বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মব বিতর্কে কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন।
  • তার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে।
  • সদ্য লন্ডন থেকে সেখানেও ‘মব’ ইস্যুতে একটি পুলিশি জটিলতার জন্ম দিয়ে দেশে ফিরেই সংসদ গরম করেছেন!

আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে।

সদ্য লন্ডন থেকে সেখানেও ‘মব’ ইস্যুতে একটি পুলিশি জটিলতার জন্ম দিয়ে দেশে ফিরেই সংসদ গরম করেছেন! এই তরুণ নেতা যাকে দেশের সর্বত্র জানে চিনে কালাপাঠা ও অনেকের মতে টোকাই, সেই টোকাই দেহমনে বেশ বলিষ্ঠ! আর তাই কণ্ঠেও বেশ ‘উত্তাপ’ ছড়ান। যেখানে যান, সেখানেই তিনি নিজের শরীরের ‘গরম’ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন! শরীর আর কণ্ঠের জোরে সব জয় করতে চান! উনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন যে ঠাণ্ডা মাথার কাজ কম; মাথা গরম তো শরীরও গরম। আর গরম শরীরে সব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়; নিজে গরম থাকবেন, কিন্তু অন্যকে ‘ঠাণ্ডা’ করতে পারবেন! তারুণ্যের এই গরম শরীর নিয়ে তিনি যখন জুলাইয়ের আন্দোলনে মাঠ কাঁপান, তখন সবাই তাঁকে খুব বিশ্বাস করে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। তরুণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর অন্য সঙ্গীদের ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ভেবে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিল।

  প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে অবস্থান করতেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

আন্দোলনের সময় ১০ নম্বর জার্সি পরে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে সুযোগসন্ধানী রাজনীতি এবং ‘মব সন্ত্রাস’কে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তুলেছেন তাঁর আন্দোলনেরই কয়েকজন সাবেক সহযোদ্ধা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও সামনে আসে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কয়েকজন কর্মীর চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তাঁর বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলন হলো, জয় এলো। তাদের ‘মনমতো’ অন্তর্বর্তী সরকার হলো। আর রাতারাতি বদলে যেতে থাকল সবকিছু। ব্যক্তিস্বাধীনতা, ভিন্নমত, বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ, ছাত্রদের অধিকার ইত্যাদি যত দাবিদাওয়া সামনে রেখে আন্দোলন হয়েছিল; সব মেবালুম ভুলে গিয়ে বিরোধী মত দমনের কঠিন মিশন নিয়ে চলতে শুরু করলেন।

তাঁর শরীর আর পেশি যে কত গরম, তা বুঝতে শুরু করল দেশবাসী। ঠাণ্ডা মাথার আর কোনো কাজই নেই! হাসনাত মানেই যেন হুমকি-ধমকি!

কি গণমাধ্যম, কি পুলিশ-সেনাবাহিনী, কি সুধী-শিল্পী-বাউল-মুক্তিযোদ্ধা—সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার নতুন সংস্কৃতির বিস্তার ঘটতে থাকল শিগগিরই। কিছু হলেই একে-তাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুংকার। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী সেনাবাহিনীকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পিছপা হননি এই তরুণ।

অথচ যখনই সংকটে পড়েছেন কিংবা মানুষের রোষানলে পড়েছেন, তখনই তাঁকে (কনির) হাত থেকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

কাউকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা মনে হলেই ভিন্ন চোহারা ধারণ করেন এই টোকাই হাসনাত! চোখ-মুখ বাঁকিয়ে গগনবিদারী হুংকার যাকে বলে! যাকে-তাকে দেওয়া তাঁর হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতির নমুনা দেখে সাধারণ মানুষও বুঝতে শুরু করল যে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেওয়া এই টোকাই হাসনাতরা আসলে মানুষের কোনো অধিকার নয়, বরং নিজেদের আখের গোছাতে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে, সব ভুলে এখন তারা ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া, সামাজিক মূল্যবোধের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শত সহস্র বছরের অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করতেই এতসব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। হাসনাতের মধ্যে আগামী দিনের নেতৃত্বের যে সম্ভাবনা ও গুণাবলি ছিল, তার অপব্যবহার করতে সময় লাগেনি। যখনই একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে চলে আসে, তখন থেকেই হাসনাত নিজের মতকেই সব মতের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে শুরু করেন। ‘নিজের মতই সেরা মত’—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হাসনাত নিজের নেতৃত্বগুণকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ‘মব সন্ত্রাস’কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান!

গ্রামের একজন রাজমিস্ত্রির সন্তান হয়ে নিজেকে ‘প্রলেতারিয়েত’ শ্রেণির অংশ ভাবা সেই টোকাই হাসনাত রাতারাতি ‘বুর্জোয়া’ মানসিকতা রপ্ত করতে থাকেন! গাড়ি আর টাকার নেশাও পেয়ে বসে তাঁকে।

