“১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি, ১৯ জুলাই বিশ্বজয়—ইয়ামালের ভাগ্যের অবিশ্বাস্য মিল!”

স্পেনের নতুন ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: এএফপি
১৯-এর মহাকাব্য! ১৯ বছর বয়সে বিশ্বজয়, ১৯ নম্বর জার্সিতে ইতিহাস—ফুটবলের নতুন রাজপুত্র লামিন ইয়ামাল
বিশ্বকাপ জিতে নতুন যুগের সূচনা, মেসির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে স্পেনের বিস্ময়বালক; মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানবিকতারও অনন্য দৃষ্টান্ত
ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, একদিকে বিদায়ের বেদনায় অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের নতুন নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। যা কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়—বরং একটি যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ঠিক তেমনই একটি রাত।
অদ্ভুত এক কাকতালীয় মিল যেন ইতিহাসকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। ইয়ামালের বয়স ১৯ বছর, জার্সি নম্বর ১৯, আর বিশ্বকাপ জয়ের রাতও ১৯ জুলাই দিবাগত রাত। যেন সংখ্যাটিই তার ভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আরেকটি দৃশ্য। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মেতে থাকা ইয়ামাল হঠাৎ সতীর্থদের ছেড়ে এগিয়ে যান লিওনেল মেসির দিকে। দু’জনের সেই আলিঙ্গন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এটিকে আখ্যা দিয়েছেন—“এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের রাজদণ্ড হস্তান্তরের মুহূর্ত”।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগঘন দৃশ্য
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে স্পেন ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। আর অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অনেকের ধারণা, এটিই ছিল বিশ্বমঞ্চে তার শেষ ম্যাচ।
কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্তেই ইয়ামাল ছুটে যান নিজের শৈশবের আদর্শ মেসির কাছে। আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন দুজন। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এই গল্পের শুরু ২০০৭ সালে
মেসি ও ইয়ামালের সম্পর্কের সূচনা অবশ্য বিশ্বকাপ ফাইনালে নয়। এর শুরু প্রায় দুই দশক আগে।
২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই সময় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ইয়ামালের পরিবার।
মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাথটাবে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন ২০ বছর বয়সী মেসি। পাশে ছিলেন ইয়ামালের মা শিলা এবানা।
সেই ছবিটি তখন হয়তো ছিল একটি সাধারণ ফটোশুট। কিন্তু প্রায় ১৯ বছর পর সেটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন স্মৃতিচারণ
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ম্যানহাটনে এক অনুষ্ঠানে মেসি সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলে বলেন,
“আমি তার সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, যখন সে একেবারে শিশু ছিল। আর আজ আমরা দুজন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছি। সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
মেসি ইয়ামালের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রশংসা করলেও মাঠে তাকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের কাছে হার মানতে হয় কিংবদন্তিকে।
‘সিনেমার গল্প’ বলেও বিশ্বাস করা কঠিন
ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পুরো ঘটনাকে বলেছেন,
“এটি ভাগ্যের এক অলৌকিক ঘটনা। যদি কেউ এটি সিনেমার গল্প হিসেবে লিখত, মানুষ বিশ্বাস করত না।”
তিনি আরও বলেন, এতদিন ভাগ্যে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু এই ঘটনার পর তার নিজের বিশ্বাসও বদলে গেছে।
এআই ছবি মনে হয়েছিল সতীর্থেরও
স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো স্বীকার করেন, প্রথমবার সেই ছবি দেখে তার মনে হয়েছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি।
তার ভাষায়,
“ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের এমন একটি ছবি বাস্তব হতে পারে—প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি।”
বিশ্বজয়ের নায়ক, মানবতারও কণ্ঠস্বর
শুধু ফুটবল নয়, মানবিক অবস্থানের কারণেও আলোচনায় রয়েছেন ইয়ামাল।
বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের পর ছাদখোলা বাসে শিরোপা উদযাপনের সময় তিনি ফিলিস্তিনের একটি বিশাল পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।
সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
গাজার ছাত্র মুহাম্মদ আকরাম লেখেন,
“কারও কাছে এটি একটি সাধারণ পতাকা হতে পারে। কিন্তু গাজায় আমাদের কাছে এটি আশার প্রতীক।”
কোচ ফ্লিকের সমর্থন
ইয়ামালের ফিলিস্তিনপ্রীতি নিয়ে বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেন,
“আমি তাকে বলেছি—এটি যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে সেটি তোমার অধিকার।”
ইনস্টাগ্রামে ৪ কোটিরও বেশি অনুসারী থাকা ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকাসহ পোস্টটি কয়েক মিলিয়ন লাইক পায়।
গাজা থেকেও ভালোবাসা
ফিলিস্তিনি লেখক মোসাব আবু তোহা মন্তব্য করেন,
“আমরা তোমাকে ভালোবাসি, গাজা থেকে।”
আরেক শিক্ষার্থী হাইথাম আল-মাসরি লেখেন,
“মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাদের চোখে জল এনে দিয়েছে।”
বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও সোচ্চার
মরক্কো থেকে আসা এক মুসলিম বাবার সন্তান ইয়ামাল।
তিনি স্পেনে ইসলামবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।
মিসরের বিপক্ষে এক ম্যাচে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান উঠলে ইয়ামাল সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
