পুলিশের সামনেই মব তাণ্ডব, ব্যবস্থা নিল না পুলিশ! ধানমন্ডি-৩২-এ সাংবাদিক-রিকশাচালককে পিটুনি

পুলিশের সামনেই মব তাণ্ডব, ব্যবস্থা নিল না পুলিশ! ধানমন্ডি-৩২-এ সাংবাদিক-রিকশাচালককে পিটুনি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও ‘মব’ সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় আসা এক যুবককে পুলিশ আটক করার পাশাপাশি সন্দেহের অভিযোগে এক সাংবাদিক ও এক রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য মোতায়েন থাকলেও সাংবাদিক ও রিকশাচালককে মারধরের সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল অনেকটা নিষ্ক্রিয়।
পরে মারধরের শিকার ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফুল দিতে এসে আটক যুবক
সকালে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা বাড়ির সামনে ফুল দিতে আসেন অর্ণব দাস (৪০) নামে এক যুবক। সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চান।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অর্ণব নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাড়িতে করে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়।
‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে অবস্থান, সন্দেহ হলেই মারধরের অভিযোগ
ঘটনাস্থলে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল যুবক অবস্থান করছিলেন। তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তাদের পরিচয় জানতে চাইছিলেন। এরই মধ্যে কাউকে সন্দেহ হলেই মারধর করার অভিযোগ ওঠে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৩২ নম্বরে প্রবেশ সড়কের মুখে এক রিকশাচালক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে আয়াস তার কাছে গিয়ে মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন। ওই রিকশাচালক ভিডিওটি যুবলীগের একজনকে পাঠিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে দলবদ্ধভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারধরে রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও প্রথম দিকে তারা হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে রিকশাচালককে থানায় নিয়ে যান।
সাংবাদিককেও মারধরের অভিযোগ
এরপর আরেক ব্যক্তিকে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সেখানে থাকা কয়েকজন। ওই ব্যক্তি নিজেকে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু তার পরিচয় ও সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হলে তিনি ঘাবড়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আ ন ম আয়াস ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
‘এটা মব নয়’—আয়াসের দাবি
দলবদ্ধভাবে মানুষকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য তারা সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মারধরের ঘটনাকে ‘মব’ বলতে রাজি নন আয়াস। তার দাবি, কাউকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিলে সেটি মব হতো। তারা কারও টাকা-পয়সা নিচ্ছেন না, তাই লোকজন নিয়ে কাউকে মারধর করলেও সেটিকে মব বলা যাবে না।
তার বক্তব্যের পক্ষ নিয়ে নিজেকে তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পরিচয় দেওয়া ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরও বক্তব্য দেন। তিনি দলবদ্ধভাবে মারধর করে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়াকেই মব হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং আয়াসের কর্মকাণ্ডকে মব নয় বলে দাবি করেন।
পুলিশের বক্তব্য
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম সন্ধ্যা ৭টার দিকে বলেন, অর্ণব দাস নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে এবং তিনি নিজেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ওসি বলেন, আরও দুজনকে থানায় আনা হয়েছিল—তাদের একজন সাংবাদিক এবং অন্যজন রিকশাচালক। তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল।
তবে ওসি দাবি করেন, সেখানে কোনো মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মব সহিংসতার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ঘটল ঘটনা
ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। ধানমন্ডি থানা পুলিশের পাশাপাশি রিজার্ভ পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
৩২ নম্বর সড়কের দুই প্রান্তে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ব্যারিকেডের ভেতরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এপিবিএন সদস্যদের ফুটপাতে চেয়ার পেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বাড়ির সামনের লেকপাড়েও পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া এপিসি ও জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সাংবাদিক ও রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ ওঠায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
ফরিদা হত্যাসহ সব হত্যার বিচার দাবিতে দেবীদ্বারে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশে গুম, খুন, মাদক, সন্ত্রাস, ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে দেবীদ্বার নিউমার্কেটের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড পরেশ কর।
তিনি বলেন, “ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির একটি নির্মম বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভূমিহীন সংগঠনের উপজেলা সভাপতি মো. মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভূমিহীন নেতা …-এর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নিজেরা করি সংস্থার বিভাগীয় সংগঠক মতিউর রহমান, আব্দুল জব্বার, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, ভূমিহীন নেতা বাদল মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
