মাদকমুক্ত বদলগাছীর অঙ্গীকার
‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’—বদলগাছীতে পুলিশ-জনতার ঐক্যের ডাক

মাদকমুক্ত বদলগাছী গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন অতিথিরা। ছবি : আজকের কথা
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলাকে জিরো টলারেন্স মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক মতবিনিময় ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংবাদের হাইলাইটস
মাদকমুক্ত বদলগাছী গড়তে পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগ
এমপি ফজলে হুদার মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান
ডিআইজির বক্তব্য—জনসম্পৃক্ততাই মাদক প্রতিরোধের মূল শক্তি
কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আশাবাদ
নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত বদলগাছী গড়ার অঙ্গীকার
শনিবার (৪ জুলাই) বদলগাছী থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে বদলগাছী থানা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি। সভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মো. ফজলে হুদা বলেন, মাদক শুধু একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কমিউনিটি পুলিশিংকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করা গেলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের তথ্য, সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন সম্ভব নয়।” তিনি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় মাদকের ভয়াবহতা, যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা এবং পুলিশ-জনতার পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, অপরাধ ও মাদকমুক্ত বদলগাছী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দুই পরিবারের করুণ মৃত্যু
লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে দুর্যোগের শঙ্কা

বান্দরবানের লামায় উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
এক নজরে লামায় পাহাড় ধসে যা ঘটেছে
- লামায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসে ৫ জন নিহত।
- নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৩ সদস্য রয়েছেন।
- টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
- জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন— আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার বাসিন্দা মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২), তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান (৪), একই এলাকার মো. জুয়েল (৩৪) এবং তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে আজিজনগর ইউনিয়নের পাগলাছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
একই সময়ে কাছাকাছি আরেকটি স্থানে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর বিধ্বস্ত হলে স্বামী-স্ত্রী নিহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগর এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিলেও, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার অনেক বাসিন্দা এখনও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।
গেজেট প্রকাশ, কার্যক্রম শুরু
মুরাদনগর ভেঙে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা, সদর দপ্তর খামারগ্রামে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করেছে সরকার। খামারগ্রামে সদর দপ্তর, অনুমোদন পেয়েছে ২৪টি সরকারি দপ্তর ও ২৩৮ জন জনবল।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠন করেছে সরকার। নতুন উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায়। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের বিশেষ অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন উপজেলাটি গঠন করা হয়েছে।
১০ ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা উপজেলা
নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠিত হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে। ইউনিয়নগুলো হলো— শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর (পূর্ব), পূর্বধইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং টনকী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে। ফলে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২৪ সরকারি দপ্তরের অনুমোদন
নতুন উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ২৪টি সরকারি দপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, উপজেলা প্রকৌশল অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২৩৮ জন জনবল নিয়োগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪০ জন কর্মকর্তা ও ১৯৮ জন কর্মচারীসহ মোট ২৩৮ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ খালেদ হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দ্রুত অফিস স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং অনুমোদিত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের মাধ্যমে মুরাদনগরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পলাতক জীবন শেষ
দেবীদ্বারে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তিন বছর পর গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সুজন মিয়া (৩২)কে তিন বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রাজামেহার গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুজন মিয়া উপজেলার রাজামেহার গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই ১০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করে (জিআর নং-৮৬/২৩)।
মামলার বিচার শেষে আদালত সুজন মিয়াকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ তিন বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পলাতক ছিলেন।
দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সুজন মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



