“আমি একজন মুসলিম। এটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে বলা না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি আমার কাছে অসম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য নয়।”
মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি?
বার্সেলোনায় এখন মেসির কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সিই পরেন ইয়ামাল।
একই পজিশনে খেলার কারণে তাদের তুলনা দীর্ঘদিনের।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম বলেন,
“মেসির সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। তবে আমি যত খেলোয়াড় দেখেছি, ইয়ামালই মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি।”
ফাইনালে গোল না করেও ম্যাচের অন্যতম সেরা
ফাইনালে গোলের খাতায় নাম তুলতে না পারলেও ইয়ামালের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।
ডানপ্রান্তে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি। বল পেলেই মনে হচ্ছিল যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেবেন।
ইউরো থেকে বিশ্বকাপ—রেকর্ডের পর রেকর্ড
ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর এবার বিশ্বকাপও জিতলেন ইয়ামাল।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপ ও বিশ্ব—দুই মঞ্চেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন তিনি।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শুরু থেকেই তাকে নিজের মতো খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিদানও দিচ্ছেন ইয়ামাল।
মেসির অপূর্ণ বিদায়
এই বিশ্বকাপ জিতলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিদায় নিতে পারতেন লিওনেল মেসি।
এর আগে ২০০৭ কোপা আমেরিকা, ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের বেদনা তাকে বহন করতে হয়েছে।
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেই অবসর নিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে লিওনেল স্কালোনির অধীনে জেতেন দুটি কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।
কিন্তু এবার আর স্বপ্নপূরণ হলো না।
নতুন যুগের সূচনা
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন পরাজিত মেসি নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইয়ামালকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন, তখন ২০০৭ সালের সেই বাথটাবের ছবিটি যেন নতুন অর্থ পেল।
যে শিশুকে একদিন কোলে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি, সেই শিশুই আজ বিশ্বকাপ জিতে ফুটবল বিশ্বের নতুন নক্ষত্র।
সময়ের স্রোতে হয়তো ইয়ামাল একদিন মেসির সব রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন কি না, সেটি ভবিষ্যৎই বলবে। তবে আপাতত বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম, সবচেয়ে আলোচিত তরুণ এবং মেসির উত্তরাধিকার বহনের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে লামিন ইয়ামাল।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে মাদক বিক্রির সময় ‘হানিট্র্যাপ’খ্যাত লেডি ডন লাইলি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদক বিক্রির সময় কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ ও ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত লাইলি আক্তার (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির টাকা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকার রহমানিয়া সুপার মার্কেটের পেছনে ‘আহসান মঞ্জিল’ নামের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই লাইলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআই সাগর বড়ুয়া বলেন, “অভিযানকালে লাইলি আক্তারের দখল থেকে ১৫ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির টাকা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।”
সাগর বড়ুয়া, উপপরিদর্শক (এসআই), দেবীদ্বার থানা
গ্রেপ্তার লাইলি আক্তার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ঘোষঘর গ্রামের আবদুর রশিদ মিয়ার মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবীদ্বার এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারীকে ব্যবহার করে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলা, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং পরে সেগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের একটি চক্রের সঙ্গে লাইলির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল একই ‘আহসান মঞ্জিল’ থেকে পর্নোগ্রাফি মামলায় লাইলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।
গত ৭ এপ্রিল জাফরগঞ্জ মাজেদার আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোকবল হোসেন বাদী হয়ে লাইলি আক্তারকে এজাহারভুক্ত করে এবং অজ্ঞাতনামা তিন নারী ও পাঁচ পুরুষের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই মামলার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসা থেকে শিক্ষক মোকবল হোসেনকে উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, লাইলি আক্তাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটি প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে টার্গেট করত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী অভিযোগ করে বলেন, “লাইলি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিত্তশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও পরে অর্থ আদায়ের অভিযোগও শোনা যায়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা বলে থাকেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, স্থানীয় বাসিন্দা
তবে গ্রেপ্তার লাইলি আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ভালো হয়ে গেছি। আমার ছেলে মাদক ব্যবসা করে। ছেলে রাতে ঘুমিয়েছিল। তখন তার বন্ধুরা এসে ইয়াবা চাইলে আমি জানালা দিয়ে ইয়াবা দেওয়ার সময় পুলিশ আমাকে ধরে।”

