যমুনা সেতু যানজটে নাকাল ঈদফেরত যাত্রীরা, ১৫ গাড়ি বিকল হয়ে বিপর্যয়
যমুনা সেতু যানজট আজ শনিবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢলে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ১৫টি গাড়ি সেতুর ওপর বিকল হয়ে পড়ে, যার ফলে দীর্ঘ যানজটে পড়েন যাত্রীরা। দুই পাশে টোল আদায় বন্ধ করে দিলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি, ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে শুক্রবার রাত থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। রাতেই সেতুর ওপর একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে এবং ধাক্কা খেয়ে বা যান্ত্রিক ত্রুটিতে গাড়িগুলো বিকল হয়ে যায়। বিকল গাড়িগুলো রেকার দিয়ে সরাতে সময় লাগে, আর এর মধ্যেই আবারও নতুন গাড়ি বিকল হতে থাকে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, “শুক্রবার রাত থেকে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একটি করে গাড়ি বিকল হয়েছে। এখনো একটি গাড়ি সেতুর ওপর বিকল অবস্থায় পড়ে আছে।” তিনি জানান, “বিশেষ করে পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলোতেই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে, তবে ভালো মানের গাড়িও বিকল হচ্ছে।”
যানজট সামাল দিতে শনিবার দুপুর ৩টা থেকে উত্তরবঙ্গগামী গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে কেবল ঢাকামুখী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তারপরও যানজট কমেনি। সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে যানবাহনগুলোকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের ছুটির পর এমন দুর্ভোগ প্রত্যাশিত ছিল না। সময়মতো অফিস বা কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন অনেকেই। সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, যানবাহনের প্রবল চাপ এবং বারবার গাড়ি বিকলের কারণে সেতুর ওপর যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
যমুনা সেতু যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেতু কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সমন্বয়ে কাজ করলেও যানবাহনের চাপ এবং বারবার গাড়ি বিকলের কারণে সমস্যা সহজে কাটছে না। ঈদফেরত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।


















