বগুড়ায় চামড়ার বাজারে ধস: অসংখ্য চামড়া অবিক্রীত, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিতে
চামড়ার বাজার বগুড়া জেলায় এবারও চরম সংকটে পড়েছে। কোরবানির পর শহরে কিছু চামড়া বিক্রি হলেও গ্রামে ক্রেতার অভাবে অসংখ্য গরু, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া অবিক্রীত পড়ে আছে। গরুর চামড়া সামান্য মূল্যে বিক্রি হলেও ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কেউ নিচ্ছেন না।
শনিবার (৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে শহরের ইয়াকুবিয়া মোড়ে চামড়া ক্রেতা রনি ও আরও কয়েকজন জানান, তাঁরা গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে কিনছেন। তবে ছাগলের চামড়ার প্রতি একেবারেই আগ্রহ নেই কারও।
রনি বলেন, ‘চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও কেনাবেচা কম। এবার পশু কোরবানিও কম হয়েছে। তবে গ্রামে গিয়ে চামড়া তোলার মতো পরিবহন ও সংরক্ষণের খরচ তুলতে পারছি না।’

গাবতলী উপজেলার লাঠিগঞ্জ গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সায়েদ আলী সকালে কয়েকটি গরু ও ছাগলের চামড়া কিনে ভ্যানে করে শহরে নিয়ে আসেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তাঁর কোনো চামড়া বিক্রি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘যেখানে যাচ্ছি, কেউ দামই বলছে না। শহরের বাজারেও ধস নেমেছে। অনেকেই বলছেন, চামড়া বিক্রি করে মূলধন তোলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। লাভ তো দূরের কথা।’
বিকেল পর্যন্ত শহরের চকসুত্রাপুর, নবাববাড়ি রোড, জিলা স্কুল মোড়, নাটাইপাড়া ও খান্দার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে—মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে রাস্তার ধারে বসে আছেন। অনেকেই চামড়ার গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বস্তা ও পলিথিনে মুড়িয়ে রেখেছেন। তবে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তাঁরা বিক্রি করতে পারছেন না।
বগুড়া সদরের ঘোলাগাড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমার ৯৬ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করতে পারিনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ আসেওনি। শুধু আমাদের না, পুরো গ্রামেই চামড়া পড়ে আছে।’
স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ব্যয়, লবণ সংকট, সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে চামড়ার বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকার যদি যথাযথ মনিটরিং ও সহযোগিতা না করে, তাহলে প্রতিবছরই কোরবানির মৌসুমে চামড়া নিয়ে এমন হতাশা তৈরি হবে।
শহরের পুরাতন চামড়া বাজারের ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, ‘এই এক মৌসুমেই আমাদের ব্যবসা হয়। কিন্তু এবার খরচই তুলতে পারিনি। লবণ, শ্রমিক, গুদামভাড়া সব মিলিয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে।’
চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, চামড়ার বাজার বগুড়া জেলায় যদি সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে এমন সংকট ও লোকসান অব্যাহত থাকবে।





