কেমনে কেমনে যেন সব চলে আসে হাতের নাগালে। কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের পলকে তাঁর হাতে এসে ধরা দেয়। অথচ প্রশ্নও তোলা যায় না। যিনি প্রশ্ন করবেন তখনই চোখ-রাঙানি! কার ঘাড়ে কত মাথা যে হাসনাতের মব সন্ত্রাসের ভীতির মধ্যে এসব নিয়ে প্রশ্ন করে? কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের ইশারায় হাসনাত আর আরেক এনসিপি নেতা আসিফ মিলেঝিলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় জেলা পরিষদ প্রশাসক মুস্তাক মিয়া মুখ ফসকে বলে ফেলার পর হাসনাতের চোখ-রাঙানিতে সব ঠাণ্ডা। বিরোধী দলকে শায়েস্তা করার প্রসঙ্গে একবার শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দুইটা হোন্ডা, ছয়জন গুণ্ডা, বিরোধী দল ঠাণ্ডা। ’ অনেকটা ওই রকম আর কি! দেশে মব সন্ত্রাসকে সামনে থেকে উচ্চে তুলে ধরার কারিগর হাসনাত আবদুল্লাহ সময়ের সঙ্গে সংসদ সদস্যও হলেন। কিন্তু মবকে এখনো ‘না’ বলতে পারেননি। দেশজুড়ে মব দিয়ে সব হাসিল করে শিখে গেছেন এটিই সময়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, যা ব্যবহার করে যাকে প্রয়োজন ঠাণ্ডা করে রাখা যাবে! কিছু হলেই সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কাজ হাসিল করে নেওয়ার অভিনব কৌশল তিনি ভালোই রপ্ত করে নেন অন্তর্বর্তীর দুই বছরে। এটি এখন সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর ভুলে যেতে পারতেন! কিন্তু না, সেই পথে যাননি তিনি। সুযোগ পেলে পার্লামেন্টকেও ‘শাহবাগ’ বানিয়ে ফেলেন, যদিও তাঁর আরেক সহকর্মীকে এরই মধ্যে পার্লামেন্টকে শাহবাগ না বানানোর বিষয়টি স্পিকারের আসন থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী গত দুই বছরের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করে আরো জানা যায়, সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব দিলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব সংস্কৃতি’ বা উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরব থাকার কথা থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগ এবং বিলাসবহুল জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় একটি জাতীয় দৈনিককে হুমকির অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে আগেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ বা ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতিকেও অনেকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

টোকাই হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। যদিও তিনি আন্দোলনের সময় ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডে সেই ন্যায়বিচারের ধারণার পরিবর্তে মব সংস্কৃতি বা গণপিটুনিসদৃশ রাজনৈতিক আচরণের ছাপ পাওয়া গেছে বলে সমালোচকদের অভিমত।

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি ও তাঁর অনুসারীরা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারী বা সমালোচনাকারীদের ওপর সরাসরি হামলা না করে বরং তাঁদের সামাজিকভাবে ‘ট্যাগিং’ করে কোণঠাসা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বা তাঁর সমর্থকরা যাঁদের পছন্দ করেন না, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামী দোসর, ভারতের দালাল বা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই ধরনের আখ্যা দেওয়ার ফলে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কথা বলার পরিবর্তে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসেছে। নির্দিষ্ট কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক তাঁর বিলাসী জীবনধারা বা দুর্নীতির খতিয়ান নিয়ে প্রতিবেদন করলে সেখানে সরাসরি আইনি পথে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই সাংবাদিক বা প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক হেনস্তার শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে সংবাদ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এটি পরোক্ষভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের একটি মব পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলোকে অনেকেই ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখেন। তিনি যখন জনসভায় বলেন যে কারো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জায়গা থাকবে না, তখন তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী বা স্থানীয় ক্যাডাররা সেই বক্তব্যকে পুঁজি করে ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়। সমালোচকদের মতে, তিনি সরাসরি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার না করলেও তাঁর বক্তৃতার উত্তাপ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মব সন্ত্রাসে উসকানি দেয়।

মব সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া। হাসনাত আবদুল্লাহর কর্মকাণ্ডে অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার বা শাস্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বা প্রশাসনিক এলাকায় গিয়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কাউকে বরখাস্ত বা হেনস্তা করার প্রবণতা মব কালচারকে উসকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্ববিরোধিতার অভিযোগ হলো, একদিকে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘টাকা খাওয়া’ গোষ্ঠী হিসেবে গালিগালাজ করছেন এবং মব উসকে দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের মতো বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্বিমুখী নীতি প্রমাণ করে যে মব সন্ত্রাস তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতো সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা শুধু ব্যক্তিগত আচরণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, এই প্রবণতা ডালপালা মেলার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং পরোক্ষ প্রশ্রয় একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

মব সন্ত্রাস যখনই কোনো এলাকায় মাথাচাড়া দিয়েছে, সরকার সেগুলোকে কঠোর হাতে দমন করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বা তাঁর মতো নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর যখন মাঠ পর্যায়ে সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হাসনাত আবদুল্লাহর এই আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। প্রথমত, এটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন থমকে যায়। তৃতীয়ত, সমন্বয়কদের প্রতি আস্থা কমে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ, যারা জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তারা এখন এই মব সংস্কৃতির চর্চায় চরম হতাশ ও বিরক্ত।

গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে যখন বারবার হাসনাত আবদুল্লাহর বিতর্কিত জীবনযাপন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মব কালচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তখন সরকার সেটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেছে। কিন্তু সুধীসমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক কৌশল’, যেখানে মব ভায়োলেন্সকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে দমানো হচ্ছে। সরকারের এই প্রশ্রয়ই আজ হাসনাত আবদুল্লাহকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, এমনকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও উসকানিমূলক মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন।

মোটাদাগে বলতে গেলে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি আন্দোলনের সময় যে স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কথা বলতেন, আজ তিনি নিজেই সেই ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং মব কালচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG