‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে’ —অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন

রাশেদ আহমেদ, বার্তা প্রধান, সংবাদ ও অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন, আইন বিভাগের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানকে পরিবর্তন বা নস্যাৎ করার জন্য একটি ‘গোপন এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রাষ্ট্র সংস্কারের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংবিধান, জাতীয় সংগীত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদালতপাড়ায় সংবিধান হাতে নিয়ে তা সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন। এ সময় তিনি দীর্ঘ তিন মাস কারাভোগ করেছেন বলে জানান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জুলাই আন্দোলন, জুলাই সনদ, গণভোট, রাষ্ট্র সংস্কার, দায়মুক্তি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি।
‘মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার মানে নিজের শেকড় অস্বীকার’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান—এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ভিত্তি। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ করেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্লেষণ করলে তার কাছে প্রশ্ন আসে—বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকে কেউ অস্বীকার করলে তার অবস্থান কী হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা মানে নিজের শেকড়, নিজের মা-বাবাকে অস্বীকার করার মতো—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
‘রাষ্ট্র সংস্কারকে ঢাল বানিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা’
৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অধ্যাপক কার্জন বলেন, তখন রাষ্ট্রে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ছিল না এবং সংসদ সদস্যদের অধিকাংশই অনুপস্থিত ছিলেন। তার মতে, ওই পরিস্থিতিতে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা প্রয়োজনীয়তার নীতির ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
তবে তার অভিযোগ, ক্ষমতায় যাওয়ার পর পুলিশ ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি, সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, আমলাতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং অর্থনীতিও স্বাভাবিকভাবে চলছিল না।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। রাষ্ট্র সংস্কারের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে।
অধ্যাপক কার্জনের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পাঁচ বছর, দশ বছর কিংবা অনির্দিষ্ট সময় ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
‘রিসেট বাটন দিয়ে বাংলাদেশকে পাল্টানোর চেষ্টা’
ড. ইউনূসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এবং ‘রিসেট বাটন’ প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক কার্জন বলেন, এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি মনে করেন বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তার অভিযোগ, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর কথা বলা হয়েছে, সংবিধান কবর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফ্যাসিবাদের চেতনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের ভবন ভাঙা, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারক ও ইতিহাসের ওপর আক্রমণ, বেগম রোকেয়ার মুখ কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া, বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু ও কবি জীবনানন্দ দাশের নাম মুছে ফেলার মতো ঘটনাগুলোও তিনি এ প্রসঙ্গে তুলে ধরেন।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অধ্যাপক কার্জন বলেন, শুধু হিন্দু পরিচয়ের কারণে অনেকে পেশাগতভাবে পদচ্যুত বা পদাবনতি পেয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছিল।
‘সংবিধানে সমস্যা থাকলে সংশোধনের সুযোগ আছে’
বাংলাদেশের সংবিধানের সমস্যা কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক কার্জন বলেন, পৃথিবীর কোনো সংবিধানই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন ও আধুনিকায়নের সুযোগ থাকে।
তার মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে একটি সংবিধানের প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল এবং সেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা কিংবা সাংবিধানিক কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের মতো বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
তার প্রশ্ন—তাহলে সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘এক্সট্রা-কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’-এর প্রয়োজন কেন?
