একের পর এক কেলেঙ্কারি
সরকার বিব্রত, দল ক্ষুব্ধ; তবু কার স্বার্থে এখনো সিংহাসনে মীর শাহে আলম?

বগুড়া -২ আসন থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিয়নের নামকরণ থেকে সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যু—প্রশ্ন উঠছে বিএনপির ভেতরেও
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হলেও তিনি এখনো মন্ত্রিসভায় বহাল রয়েছেন। নতুন ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সমালোচনা, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন এবং দলীয় অঙ্গনে বাড়তে থাকা অস্বস্তি—সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত নামগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন তিনি।
শুধু বিরোধী রাজনৈতিক মহল নয়, ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরেও তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলটির একাধিক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি এখন শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক নয়; বরং সরকারের ভাবমূর্তি, দলীয় বার্তা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।
কেন সরানো হচ্ছে না শাহে আলমকে?
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—এত বিতর্কের পরও কেন মীর শাহে আলম তার পদে বহাল রয়েছেন?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তৃতীয়ত, দলীয়ভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে। ফলে যতদিন পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব কোনো সিদ্ধান্ত না নিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন।
শাহে আলমকে ঘিরে বিতর্ক ও অস্বস্তির বিষয়গুলো
১. ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নাম প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক পদবি এবং তার দুই ছেলে সীমান্ত ও দিগন্তের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। যদিও প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ ‘কাকতালীয়’ বা ‘মিরাকল’, তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন দলের অনেক সংসদ সদস্য ও সাধারণ মানুষ।
২. নিজের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের অভিযোগ: শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে করার উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়। পরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না দেওয়ার অনুরোধ জানান।
৩. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার: প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং পরবর্তীতে একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করা হলে সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি সাংবাদিকদের মুক্তি কামনা করেন।
৪. উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন: রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় তুলনামূলক বেশি উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দ যাচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং কিছু সংসদ সদস্যও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
৫. মন্ত্রিসভার ভেতরে অস্বস্তি: একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শাহে আলমকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, এসব ঘটনা বিরোধীদের সরকারের সমালোচনার সুযোগ করে দিচ্ছে।
৬. সংসদ সদস্যদের ক্ষোভ: বিভিন্ন সংসদ সদস্যের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের তৃণমূল পর্যায়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তার দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
৭. বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও আলোচনা: দলীয় সূত্রের দাবি, বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটি পর্যন্ত গড়িয়েছে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতায় এসে এমন বিতর্ক দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৮. প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
৯. বিরোধীদের সমালোচনার সুযোগ: সরকারের ভেতরের অনেক নেতার মতে, শাহে আলমকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং এটি সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
১০. জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন: একের পর এক বিতর্কের পরও কোনো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি না এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়।
ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্কের সূত্রপাত
মীর শাহে আলমকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম হয় তার নির্বাচনী এলাকায় নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ ওঠে, নতুন চারটি ইউনিয়নের নাম তার পারিবারিক পদবি এবং দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সংসদেও এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সমালোচকদের দাবি, একটি জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে প্রশাসনিক ইউনিটের নাম মিলে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
গত সোমবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নাম মিলে যাওয়ার বিষয়টি একটি “মিরাকল” বা অলৌকিক কাকতালীয় ঘটনা।
কিন্তু তার এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে—যদি বিষয়টি সত্যিই কাকতালীয় হয়, তাহলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই তিনি বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নিলেন না কেন?
সংসদের ভেতরেও অস্বস্তি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্ক শুধু বিরোধীদের সমালোচনার বিষয় হয়নি; বরং ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও এটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একাধিক সংসদ সদস্যের মতে, বর্তমান সরকার যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ ধরনের বিতর্ক সরকারের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সংসদ সদস্য বলেন, “তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত। সংসদে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটি অনেকের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।”
আরেকজন এমপি বলেন, “আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও প্রশ্ন করছেন। আমরা তাদের কী উত্তর দেব?”
মন্ত্রিসভার ভেতরেও উদ্বেগ
বিভিন্ন সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে নিজের মায়ের নামেও কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করতে চান না, সেখানে একজন মন্ত্রীর অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদে বিদ্রূপের সুরে উত্তর না দিয়ে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল।”
উত্তরাঞ্চলের আরেকজন মন্ত্রী বলেন, “নিজের এলাকার উন্নয়ন সবাই চান। কিন্তু ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এমন বিতর্ক সরকারের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয়।”
ঢাকা বিভাগের একজন মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “ধরলাম বিষয়টি কাকতালীয়। কিন্তু চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কেন এটি থামানো হলো না?”
ডিও লেটার দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা
বিতর্ক বাড়তে থাকলে মীর শাহে আলম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান।
ওই চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেন, তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি স্থাপনার নামকরণ অনুমোদন না দেওয়া হোক।
বিশেষ করে তার নামে শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর তিনি এ উদ্যোগ নেন।
তার সমর্থকদের মতে, এটি তার সদিচ্ছার প্রমাণ। তবে সমালোচকদের দাবি, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ক্ষতি সামাল দিতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সাংবাদিক গ্রেপ্তার ইস্যুতে নতুন বিতর্ক
শাহে আলমকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে।
প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু বক্তব্যের অভিযোগে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন একজন সাংবাদিক নেতা।
পরে ওই মামলায় একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলে সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা
সমালোচনা বাড়ার পর প্রতিমন্ত্রী দ্রুত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন।
সেখানে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি মামলাটি করার নির্দেশ দেননি এবং সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি কামনা করেন।
তার এই অবস্থান কিছুটা বিতর্ক প্রশমনে ভূমিকা রাখলেও সমালোচনা পুরোপুরি থামেনি।
কারণ সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, পুরো ঘটনাটি তার নামকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে।
প্রকল্প বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলে আরেকটি অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে।
কয়েকজন নেতার দাবি, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব প্রকল্পের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামও বিভিন্নভাবে যুক্ত রয়েছে।
যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি।
তবে বিষয়টি নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এমপিদের ক্ষোভ
সংসদের কয়েকজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা মনে করেন একজন প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড পুরো সরকারের ওপর প্রভাব ফেলে।
একজন এমপি বলেন, “সব প্রকল্প নিজের এলাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অন্য এলাকাগুলো বঞ্চিত হয়।”
আরেকজন বলেন, “তিনি এমনভাবে চলছেন যেন কাউকে পরোয়া করেন না। এতে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।”
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একজন সংসদ সদস্যের মতে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে অন্যরাও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হতে পারেন।
স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে।
একজন সদস্য বলেন, “১৭ বছরের সংগ্রামের পর আমরা ক্ষমতায় এসেছি। এখন যদি সরকারের কেউ এমন বিতর্কে জড়ান, তাহলে তা মেনে নেওয়া কঠিন।”
আরেকজন সদস্য বলেন, “মানুষ সবকিছু দেখছে। একজন ব্যক্তির কারণে পুরো দলকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন।
বিভিন্ন বৈঠকে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে শাহে আলমের বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
প্রশাসনিক সক্রিয়তা কি রক্ষাকবচ?
প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রশাসনিক কাজে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, ঢাকার জলাশয় উদ্ধার, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির কারণে সরকার এখনো তার ওপর আস্থা রাখছে।
তাদের মতে, রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে কাজের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
বগুড়া-২ আসন থেকে উত্থান
দলীয় সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি সরে আসার পর শাহে আলম ওই আসনে মনোনয়ন পান।
পরবর্তীতে তিনি নির্বাচনে জয়ী হন এবং পরে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
অল্প সময়ের মধ্যে তার উত্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
সামনে কী?
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বিতর্কগুলোর শেষ কোথায়?
সরকার কি বিষয়গুলোকে শুধুই রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে দেখবে, নাকি কোনো তদন্ত বা সাংগঠনিক পর্যালোচনা করবে?
দলের ভেতরে বাড়তে থাকা অস্বস্তি, সংসদ সদস্যদের ক্ষোভ, সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ এবং জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে শাহে আলমকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে তার সমর্থকদের দাবি, তাকে ঘিরে অনেক অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলছেন, কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে সমালোচকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রে শুধু আইনি দায় নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিতর্কের অবসান ঘটাতে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, একের পর এক বিতর্কের পরও মীর শাহে আলম কেন বহাল রয়েছেন—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু নিশ্চিত, বিষয়টি এখন শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে নয়; বরং সরকারের জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনআস্থার প্রশ্ন হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে।
মাঠে কাজ, প্রাণ গেল
সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