দুই দশক ধরে চরম জনভোগান্তি
২০ বছরেও শেষ হয়নি ডাকাতিয়া নদীর হাওরা ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত হাওরা ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঝলম ও হাওরাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মিত অংশটি এখন কার্যত ধান শুকানো ও গবাদিপশু রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০০৫ সালে শুরু, শেষ হয়নি ২০ বছরেও
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম কর্নেল (অব.) এম আনোয়ার উল আজিম ঝলম ইউনিয়নের ডাকাতিয়া নদীর ওপর হাওরা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
কিন্তু সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট ও প্রয়োজনীয় পাকাকরণ না করেই ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। ফলে উঁচু সেতুটি নির্মিত হলেও সেটিতে ওঠা ও স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলের উপযোগী কোনো ব্যবস্থা তৈরি হয়নি।
‘সেতু আছে, চলাচলের ব্যবস্থা নেই’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝলম ও হাওরা গ্রামের মধ্যবর্তী ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক সম্পন্ন না হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না তারা। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। বর্তমানে সেতুর ওপর ও আশপাশে ধান শুকানো এবং গবাদিপশু রাখার মতো কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটি দ্রুত চালু করা গেলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে।
নতুন করে টেন্ডারের উদ্যোগ
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ঠিকাদার সেতুর কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছেন। বর্তমানে সেতুটি সংস্কার ও অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত কাজ শেষ এবং সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
নারী শিক্ষায় ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান
৩৩ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি, কটিয়াদী বালিকা বিদ্যালয় সরকারীকরণের জোর দাবি

১৯৯৩ সালে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারীকরণ হয়নি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সরকারীকরণের দাবি জানিয়েছেন কটিয়াদীবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু একটি বিদ্যালয়কে সরকারীকরণের বিষয় নয়; বরং কটিয়াদী উপজেলার নারী শিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং একটি ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্ন।
১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার ঘোষণা
১৯৯৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কটিয়াদী সফরকালে কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. কামাল সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সরকারীকরণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘ ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবায়িত হবে এবং তারেক রহমানের হাত ধরে খালেদা জিয়ার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ মিলবে।
ছয় দশকের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক ও বিজ্ঞানচর্চায়ও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুনাম। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বহু নারী বর্তমানে প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, বিচার বিভাগ ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
বিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রায় ১ একর ৯৩ শতাংশ জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য এ জমি যথেষ্ট।
২৬ শিক্ষকের ১২ পদই শূন্য
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হলে শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার ব্যয় কমে আসবে এবং আরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।
‘অন্য পাইলট বিদ্যালয় সরকারি, বালিকা বিদ্যালয় কেন নয়?’
অভিভাবক মোহাম্মদ মতিউর রহমান কাজল ও সাবেক প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা বলেন, কটিয়াদীর অন্য পাইলট বিদ্যালয় ইতোমধ্যে সরকারীকরণ হয়েছে। অথচ নারী শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় দীর্ঘদিনেও সরকারি হয়নি।
তাদের মতে, নারী শিক্ষার প্রসার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত এ বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা জরুরি।
‘সব নথিপত্র এখনও সংরক্ষিত’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালাহ উদ্দিন ভূঞা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান কাঞ্চন জানান, সরকারীকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।
তারা বলেন, সরকারীকরণের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এত দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি সরকারি করার দাবি জানান তারা।
এমপি জালাল উদ্দিনের আশ্বাস
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বিদ্যালয়টির সরকারীকরণে দীর্ঘসূত্রতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এখন শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা
কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি কটিয়াদীর নারী শিক্ষার দীর্ঘ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে থাকা জনপদের মেয়েদের শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দূর, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সরকারীকরণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।


