‘জনগণের অর্ধেককে বাদ দিয়ে জনগণের চার্টার হয় না’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, একটি দেশের অর্ধেক মানুষকে বাদ দিয়ে কোনো চার্টারকে জনগণের চার্টার বলা যায় না।
তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে যে ঘাটতি ছিল, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলকতার অভাব অন্যতম। ফলে যে চার্টারকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে জনসংশ্লিষ্টতা থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কিছু নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক জুলাই সনদকে ‘এলিট সেটেলমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ অসাংবিধানিক’
বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি—এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, বিএনপি এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তার বক্তব্য, বর্তমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিধান নেই। তাই সংবিধানের বাইরে গিয়ে ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগও নেই।
‘গণভোটের বিধান সংবিধানে নেই’
গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই। ফলে এ জন্য অধ্যাদেশ করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদিত না হলে গণভোটের আইনগত ভিত্তি কী থাকবে।
এ ছাড়া গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার সুযোগ না দেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে নামানোর অভিযোগও তিনি তোলেন।
নির্বাচন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেছে—এমন দাবি করে অধ্যাপক কার্জন এ নিয়ে ভবিষ্যৎ আইনি প্রশ্নের কথাও উল্লেখ করেন।
তার দেওয়া হিসাবে, গণভোটে ৬৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ৩০ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছে এবং ১১টি জেলায় ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। তার মতে, ৩০ শতাংশ ‘না’ ভোটকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
‘চার প্রশ্নের মধ্যে ৪৮টি প্রশ্ন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে’
জুলাই সনদের চারটি প্রশ্নের মধ্যে ৪৮টি প্রশ্ন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অধ্যাপক কার্জন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব নিজে পড়তে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন। তিনি হুকুমত কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া অধ্যাপক শাহদীন মালিকসহ বিভিন্ন অধ্যাপক, বিশ্লেষক ও আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
‘প্রত্যেকটি হত্যার বিচার হতে হবে’
জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, পুলিশ হোক কিংবা সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকটি জীবন গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকটি হত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন।
তার বক্তব্য, পুলিশ যেমন ইচ্ছেমতো কাউকে হত্যা করতে পারে না, তেমনি আন্দোলনকারীরাও ইচ্ছেমতো পুলিশকে হত্যা করতে পারে না।
পুলিশ হত্যার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে লাশ জ্বালিয়ে দেওয়া, গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া, কোপানোর পর গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তার দাবি, সরকারি হিসাবে ৪৬ জন পুলিশ নিহত হয়েছেন এবং বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটি আরও বেশি।
আইনের অধ্যাপক হিসেবে তিনি বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ড আত্মরক্ষার কারণে হয়ে থাকলে সেটিও আইনের নির্ধারিত মানদণ্ডে প্রমাণ করতে হবে।
‘নিঃশর্ত দায়মুক্তি পৃথিবীর কোনো দেশে দেওয়া হয় না’
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে দেওয়া দায়মুক্তির সমালোচনা করে অধ্যাপক কার্জন বলেন, এটি ‘নিঃশর্ত দায়মুক্তি’ এবং পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হয় না বলে তিনি মনে করেন।
তার বক্তব্য, আন্দোলনকারীদের হাতে পুলিশ হত্যা যেমন তদন্তের আওতায় আসতে হবে, তেমনি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করতে হবে।
কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই শক্তি প্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না—তা আইনের মানদণ্ডে নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘মেটিকুলাস ডিজাইন দিয়ে রাষ্ট্র চলতে পারে না’
অধ্যাপক কার্জনের ভাষ্য, ড. ইউনূসের কথিত ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে দেশকে বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা কথিত ২২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া যদি কোনো চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারে, তাহলে বাংলাদেশও বের হওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত শিক্ষা, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য। সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
‘জনগণের সামনে পরিষ্কার এজেন্ডা দিতে হবে’
গোপন এজেন্ডা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনা করে অধ্যাপক কার্জন বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে।
তার ভাষায়, ‘এই আমার এজেন্ডা, এটা আমি করতে চাই’—এভাবে জনগণের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত দেবে তারা সেটি সমর্থন করবে কি না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সংগীত ও সংবিধান নিয়ে পরিবর্তনের নানা বক্তব্য সামনে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির ‘বি-টিমে’ পরিণত হয়েছে।
‘দায়মুক্তির প্রশ্ন তিনবার এসেছে’
দায়মুক্তির প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, এই প্রশ্ন তিনবার সামনে এসেছে। একবার নির্বাহী আদেশে ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট—এবং ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে আরও দুটি অধ্যাদেশ দায়মুক্তির জন্য করা হয়েছে।
তার প্রশ্ন, ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে দায়মুক্তির প্রশ্ন ওঠেনি, ১৯৯০ সালের আন্দোলনেও ওঠেনি—তাহলে এবার দায়মুক্তির প্রশ্ন কেন এসেছে?
