একের পর এক কেলেঙ্কারি
সরকার বিব্রত, দল ক্ষুব্ধ; তবু কার স্বার্থে এখনো সিংহাসনে মীর শাহে আলম?

বগুড়া -২ আসন থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিয়নের নামকরণ থেকে সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যু—প্রশ্ন উঠছে বিএনপির ভেতরেও
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হলেও তিনি এখনো মন্ত্রিসভায় বহাল রয়েছেন। নতুন ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমালোচনা, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন এবং দলীয় অঙ্গনে বাড়তে থাকা অস্বস্তি—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত নামগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন তিনি।
শুধু বিরোধী রাজনৈতিক মহল নয়, ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরেও তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলটির একাধিক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি এখন শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক নয়; বরং সরকারের ভাবমূর্তি, দলীয় বার্তা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
কেন সরানো হচ্ছে না শাহে আলমকে?
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—এত বিতর্কের পরও কেন মীর শাহে আলম তার পদে বহাল রয়েছেন?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তৃতীয়ত, দলীয়ভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে। ফলে যতদিন পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব কোনো সিদ্ধান্ত না নিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন।
শাহে আলমকে ঘিরে বিতর্ক ও অস্বস্তির বিষয়গুলো
১. ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক পদবি এবং তার দুই ছেলে সীমান্ত ও দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। যদিও প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ ‘কাকতালীয়’ বা ‘মিরাকল’, তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন দলের অনেক সংসদ সদস্য ও সাধারণ মানুষ।
২. নিজের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের অভিযোগ: শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে করার উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়। পরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না দেওয়ার অনুরোধ জানান।
৩. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার: প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং পরবর্তীতে একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হলে সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সাংবাদিকদের মুক্তি কামনা করেন।
৪. উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন: রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তুলনামূলক বেশি উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দ যাচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং কিছু সংসদ সদস্যও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
৫. মন্ত্রিসভার ভেতরে অস্বস্তি: একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শাহে আলমকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, এসব ঘটনা বিরোধীদের সরকারের সমালোচনার সুযোগ করে দিচ্ছে।
৬. সংসদ সদস্যদের ক্ষোভ: বিভিন্ন সংসদ সদস্যের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের তৃণমূল পর্যায়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তার দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
৭. বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আলোচনা: দলীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটি পর্যন্ত গড়িয়েছে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতায় এসে এমন বিতর্ক দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৮. প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
৯. বিরোধীদের সমালোচনার সুযোগ: সরকারের ভেতরের অনেক নেতার মতে, শাহে আলমকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং এটি সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
১০. জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন: একের পর এক বিতর্কের পরও কোনো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি না এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়।
ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্কের সূত্রপাত
মীর শাহে আলমকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম হয় তার নির্বাচনী এলাকায় নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ ওঠে, নতুন চারটি ইউনিয়নের নাম তার পারিবারিক পদবি এবং দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সংসদেও এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সমালোচকদের দাবি, একটি জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে প্রশাসনিক ইউনিটের নাম মিলে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
গত সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নাম মিলে যাওয়ার বিষয়টি একটি “মিরাকল” বা অলৌকিক কাকতালীয় ঘটনা।
কিন্তু তার এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে—যদি বিষয়টি সত্যিই কাকতালীয় হয়, তাহলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই তিনি বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নিলেন না কেন?
সংসদের ভেতরেও অস্বস্তি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক শুধু বিরোধীদের সমালোচনার বিষয় হয়নি; বরং ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও এটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একাধিক সংসদ সদস্যের মতে, বর্তমান সরকার যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ ধরনের বিতর্ক সরকারের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সংসদ সদস্য বলেন, “তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত। সংসদে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটি অনেকের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।”
আরেকজন এমপি বলেন, “আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও প্রশ্ন করছেন। আমরা তাদের কী উত্তর দেব?”
মন্ত্রিসভার ভেতরেও উদ্বেগ
বিভিন্ন সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে নিজের মায়ের নামেও কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করতে চান না, সেখানে একজন মন্ত্রীর অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদে বিদ্রূপের সুরে উত্তর না দিয়ে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল।”
উত্তরাঞ্চলের আরেকজন মন্ত্রী বলেন, “নিজের এলাকার উন্নয়ন সবাই চান। কিন্তু ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এমন বিতর্ক সরকারের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়।”
ঢাকা বিভাগের একজন মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “ধরলাম বিষয়টি কাকতালীয়। কিন্তু চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কেন এটি থামানো হলো না?”
