজ করে। এই উদ্যোগ দেবীদ্বারের অসহায় ক্যান্সার রোগীদের মাঝে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন ও সাহস জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যান্সার সম্পর্কে জানুন
ক্যান্সার হলো শরীরের কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও সচেতনতা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসার কারণে অনেক ধরনের ক্যান্সার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় করা সম্ভব হচ্ছে। তামাক সেবন, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবেশ দূষণ এবং বংশগত কারণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সাহস, পারিবারিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সমর্থনও সমানভাবে প্রয়োজন। কারণ আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সুস্থতার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
বিমানবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেলপথে নতুন পরিকল্পনা
বগুড়ার উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের আশ্বাস, গণমাধ্যম পাচ্ছে পূর্ণ স্বাধীনতা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

বগুড়াসহ দেশের সব অঞ্চলে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন করেন।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং তিনি দাবি করেন সাংবাদিকরা এখন অবাধ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার জন্য একটি আধুনিক, আবাসিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছেন। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নির্মিতব্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান অনুষদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করা হবে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, বগুড়ায় একটি বহুমুখী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কার্গো টার্মিনাল, যুদ্ধবিমান পরিচালনার অবকাঠামো এবং বিমানঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে।
খেলাধুলার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বগুড়া ওয়াসা গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া শহরের রেললাইন স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, রাণীরহাট থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত মেট্রোরেলের আদলে আধুনিক ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে গাবতলীতে চার লেনের বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং বগুড়া-নওগাঁ ও মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ-এর উন্নয়নকাজে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুউকের প্রথম নেতৃত্বে বিএনপি
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু

নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু। সরকার তাকে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় এক বছরের জন্য এ দায়িত্ব প্রদান করে নিয়োগ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হলেও তা প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার সকালে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী তাকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
🔹 হাইলাইটস
নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুউক)-এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে
এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি
উদবাতুল বারী আবু। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে
তাকে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার
পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া
এই নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলি সরকার পৃথকভাবে নির্ধারণ করে দেবেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ পাস হয়। পরে ২১ মে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কুমিল্লা মহানগরের পরিকল্পিত উন্নয়ন, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় উদবাতুল বারী আবু ও তার ঘনিষ্টরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করতে কোন পিছপা হবেন না। এ লক্ষ্যে কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন তিনি।
এদিকে, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগের খবরে একমাত্র বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা দিতে দেখা গেছে বিএনপি ঘরনার তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের।
উদ্বোধনী ম্যাচেই কার্ডের ঝড়
উদ্বোধনী ম্যাচেই ৩ লাল কার্ড! আলোচনায় কে সেই ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও। ম্যাচে সরাসরি ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি গড়েছেন বিরল রেকর্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচিত এই রেফারি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কঠোর রেফারিংয়ে আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হলেও আলোচনা কিছুতেই থামছে না ব্রাজিলিয়ান সেই রেফারি উইলটন সাম্পাইওকে ঘিরে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে আবারও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এই রেফারি। এ নিয়ে অনেকে বলেছেন অভিজ্ঞ রেফারি আবার অনেকে ভিন্নমতও পোষণ করেছেন।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সাম্পাইও নতুন কোনো নাম নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি কেইনের একাধিক পেনাল্টি আবেদনে সাড়া না দেওয়াসহ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। একই বিশ্বকাপে পোল্যান্ড-সৌদি আরব ম্যাচেও তার ভিএআর ও কার্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে সেই বিতর্ককে পেছনে ফেলে দিয়ে আবারও তার ওপরই আস্থা রাখে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সাম্পাইওর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ব্রাজিলের সহকারী রেফারি ব্রুনো পিরেস ও ব্রুনো বোসকিলিয়া। চতুর্থ কর্মকর্তা ছিলেন প্যারাগুয়ের হুয়ান গ্যাব্রিয়েল বেনিতেজ। ভিএআর পরিচালনা করেন কলম্বিয়ার নিকোলাস গাইয়ো, সহকারী ভিএআর ছিলেন চিলির হুয়ান লারা এবং সাপোর্ট ভিএআর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের জেরোম ব্রিসার্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিলেন রেফারি সাম্পাইও। ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনোনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক মেক্সিকো। ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন তিনি।
প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ১৬ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা এবং ২২ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ সতর্কবার্তা পান।
তবে ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৯ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেহলো সিথোলে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও।
এরপর ৮৩ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার থেমবা জোয়ানে প্রতিপক্ষের মুখে আঘাত করলে ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।
নাটকীয়তার শেষ অধ্যায় আসে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেস প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকাতে ফাউল করলে তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই দুই দল মিলে মাঠে দেখে তিনটি লাল কার্ডের নজির।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এত সংখ্যক লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা বিরল। ফুটবল পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
আরও একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো—বিশ্বকাপে যে অল্প কয়েকটি ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেগুলোর একটি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ। সেবারও দক্ষিণ আফ্রিকা একটি লাল কার্ড দেখেছিল।
শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো ২-০ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রেফারি উইলটন সাম্পাইও। তার দেখানো তিনটি লাল কার্ডের কারণে বহিষ্কৃত তিন ফুটবলারই গ্রুপ ‘এ’-এর পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না।