তার মতে, আগে নির্ধারণ করতে হবে—এটা কতটা আন্দোলন, কতটা নাশকতা, কতটা ষড়যন্ত্র এবং কতটা ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’। এরপরই বোঝা যাবে কোথায় কী ঘটেছে।
শেষ কথা
দীর্ঘ এই আলাপচারিতায় অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ, গণভোট, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দায়মুক্তি নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন ও অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: রাশেদ আহমেদ
বার্তা প্রধান, সংবাদ
অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন
আইন বিভাগের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
৩৮ বছরের গৌরবময় পথচলা, সাংবাদিক রাশেদ আহমেদের জন্মদিন ২২ সেপ্টেম্বর

প্রিন্ট থেকে টেলিভিশন, টেলিভিশন থেকে ডিজিটাল—গণমাধ্যমের তিন যুগে নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন প্রবীণ এই সাংবাদিক
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিবর্তনের দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে যার কর্মজীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি প্রবীণ সাংবাদিক রাশেদ আহমেদ। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল—গণমাধ্যমের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রায় ৩৮ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে রাশেদ আহমেদ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক, বেসরকারি টেলিভিশন এবং ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। মাঠের রিপোর্টিং থেকে শুরু করে সংবাদ পরিকল্পনা, বিশেষ প্রতিবেদন এবং সংবাদকক্ষ পরিচালনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা।

রাশেদ আহমেদ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মাঠপর্যায়ের কঠোর রিপোর্টিং থেকে শুরু করে টেলিভিশনের সিএনই বা দৈনিক পত্রিকার ডিজিটাল প্রধান—প্রতিটি জায়গায় তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরের এই বর্ণিল পথচলায় তিনি বহু তরুণ সাংবাদিকের অভিভাবক ও মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সজ্জন সাংবাদিকের জন্মদিনে আমি তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আশা করি, তিনি তাঁর ক্ষুরধার চিন্তাভাবনা দিয়ে আমাদের গণমাধ্যমকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
প্রিন্ট সাংবাদিকতায় রাশেদ আহমেদ দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দৈনিক সমকালের শুরুর দিকের পথচলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে দৈনিক যুগান্তরেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জাতীয় দৈনিক দৈনিক সংবাদেও তিনি তাঁর পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতার বিকাশের সময়ও রাশেদ আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একুশে টেলিভিশনের শুরুর সময় তিনি রিপোর্টার হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। পরে চ্যানেল আইয়ে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন অনুসন্ধানী ও বিশেষ প্রতিবেদন করেন।
যমুনা টেলিভিশনে তিনি প্ল্যানিং এডিটর হিসেবে সংবাদ পরিকল্পনা ও সংবাদকক্ষের কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মাছরাঙা টেলিভিশনে চিফ নিউজ এডিটর হিসেবে সংবাদ বিভাগের নেতৃত্ব দেন।
প্রিন্ট ও টেলিভিশনের অভিজ্ঞতার পর ডিজিটাল সাংবাদিকতার যুগেও নিজেকে নতুনভাবে যুক্ত করেছেন রাশেদ আহমেদ। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন জাতীয় দৈনিক দৈনিক সংবাদের ডিজিটাল প্রধান (Head of Digital) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বে তিনি অনলাইন কনটেন্ট ও ডিজিটাল সংবাদ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
গণমাধ্যমের নেপথ্যের সম্পাদকীয় দায়িত্বের পাশাপাশি রাশেদ আহমেদ একজন পরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বিভিন্ন সময় টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়েছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বিশ্লেষণ এবং মতামত টেলিভিশন দর্শকদের সামনে এসেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়েও তাঁর কলাম ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় চার দশকের কাছাকাছি সাংবাদিকতার পথচলায় রাশেদ আহমেদ শুধু নিজেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেননি, তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক তরুণ সাংবাদিকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সহকর্মী ও অনুজ সাংবাদিকদের কাছে তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাশেদ আহমেদের জন্মদিন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের এই বিশেষ দিনে সহকর্মী, অনুজ সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। তাঁর পেশাগত পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এটাই প্রত্যাশা।
কুমিল্লা মহাসড়কে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, চান্দিনায় আটক ৩

