বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশের সামনেই মব তাণ্ডব, ব্যবস্থা নিল না পুলিশ! ধানমন্ডি-৩২-এ সাংবাদিক-রিকশাচালককে পিটুনি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৪ এএম
পুলিশের সামনেই মব তাণ্ডব, ব্যবস্থা নিল না পুলিশ! ধানমন্ডি-৩২-এ সাংবাদিক-রিকশাচালককে পিটুনি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

পুলিশের সামনেই মব তাণ্ডব, ব্যবস্থা নিল না পুলিশ! ধানমন্ডি-৩২-এ সাংবাদিক-রিকশাচালককে পিটুনি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও ‘মব’ সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় আসা এক যুবককে পুলিশ আটক করার পাশাপাশি সন্দেহের অভিযোগে এক সাংবাদিক ও এক রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
  • শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও ‘মব’ সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় আসা এক যুবককে পুলিশ আটক করার পাশাপাশি সন্দেহের অভিযোগে এক সাংবাদিক ও এক রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য মোতায়েন থাকলেও সাংবাদিক ও রিকশাচালককে মারধরের সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল অনেকটা নিষ্ক্রিয়।

পরে মারধরের শিকার ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফুল দিতে এসে আটক যুবক

সকালে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা বাড়ির সামনে ফুল দিতে আসেন অর্ণব দাস (৪০) নামে এক যুবক। সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অর্ণব নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাড়িতে করে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়।

‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে অবস্থান, সন্দেহ হলেই মারধরের অভিযোগ

ঘটনাস্থলে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল যুবক অবস্থান করছিলেন। তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তাদের পরিচয় জানতে চাইছিলেন। এরই মধ্যে কাউকে সন্দেহ হলেই মারধর করার অভিযোগ ওঠে।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৩২ নম্বরে প্রবেশ সড়কের মুখে এক রিকশাচালক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে আয়াস তার কাছে গিয়ে মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন। ওই রিকশাচালক ভিডিওটি যুবলীগের একজনকে পাঠিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে দলবদ্ধভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারধরে রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও প্রথম দিকে তারা হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে রিকশাচালককে থানায় নিয়ে যান।

সাংবাদিককেও মারধরের অভিযোগ

এরপর আরেক ব্যক্তিকে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সেখানে থাকা কয়েকজন। ওই ব্যক্তি নিজেকে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তার পরিচয় ও সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হলে তিনি ঘাবড়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে আ ন ম আয়াস ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

‘এটা মব নয়’—আয়াসের দাবি

দলবদ্ধভাবে মানুষকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য তারা সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মারধরের ঘটনাকে ‘মব’ বলতে রাজি নন আয়াস। তার দাবি, কাউকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিলে সেটি মব হতো। তারা কারও টাকা-পয়সা নিচ্ছেন না, তাই লোকজন নিয়ে কাউকে মারধর করলেও সেটিকে মব বলা যাবে না।

তার বক্তব্যের পক্ষ নিয়ে নিজেকে তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পরিচয় দেওয়া ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরও বক্তব্য দেন। তিনি দলবদ্ধভাবে মারধর করে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়াকেই মব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং আয়াসের কর্মকাণ্ডকে মব নয় বলে দাবি করেন।

পুলিশের বক্তব্য

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম সন্ধ্যা ৭টার দিকে বলেন, অর্ণব দাস নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে এবং তিনি নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ওসি বলেন, আরও দুজনকে থানায় আনা হয়েছিল—তাদের একজন সাংবাদিক এবং অন্যজন রিকশাচালক। তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল।

দৈনিক আজকের কথা
আরও দুজনকে থানায় আনা হয়েছিল। তাদের একজন সাংবাদিক এবং অন্যজন রিকশাচালক। কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
— মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ধানমন্ডি থানা

তবে ওসি দাবি করেন, সেখানে কোনো মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে মব সহিংসতার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ঘটল ঘটনা

ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। ধানমন্ডি থানা পুলিশের পাশাপাশি রিজার্ভ পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

৩২ নম্বর সড়কের দুই প্রান্তে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ব্যারিকেডের ভেতরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এপিবিএন সদস্যদের ফুটপাতে চেয়ার পেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বাড়ির সামনের লেকপাড়েও পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া এপিসি ও জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সাংবাদিক ও রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ ওঠায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG