অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে নতুন প্রত্যাশা
কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের জোর দাবি, অর্থমন্ত্রীর কাছে হাজী ইয়াসিনের ডিও লেটার

হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। ফাইল ফটো
দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। এ দাবিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াসিন) গত ২১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন।
কুমিল্লাভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’-এর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে পাঠানো ওই চিঠিতে কুমিল্লার অর্থনৈতিক গুরুত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৃহত্তর অঞ্চলের ব্যাংকিং কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কুমিল্লা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন, ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। বর্তমানে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী—এই ছয়টি জেলার সমন্বয়ে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনসংখ্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা, প্রবাসী আয়, শিল্পায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের বিচারে এ অঞ্চল জাতীয় অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক
- কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে।
- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াসিন) অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন।
- চিঠিতে কুমিল্লার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
- কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী নিয়ে গঠিত অঞ্চলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আঞ্চলিক কার্যালয় নেই।
- ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
- আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপিত হলে ব্যাংকিং সেবা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ হবে।
- নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- নাগরিক অধিকার ফোরাম ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।
- কুমিল্লায় শাখা স্থাপিত হলে এটি হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১তম আঞ্চলিক কার্যালয়।
- সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।
কিন্তু এত বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আঞ্চলিক কার্যালয় নেই। ফলে স্থানীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণের জন্য ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের শাখার ওপর নির্ভর করতে হয়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত জটিলতা, এলসি অনুমোদন, আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত পরামর্শ, তদারকি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদেরকে বারবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু কুমিল্লাই নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা স্থানীয় পর্যায়ে সহজলভ্য হবে। শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গতি আসবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতারা বলেন, কুমিল্লা বর্তমানে দেশের অন্যতম রেমিট্যান্সসমৃদ্ধ অঞ্চল। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। একইসঙ্গে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং আমদানি-রপ্তানি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।
উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক খাদিজা বেগম বলেন, “কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন কেবল একটি প্রশাসনিক দাবি নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কুমিল্লার ব্যবসা-বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বিবেচনায় এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রী হাজী ইয়াসিনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করবে।”
নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহজাদা এমরানও এ উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, “কুমিল্লা এবং আশপাশের জেলার কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটি। ব্যাংকিং খাতের বিস্তৃতি, গ্রাহক সংখ্যা, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক থেকে কুমিল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। তাই এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন পুরোপুরি যৌক্তিক।”
তিনি মন্ত্রী হাজী ইয়াসিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “জনগণের দীর্ঘদিনের একটি দাবি সরকারিভাবে উত্থাপন করায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপিত হলে ব্যাংকিং তদারকি জোরদার হবে, আর্থিক সেবার মান উন্নত হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে। একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং সদরঘাটসহ দেশে মোট ১০টি শাখা কার্যালয় রয়েছে। কুমিল্লায় নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপিত হলে সেটি হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১তম আঞ্চলিক শাখা, যা দেশের আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।
ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এতদিন মামলাটি তদন্ত করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে তাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তের দায়িত্ব এখন পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন বাসায় না ফেরায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত থাকার সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তিনজন।
ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
































