বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

তিস্তার ভয়াবহ নদীভাঙন

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন, এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন ৫ শতাধিক বসতভিটা

জাহিদ হাসান জীবন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) থেকে : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত
৫ শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক এবং অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও বিস্তীর্ণ জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও তিস্তার ডান তীরের পুরোনো বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
সর্বস্ব হারিয়ে বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে, সড়কের পাশে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়ে
মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশ বর্তমানে নদীভাঙনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিতে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক উজানের পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, উজান বুড়াইল, কেরানীরচর ও ভাটি বুড়াইল এলাকা। নদীর তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও বাঁশঝাড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাচ্ছে না।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • এক সপ্তাহে তিস্তা নদীর ভাঙনে অন্তত ৫ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
  • শত শত একর কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও অসংখ্য গাছপালা ভাঙনের কবলে পড়েছে।
  • কাপাসিয়া, বেলকা, হরিপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না পেয়েই সর্বস্ব হারিয়েছে।
  • ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত এবং সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
  • স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নদীভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

ক্ষতিগ্রস্ত আবুল হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহ কামাল, জাহাঙ্গীর, জাফর আলী, জয়নাল আবেদীন ও মমিনুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই নদী তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা গ্রাস করছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় তারা বারবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এবারও পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন এবং কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করবেন, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেললেও তা ভাঙনের ভয়াবহতার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া এবং ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও হাবিজার রহমান জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান তুলি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হবে।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন সুন্দরগঞ্জের নদীতীরবর্তী জনপদে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছরের অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, দ্রুত টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙনকবলিত মানুষের জীবন, বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

নজরুল নগর নামকরণের দাবিতে আবেদন

মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার দাবি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৮ এএম
মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার দাবি

নিকারের ১২১তম সভার আগে আবেদন জানালেন সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী

কুমিল্লার মুরাদনগরের নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ না রেখে ‘নজরুল নগর’ করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বাঙ্গরা নয় ‘নজরুল নগর’ নামে নামকরনের প্রস্তাব

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ পরিবর্তে ‘নজরুল নগর’ করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত দৌলতপুর এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখলে তা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আবেদনটি করেছেন দৈনিক আজকের কথা-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। তিনি মুরাদনগর ও বাঙ্গরা অঞ্চলের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে এ আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নিকারের ১২১তম সভার আলোচ্যসূচিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বাঙ্গরা থানার দৌলতপুর এলাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। এখানেই কবির বিয়ে এবং শ্বশুরবাড়ির স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।

ফলে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখা হলে তা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করবে।

আবেদনে নাম পরিবর্তনের পক্ষে কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

বর্তমান মুরাদনগর উপজেলার নামের সঙ্গে ‘নগর’ শব্দের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

জাতীয় কবির নামে নামকরণ হলে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কিংবা আঞ্চলিক মতবিরোধের সম্ভাবনা কম থাকবে এবং বিষয়টি সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘নজরুল নগর’ নামটি শুধু একটি প্রশাসনিক নাম নয়; এটি জাতীয় ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন উপজেলার পরিচয়কে যুক্ত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে বলে আবেদনকারী মনে করেন।

এ কারণে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কাছে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম ‘বাঙ্গরা’ পরিবর্তন করে ‘নজরুল নগর’ অনুমোদনের জন্য আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ সার সংক্ষেপ……..

  • নতুন উপজেলার নাম ‘নজরুল নগর’ রাখার দাবি জানিয়ে নিকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
  • আবেদনটি করেছেন দৈনিক আজকের কথা-এর সম্পাদক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
  • দৌলতপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে নামকরণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • ‘নগর’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মুরাদনগরের নামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
  • জাতীয় কবির নামে নামকরণ করলে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ এএম
‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

মৃত্যুদণ্ডের রায়েও ভয় নেই, দাবি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV⁠কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পথে যত বাধা ও ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন, তিনি এ বছরই স্বদেশে ফিরবেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন।

  দেশে ফেরার ঘোষণা

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার পথে বিদ্যমান আইনি ও রাজনৈতিক বাধা তাঁকে থামাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর এটিই তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য সাক্ষাৎকার। এতে তিনি দেশে ফেরা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, এ রায় বা মৃত্যুর আশঙ্কা তাঁকে দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, দলটি দেশের জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে একে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনা আরও দাবি করেন, তাঁর দেশে ফেরার লক্ষ্য ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের সমালোচক ও সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার এ ঘোষণা আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ।

চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০২৬ সালেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা

ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনি প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর এ ঘোষণাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

তেঁতুলিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে ‘মিথ্যা অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেতুঁলিয়া (পঞ্চগড়) থেকে : প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ এএম
তেঁতুলিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে ‘মিথ্যা অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন

সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিক্ষোভ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু ইউএনওকে ঘিরে মিথ্যা অপবাদ ও হয়রানিমূলক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। বক্তারা দাবি করেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশকর্মী মাহমুদুল হাসান মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক খন্দকার আবু সালেহ ইব্রাহিম ইমরান, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ফেরদৌস আলম লিটন, মাসুদ রানা, শিক্ষক ও সামাজিক কর্মী হুমায়ুন কবির, সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক ওবায়দুল হকসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তারা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। মিথ্যা অপবাদ, ভিত্তিহীন প্রচারণা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • তেঁতুলিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • সর্বস্তরের জনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
  • বক্তারা অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
  • আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়।
  • প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
×
CLOSE X