দেবীদ্বারে ৫২ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০টিতে পেল ক্রীড়া সামগ্রী

দেবীদ্বারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
৫২ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম ধাপে পেল ১০টি
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৫২টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম ধাপে ১০টি বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ক্রীড়া পরিদপ্তর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য কোটায় বরাদ্দ পাওয়া এসব সামগ্রী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে এ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর, দেবীদ্বার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নাল হোসেন (ভিপি ময়নাল), এনসিপি উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ক্রীড়া পরিদপ্তর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য কোটায় পাওয়া বরাদ্দের ক্রীড়া সামগ্রী প্রথম ধাপে ১০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিতরণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়েও এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে বাকি বিদ্যালয়গুলোতেও ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকসহ নানা অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের আগ্রহী করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
রিজভিউল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কারের দাবিতে দেবীদ্বারে বিএনপির মানববন্ধন

দুই বিএনপি নেতাকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ
দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকার ও এলাহাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেবীদ্বারের এলাহাবাদ বাজারে এলাহাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা অধ্যাপক আক্তার হোসেন, দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য মো. জালাল উদ্দীন তপন, এলাহাবাদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কৃষক দলের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. লিটন, এলাহাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক মেম্বার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হেলাল, মো. ইব্রাহিম, এলাহাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুয়েলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঢাকার গুলশানের বাসভবনে বিএনপির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সরকার ও এলাহাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, দলের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তারা ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, মো. নজরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তারা তাকে দলের দুর্দিনের একজন কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, একই ঘটনায় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ৪ অক্টোবর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশে নজরুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দেবীদ্বার থেকে কক্সবাজার, আর ফেরা হলো না সীমার

অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মাদরাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু
কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে ১৭ জনের একটি দল গিয়েছিল কক্সবাজারে বেড়াতে। সবার সঙ্গে আনন্দে ঘুরে বেড়ালেও বাড়ি ফেরার আগেই থেমে গেল ১৭ বছর বয়সী সীমা আক্তারের জীবন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই মাদরাসাছাত্রীর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকার মাহাবুব আলমের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে দেবীদ্বারের বড় আলমপুর থেকে ১৭ জনের একটি দল কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। মঙ্গলবার সকালে তারা সবাই মিলে সুগন্ধা সৈকতে সময় কাটান। পরে সেখান থেকে ফেরার পথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন সীমা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশায় যাওয়ার সময় হঠাৎ সীমার পরনের ওড়না পেছনের একটি চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া স্বজনদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। যে মেয়েটি পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে কক্সবাজার গিয়েছিল, তার আর দেবীদ্বারের বাড়িতে ফেরা হলো না।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক দিবসে প্রিয় চার শিক্ষকের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা

শিক্ষকের হাতে গড়া শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো অনেক বছর পেরিয়েও স্মৃতির পাতায় অমলিন থাকে। সময় বদলায়, শিক্ষার্থী বড় হয়, কর্মজীবনে ছড়িয়ে পড়ে—কিন্তু প্রিয় শিক্ষকদের শাসন, স্নেহ, শেখানো কথা আর অনুপ্রেরণা থেকে যায় আজীবন। শিক্ষক দিবসে তেমনই চার প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
তার হাইস্কুল জীবনের প্রিয় এই চার শিক্ষক হলেন—শাহজাহান স্যার, আবুল হোসেন স্যার, মান্নান স্যার ও মোস্তফা বিএসসি স্যার। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে তারা সবাই বর্তমানে অবসরজীবনে রয়েছেন।
শাহজাহান স্যার ছিলেন বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার গাইটুলি এলাকায়। শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলা শেখানোর পাশাপাশি তার আন্তরিকতা ও স্নেহের জন্যও তিনি ছিলেন প্রিয়।
আবুল হোসেন স্যার পড়াতেন বাংলা ও ইংরেজি। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতলে। ভাষা শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি তার আন্তরিক আচরণও সাবেক শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে।
মান্নান স্যার ছিলেন গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক। তার বাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার বৈষরকুট এলাকায়। আর মোস্তফা বিএসসি স্যার ছিলেন গণিতের শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের কাছে যিনি পরিচিত ছিলেন ‘গণিতের জাদুকর’ হিসেবে। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার পায়ব এলাকায়।
শিক্ষক দিবসে তাদের স্মরণ করে শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, জীবনের পথচলায় অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, কিন্তু শিক্ষকদের অবদান কখনো মুছে যায় না। তাদের শেখানো জ্ঞান, শাসন ও ভালোবাসা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে নীরবে কাজ করে যায়।
তিনি বলেন, “আমার হাইস্কুল জীবনের প্রিয় স্যারদের প্রতি আজকের শিক্ষক দিবসে রইল সশ্রদ্ধ সালাম ও দোয়া। আল্লাহ তাদের সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন দান করুন।”
একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, সন্তানদের শুধু পড়াশোনার দায়িত্ব শিক্ষকের ওপর ছেড়ে না দিয়ে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের নিয়মিত খোঁজ রাখতে। ব্যস্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের জন্য রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
তার ভাষায়, “প্রিয় অভিভাবক, আপনার বাচ্চার যত্ন নিন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন। আপনার ব্যস্ততার একটা বড় অংশ হোক আপনার বাচ্চাদের জন্য।”
দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়া জানিয়েছেন তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।


























