শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

“ব্যক্তিগত আলাপ, তবু গ্রেপ্তারের নোটিশ! ওসি রাকিবুল ইস্যুতে বাড়াবাড়ির প্রশ্ন”

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ওসি মো. রাকিবুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • অডিওটির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন, এরই মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি; ওসি রাকিবুলের বক্তব্য—ভাইরাল অডিওটি তার নয়, এআই দিয়ে তৈরি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত অডিও নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে লিগ্যাল নোটিশ ঘিরে।
  • অডিওটির সত্যতা, উৎস ও সম্পাদনা নিয়ে এখনো প্রকাশ্যভাবে চূড়ান্ত কোনো ফরেনসিক যাচাই সামনে না এলেও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় অনেকে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
  • বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান।

অডিওটির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন, এরই মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি; ওসি রাকিবুলের বক্তব্য—ভাইরাল অডিওটি তার নয়, এআই দিয়ে তৈরি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত অডিও নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে লিগ্যাল নোটিশ ঘিরে। অডিওটির সত্যতা, উৎস ও সম্পাদনা নিয়ে এখনো প্রকাশ্যভাবে চূড়ান্ত কোনো ফরেনসিক যাচাই সামনে না এলেও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় অনেকে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে কথিত অডিওটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক প্রমাণ থাকলে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওকে কেন্দ্র করে, যার সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই আপত্তি জানিয়েছেন, তদন্তের ফল পাওয়ার আগেই গ্রেপ্তারের মতো কঠোর পদক্ষেপের দাবি কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে অডিওটি যদি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে পুরো আলাপ, প্রেক্ষাপট ও বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিবেচনা না করে বিচ্ছিন্ন অংশকে কেন্দ্র করে সামাজিক বা আইনি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কতটা গ্রহণযোগ্য—সেটিও আলোচনার দাবি রাখে।

ওসি রাকিবুল ইসলাম অবশ্য অডিওটির বক্তব্য নিজের বলে স্বীকার করেননি। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এমন প্রচারে একজন মানুষের মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারই ওসি রাকিবুল ইসলামকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত অডিওটি আসল কি না, সম্পূর্ণ কথোপকথন কী ছিল, বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিতে আদৌ কোনো আইন বা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের উপাদান রয়েছে কি না। প্রযুক্তিগতভাবে অডিও যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারকে ভিত্তি করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য বা অডিও ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত জনমত তৈরি এবং সেই জনমতের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি করার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগের তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সামাজিক প্রচারই যদি বিচারের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি ব্যক্তি অধিকার ও ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

লিগ্যাল নোটিশে অবশ্যই অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের দাবি রয়েছে। কিন্তু একই নোটিশে তদন্তের আগেই গ্রেপ্তারের দাবি ওঠায় প্রশ্ন থাকছে—তদন্ত আগে, নাকি সামাজিক প্রচারের ভিত্তিতে শাস্তির দাবি আগে? একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন; একইভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য না করাও আইনের স্বাভাবিক নীতির অংশ।

ওসি রাকিবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কিংবা অডিওটির প্রকৃত উৎস তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অডিও সত্য হলেও বক্তব্যটি ব্যক্তিগত আলাপের অংশ ছিল কি না, তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী এবং সেটি কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন করেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু ভাইরাল হওয়ার ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা গ্রেপ্তারের দাবি তোলা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বক্তব্যের সত্যতা যাচাই, পূর্ণ প্রেক্ষাপট প্রকাশ এবং আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ বা অতিরঞ্জিত প্রচারের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

৩৮ বছরের গৌরবময় পথচলা, সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের জন্মদিন ২২ সেপ্টেম্বর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৩ এএম
৩৮ বছরের গৌরবময় পথচলা, সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের জন্মদিন ২২ সেপ্টেম্বর

প্রিন্ট থেকে টেলিভিশন, টেলিভিশন থেকে ডিজিটাল—গণমাধ্যমের তিন যুগে নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন প্রবীণ এই সাংবাদিক

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিবর্তনের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে যার কর্মজীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি প্রবীণ সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল—গণমাধ্যমের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে রাশেদ আহমেদ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, বেসরকারি টেলিভিশন এবং ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। মাঠের রিপোর্টিং থেকে শুরু করে সংবাদ পরিকল্পনা, বিশেষ প্রতিবেদন এবং সংবাদকক্ষ পরিচালনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা।

দৈনিক আজকের কথা
রাশেদ আহমেদ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মাঠপর্যায়ের কঠোর রিপোর্টিং থেকে শুরু করে টেলিভিশনের সিএনই বা দৈনিক পত্রিকার ডিজিটাল প্রধান—প্রতিটি জায়গায় তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরের এই বর্ণিল পথচলায় তিনি বহু তরুণ সাংবাদিকের অভিভাবক ও মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সজ্জন সাংবাদিকের জন্মদিনে আমি তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আশা করি, তিনি তাঁর ক্ষুরধার চিন্তাভাবনা দিয়ে আমাদের গণমাধ্যমকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
— এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