ডিও লেটার দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা
বিতর্ক বাড়তে থাকলে মীর শাহে আলম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান।
ওই চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেন, তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি স্থাপনার নামকরণ অনুমোদন না দেওয়া হোক।
বিশেষ করে তার নামে শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর তিনি এ উদ্যোগ নেন।
তার সমর্থকদের মতে, এটি তার সদিচ্ছার প্রমাণ। তবে সমালোচকদের দাবি, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ক্ষতি সামাল দিতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যুতে নতুন বিতর্ক
শাহে আলমকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে।
প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু বক্তব্যের অভিযোগে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন একজন সাংবাদিক নেতা।
পরে ওই মামলায় একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলে সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা
সমালোচনা বাড়ার পর প্রতিমন্ত্রী দ্রুত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন।
সেখানে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি মামলাটি করার নির্দেশ দেননি এবং সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি কামনা করেন।
তার এই অবস্থান কিছুটা বিতর্ক প্রশমনে ভূমিকা রাখলেও সমালোচনা পুরোপুরি থামেনি।
কারণ সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, পুরো ঘটনাটি তার নামকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে।
প্রকল্প বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলে আরেকটি অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে।
কয়েকজন নেতার দাবি, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব প্রকল্পের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামও বিভিন্নভাবে যুক্ত রয়েছে।
যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি।
তবে বিষয়টি নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এমপিদের ক্ষোভ
সংসদের কয়েকজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা মনে করেন একজন প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড পুরো সরকারের ওপর প্রভাব ফেলে।
একজন এমপি বলেন, “সব প্রকল্প নিজের এলাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অন্য এলাকাগুলো বঞ্চিত হয়।”
আরেকজন বলেন, “তিনি এমনভাবে চলছেন যেন কাউকে পরোয়া করেন না। এতে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।”
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একজন সংসদ সদস্যের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে অন্যরাও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হতে পারেন।
স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে।
একজন সদস্য বলেন, “১৭ বছরের সংগ্রামের পর আমরা ক্ষমতায় এসেছি। এখন যদি সরকারের কেউ এমন বিতর্কে জড়ান, তাহলে তা মেনে নেওয়া কঠিন।”
আরেকজন সদস্য বলেন, “মানুষ সবকিছু দেখছে। একজন ব্যক্তির কারণে পুরো দলকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন।
বিভিন্ন বৈঠকে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে শাহে আলমের বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
প্রশাসনিক সক্রিয়তা কি রক্ষাকবচ?
প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রশাসনিক কাজে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, ঢাকার জলাশয় উদ্ধার, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির কারণে সরকার এখনো তার ওপর আস্থা রাখছে।
তাদের মতে, রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে কাজের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
বগুড়া-২ আসন থেকে উত্থান
দলীয় সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি সরে আসার পর শাহে আলম ওই আসনে মনোনয়ন পান।
পরবর্তীতে তিনি নির্বাচনে জয়ী হন এবং পরে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
অল্প সময়ের মধ্যে তার উত্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
সামনে কী?
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বিতর্কগুলোর শেষ কোথায়?
সরকার কি বিষয়গুলোকে শুধুই রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে দেখবে, নাকি কোনো তদন্ত বা সাংগঠনিক পর্যালোচনা করবে?
দলের ভেতরে বাড়তে থাকা অস্বস্তি, সংসদ সদস্যদের ক্ষোভ, সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ এবং জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে শাহে আলমকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে তার সমর্থকদের দাবি, তাকে ঘিরে অনেক অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলছেন, কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে শুধু আইনি দায় নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিতর্কের অবসান ঘটাতে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, একের পর এক বিতর্কের পরও মীর শাহে আলম কেন বহাল রয়েছেন—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু নিশ্চিত, বিষয়টি এখন শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে নয়; বরং সরকারের জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনআস্থার প্রশ্ন হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।
ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এতদিন মামলাটি তদন্ত করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে তাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তের দায়িত্ব এখন পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন বাসায় না ফেরায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত থাকার সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তিনজন।
ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।





