মাঠে কাজ করার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রোববার সন্ধ্যায় সিংগাইরের কাঞ্চননগর এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে
কবির হোসেন (৩০) ও শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজ উদ্দিনের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে নিজ নিজ জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন কবির ও শহিদুল। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে অবস্থানকালে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিখোঁজের পর মিলল লাশ
টিসি দেওয়ার কয়েকদিন পরই নিখোঁজ ছাত্রী, ৬ দিন পর কবরস্থানের ঝোপে মিলল খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের ছয় দিন পর কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
ঘটনার আগে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত কিশোরী উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ, বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে।
বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়ার নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রেখে যায়।
এরপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের ছয় দিন পর রোববার বিকেলে চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে মরদেহের অংশ দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে তারা পুলিশে খবর দিলে সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বলে শনাক্ত করেন। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নারী উদ্যোক্তা মহলে শোক
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই

দেশের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গ্রুপ এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ী সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের
ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি BWCCI-এর
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি Oslo Business for Peace Awardসহ একাধিক জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
পারিবারিক ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিটল-নিলয় গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প নিলয় বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজয় কুমার মণ্ডল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সেলিমা আহমাদ ছিলেন দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ব্যবসায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ব্যবসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক Oslo Business for Peace Award অর্জন করেন। এছাড়া ২০২২ সালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা পদক লাভ করেন। এর আগে ২০১২ সালে Islamic Development Bank Award এবং Priyadarshini Award-এও সম্মানিত হন।
তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী সমাজ, নারী উদ্যোক্তা মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেন, সেলিমা আহমাদের মৃত্যু দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।




















