শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

পরিচয় ঘিরে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জে সোর্সসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি, অভিযানে গিয়ে উত্তেজনা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:২১ এএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির শিকার দুই পুলিশ সদস্য

ফতুল্লার জামতলা এলাকায় অভিযানে গিয়ে গণপিটুনির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া পুলিশ সদস্য ও সোর্সদের থানায় নেওয়া হয়। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

এবার সোর্সসহ দুই পুলিশ গণপিটুনির শিকার হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় সাদা পোশাকে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের সঙ্গে থাকা দুই সোর্স স্থানীয় জনতার গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফতুল্লার জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল বাশার ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম দুইজন সোর্সকে সঙ্গে নিয়ে ধোপাপট্টি এলাকার ‘আইনজীবীর বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাসায় অভিযান চালান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের একপর্যায়ে কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম আলমারির একটি ড্রয়ার থেকে একটি স্বর্ণের চেইন নিজের পকেটে রাখেন। বিষয়টি বাড়ির লোকজনের নজরে এলে তারা উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা তখন পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ওই চারজনকে মারধর করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তবে স্বর্ণের চেইন নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে একটি বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার লোকজনকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ এএম
জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগে জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং রাজনৈতিক পদধারী এক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে কলেজজুড়ে অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও সচেতন মহল।

সংবাদের হাইলাইট

✅ ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

✅ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও সচেতন মহল।

✅ জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অসঙ্গতি দেখিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

✅ অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেছেন, বিধি মেনেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

✅ কলেজজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নূরে আলম মনিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১৯ মে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষক সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন না। এছাড়া সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

কলেজ সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী অন্যত্র বদলি হলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পাঠানো জ্যেষ্ঠতার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নন-ক্যাডার শিক্ষকদের ২৪ সদস্যের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় নূরে আলম মনির অবস্থান ছিল ১৩তম। অথচ নিয়োগের জন্য পাঠানো প্রস্তাবে তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকায় উপরের দিকে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত জ্যেষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষকের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জ্যেষ্ঠতার সপ্তম অবস্থানে থাকা প্রভাষক শেখ মো. রহুল আমীন জীবন বলেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কীভাবে নূরে আলম মনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন, তা তার জানা নেই। তিনি এ বিষয়ে কোনো অনাপত্তিপত্রেও স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি গোপন রেখে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরে আলম মনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ীই তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন।

প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সময় তাড়াহুড়ার কারণে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ভুল হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।

বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী বলেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক রুকন উদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। এরপরের বিষয়টি তার জানা নেই।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব বলেন, নূরে আলম মনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে রয়েছেন বলে তিনি জানেন।

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গেট ভেঙ্গে শোডাউন

ছাত্রদল পরিচয়ে বহিরাগতদের ইবি ক্যাম্পাসে প্রবেশের অভিযোগ, বাধা দিতে গিয়ে আহত নিরাপত্তাকর্মী

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৩ এএম
ছাত্রদল পরিচয়ে বহিরাগতদের ইবি ক্যাম্পাসে প্রবেশের অভিযোগ, বাধা দিতে গিয়ে আহত নিরাপত্তাকর্মী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ছাত্রদল পরিচয়ে একদল বহিরাগত জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের ধাক্কা, হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয়। ধাক্কাধাক্কিতে দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 সংবাদের হাইলাইট

✅ ছাত্রদল পরিচয়ে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

✅ বাধা দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

✅ দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেওয়ার অভিযোগ।

✅ অনুমতি ছাড়া কাউকে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

✅ পুরো ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল, সাউন্ডবক্স ও একটি পিকআপ নিয়ে একদল ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ডায়না চত্বরে শোডাউন দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে কয়েকজন নিজেদের ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। গেট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে গেট খুলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠু এবং শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান রকির নেতৃত্বে বহিরাগতদের একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি বাস থেকে নেমে প্রধান ফটকে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল দেখতে পান। নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কা দিয়ে একদল ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। পরে তিনি ও একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী গেট বন্ধ করার চেষ্টা করলে কয়েকজন নিজেদের ছাত্রনেতা পরিচয় দিয়ে সরে যেতে বলেন।
দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার আগে একজন এসে তাদের গেট খোলা রাখার অনুরোধ করেন।

বিষয়টি প্রক্টরকে জানালে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, অনুমতি ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। পরে বহিরাগতরা এসে ধাক্কা দিয়ে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ধাক্কাধাক্কিতে তিনি আহত হন এবং প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

প্রক্টর অফিসের নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রক্টরের নির্দেশ অনুযায়ী গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, বহিরাগতদের একটি দল জোরপূর্বক প্রবেশের সময় তাদের হুমকি দিয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাকর্মীরা ছবি দেখে ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদকে গেট খোলা রাখার বিষয়ে আগে থেকে যোগাযোগ করা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেন। তবে রাফিজ আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল দুইজন ব্যক্তিগত অতিথির বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জানিয়েছিলেন। মিছিল বা শোডাউনের বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হলে তিনি স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছিলেন। ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বে) অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, ঘটনার পর কয়েকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাবেক শিক্ষার্থীও ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে

জুড়ী সীমান্তে ১০ বাংলাদেশিকে ‘পুশইন’ অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার দাবি

জালালুর রহমান, জুড়ী (মৌলভীবাজার) থেকে : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
জুড়ী সীমান্তে ১০ বাংলাদেশিকে ‘পুশইন’ অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তার দাবি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল জুড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে দুই পুরুষ, সাত নারী ও একটি শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। তবে এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

সংবাদের হাইলাইট
  • মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে ভারত থেকে ‘পুশইন’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
  • পুশইনকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই পুরুষ, সাত নারী ও একটি শিশু।
  • ঘটনার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
  • বিজিবি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
  • পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করার পর বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিজিবির প্রহরায় ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে রেখে বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান। পরে তাদের বড়লেখা উপজেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা জানান, তাদের বাড়ি খুলনা বিভাগের নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। তারা বিভিন্ন সময়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিএসএফ তাদের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবি তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রাতে বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন—রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), সুবা আক্তার (৩২), লাইলি খাতুন (২৮), সালমা খাতুন (২৭), রিয়া বেগম (২৫), লাবিবা আক্তার (৮) ও সাব্বির শেখ (১৯)। তাদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য জানার পর তিনি ৫২ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার পর সেটি মুছে ফেলতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, তাকে না পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তার ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান। এছাড়া মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে তার মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোর্শেদ আলম আরও দাবি করেন, পরে স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেলটি লাঠিটিলা ক্যাম্প এলাকায় নিয়ে গেলে তাকেও মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবির হেফাজতে রয়েছে বলে তার অভিযোগ।

তবে সাংবাদিকের এসব অভিযোগ এবং পুশইনের ঘটনাটি সম্পর্কে বিজিবির পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
CLOSE X