আদালতের রায়ের প্রতিবাদে মিছিল; ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ, বাকিরা পালিয়ে যায়
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা অংশে ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দিনা, দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী তীরচর-লাজৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটের দিকে মুরাদনগরের লাজৈর এলাকা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চান্দিনার তীরচরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুনের নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয়। মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
পুলিশের হাতে আটক তিনজন হলেন—কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার হাটাশ গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো. সারোয়ার (১৬), একই থানার দৌলবাড়ি গ্রামের মৃত শিশু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৭) এবং দেবীদ্বার উপজেলার ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সারোয়ার হোসেন রাকিব (৩০)।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ‘কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ’ লেখা একটি ব্যানার ও কয়েকটি বাংলাদেশের পতাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে টহল দেওয়ার সময় মিছিলকারীদের আটক করা হয়েছে। তবে আটকের স্থানটি মুরাদনগর থানা এলাকার মধ্যে পড়ায় আটক ব্যক্তিদের মুরাদনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আমরা মহাসড়কে টহলরত অবস্থায় তাদের আটক করি। যে স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছে, সেটি থানার সীমানার দিক থেকে মুরাদনগর থানা এলাকার মধ্যে পড়ে। সে কারণে তাদের মুরাদনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশের এই আটকের ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ দেখছে।
এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জিন্নাহর বাপ হিন্দু, বাড়ি ভারতে—এমপি ফজলুরের দাবি

জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’—নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যে ফজলুর রহমান
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তার প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’; তিনি হিন্দু ছিলেন—এমন দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
ফজলুর রহমান বলেন, জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। সেখানে একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং মাছ বিক্রেতাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর প্রকৃত নাম ছিল ‘জিন্নাহ পুঞ্জা’ এবং তিনি হিন্দু ছিলেন।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মাছ বিক্রি করার কারণে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজে ওই পরিবারকে অবজ্ঞার শিকার হতে হতো। পরবর্তী সময়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাখা হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রচলিত ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। পাকিস্তানের সরকারি কায়েদ-ই-আজম একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জা ছিলেন তাঁর পিতা এবং জিন্নাহর জন্মের সময় পরিবারটি মুসলিম ছিল। অন্যান্য জীবনীমূলক সূত্রেও জিন্নাহভাই পুঞ্জাকে ব্যবসায়ী এবং গুজরাটি খোজা মুসলিম পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গবেষণামূলক কিছু সূত্রে জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু সম্প্রদায় থেকে ইসলাম গ্রহণের ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে। ফলে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘জিন্নাহর বাবা হিন্দু ছিলেন’—এই দাবিটি এবং জিন্নাহ পরিবারের পূর্বপুরুষদের হিন্দু শিকড়—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ফজলুর রহমান জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯১৬ সালের লখনৌ চুক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সমঝোতায়ও জিন্নাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালি নেতারাও ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে হতাশা থেকেই ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম এগিয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ১১ দফা ও ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি। নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি ২৩ বছর বয়সে যুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধ সংগঠিত করার কাজেও যুক্ত ছিলেন।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্যের পথে চলতে হবে এবং সত্য কথা বলতে হবে। অন্ধকার দূর করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আলো জ্বালানোর চেষ্টা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






