প্রিন্ট সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দৈনিক সমকালের শুরুর দিকের পথচলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে দৈনিক যুগান্তরেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জাতীয় দৈনিক দৈনিক সংবাদেও তিনি তাঁর পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশের সময়ও রাশেদ আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একুশে টেলিভিশনের শুরুর সময় তিনি রিপোর্টার হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। পরে চ্যানেল আইয়ে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন করেন।

যমুনা টেলিভিশনে তিনি প্ল্যানিং এডিটর হিসেবে সংবাদ পরিকল্পনা ও সংবাদকক্ষের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মাছরাঙা টেলিভিশনে চিফ নিউজ এডিটর হিসেবে সংবাদ বিভাগের নেতৃত্ব দেন।

প্রিন্ট ও টেলিভিশনের অভিজ্ঞতার পর ডিজিটাল সাংবাদিকতার যুগেও নিজেকে নতুনভাবে যুক্ত করেছেন রাশেদ আহমেদ। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন জাতীয় দৈনিক দৈনিক সংবাদের ডিজিটাল প্রধান (Head of Digital) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বে তিনি অনলাইন কনটেন্ট ও ডিজিটাল সংবাদ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গণমাধ্যমের নেপথ্যের সম্পাদকীয় দায়িত্বের পাশাপাশি রাশেদ আহমেদ একজন পরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বিভিন্ন সময় টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়েছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বিশ্লেষণ এবং মতামত টেলিভিশন দর্শকদের সামনে এসেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়েও তাঁর কলাম ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

প্রায় চার দশকের কাছাকাছি সাংবাদিকতার পথচলায় রাশেদ আহমেদ শুধু নিজেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেননি, তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সহকর্মী ও অনুজ সাংবাদিকদের কাছে তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাশেদ আহমেদের জন্মদিন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের এই বিশেষ দিনে সহকর্মী, অনুজ সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। তাঁর পেশাগত পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এটাই প্রত্যাশা।

কুমিল্লা মহাসড়কে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, চান্দিনায় আটক ৩

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
কুমিল্লা মহাসড়কে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, চান্দিনায় আটক ৩

আদালতের রায়ের প্রতিবাদে মিছিল; ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ, বাকিরা পালিয়ে যায়

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা অংশে ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দিনা, দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী তীরচর-লাজৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটের দিকে মুরাদনগরের লাজৈর এলাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চান্দিনার তীরচরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুনের নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয়। মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

পুলিশের হাতে আটক তিনজন হলেন—কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার হাটাশ গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো. সারোয়ার (১৬), একই থানার দৌলবাড়ি গ্রামের মৃত শিশু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৭) এবং দেবীদ্বার উপজেলার ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সারোয়ার হোসেন রাকিব (৩০)।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ‘কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ’ লেখা একটি ব্যানার ও কয়েকটি বাংলাদেশের পতাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে টহল দেওয়ার সময় মিছিলকারীদের আটক করা হয়েছে। তবে আটকের স্থানটি মুরাদনগর থানা এলাকার মধ্যে পড়ায় আটক ব্যক্তিদের মুরাদনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা মহাসড়কে টহলরত অবস্থায় তাদের আটক করি। যে স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছে, সেটি থানার সীমানার দিক থেকে মুরাদনগর থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। সে কারণে তাদের মুরাদনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
— মো. নুরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), চান্দিনা থানা, কুমিল্লা

পুলিশের এই আটকের ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ দেখছে।

এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জিন্নাহর বাপ হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের দাবি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম
জিন্নাহর বাপ হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের দাবি

জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’—নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যে ফজলুর রহমান

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’; তিনি হিন্দু ছিলেন—এমন দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ফজলুর রহমান বলেন, জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। সেখানে একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং মাছ বিক্রেতাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’ এবং তিনি হিন্দু ছিলেন।

দৈনিক আজকের কথা
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।
— অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান
সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-৪

তিনি আরও দাবি করেন, মাছ বিক্রি করার কারণে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজে ওই পরিবারকে অবজ্ঞার শিকার হতে হতো। পরবর্তী সময়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাখা হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রচলিত ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পাকিস্তানের সরকারি কায়েদ-ই-আজম একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জা ছিলেন তাঁর পিতা এবং জিন্নাহর জন্মের সময় পরিবারটি মুসলিম ছিল। অন্যান্য জীবনীমূলক সূত্রেও জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী এবং গুজরাটি খোজা মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গবেষণামূলক কিছু সূত্রে জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু সম্প্রদায় থেকে ইসলাম গ্রহণের ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে। ফলে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘জিন্নাহর বাবা হিন্দু ছিলেন’—এই দাবিটি এবং জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু শিকড়—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতারাও ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে হতাশা থেকেই ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম এগিয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি। নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি ২৩ বছর বয়সে যুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধ সংগঠিত করার কাজেও যুক্ত ছিলেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্যের পথে চলতে হবে এবং সত্য কথা বলতে হবে। অন্ধকার দূর করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

×
ENG