লাইলি আক্তার খুবই ধুরন্দর। তিনি জামিনে এসে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। আগের পর্নোগ্রাফি মামলাটিও চলমান রয়েছে। এবার এই মামলার সূত্র ধরে তাঁর সহযোগীদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি লাইলি আক্তারকে ঘিরে থাকা কথিত অপরাধচক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাস্তবে ১০১, সরকারি নথিতে ৯০ : দারোরার সাবেক চেয়ারম্যানের বয়সে ১১ বছরের গরমিল!

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আবদুল লতিফের বয়স নিয়ে সরকারি নথি ও পারিবারিক দাবির মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি সামনে এসেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্মসাল ১৯৩৭; সে হিসাবে ২০২৬ সালে তাঁর বয়স ৯০ বছর। তবে তাঁর ছেলে মিজান কাজির দাবি, তাঁর বাবার প্রকৃত জন্মসাল ১৯২৫। সে হিসাবে চলতি বছরে তাঁর বয়স ১০১ বছর।
ফলে সরকারি নথির বয়সের সঙ্গে পারিবারিকভাবে জানানো বয়সের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১১ বছর। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কাজী আবদুল লতিফ কাজী রহিম উদ্দিন ও ফাতেমা বেগমের ছেলে। দীর্ঘদিন তিনি দারোরা ইউনিয়নের সামাজিক ও স্থানীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আমার বাবার জন্মসাল ১৯২৫। কিন্তু সরকারি নথিতে ১৯৩৭ সাল উল্লেখ রয়েছে। ফলে বয়সের হিসাবে ১১ বছরের একটি বড় গরমিল তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজী আবদুল লতিফ দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় পরিচিত ও প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান করছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথিতে থাকা বয়সের তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি রাখে।

কাজী আবদুল লতিফ আমাদের এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও মানুষ মনে রেখেছে। তাঁর বয়সের তথ্যের মধ্যে যে অসঙ্গতির কথা বলা হচ্ছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
সরকারি নথি, এনআইডি এবং জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বয়সের পার্থক্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তাই কাজী আবদুল লতিফের জন্মসাল ও বয়সের বিষয়টিও যথাযথ নথিপত্র যাচাই করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেবীদ্বারে বিএনপিতে যোগ দিয়েও গ্রেফতার এড়াতে পারেননি স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ইউপি সদস্য আলম হাজারী

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. আলম হাজারী (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে দেবীদ্বার থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার মো. আলম হাজারী বড়শালঘর গ্রামের আবুল হাসেম হাজারীর ছেলে। তিনি বড়শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুকবল হাজারীর দাবি, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এবং যুবলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার গাজী রাসেল বিন ছালামের নেতৃত্বে দাউদকান্দি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আলম হাজারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলে আলম হাজারী অর্থের জোগানদাতা ছিলেন। এ কারণে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ মিছিলের অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগে আলম হাজারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুকবল হাজারী দাবি করেছেন, মিছিলের দায় তার ওপর চাপিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আলম হাজারীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।
































