জেনারেল ওয়াকার-ইউনূস বোঝাপড়ায় গভীর হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট

জেনারেল ওয়াকার ও ইউনুসের বোঝাপড়ায় দীর্ঘায়িত বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংকট: ক্ষমতা কাঠামোর নেপথ্যে কারা চালকের আসনে?
জেনারেল ওয়াকার এবং মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যকার পর্দার আড়ালের বোঝাপড়া আজকের বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর ও জটিল করে তুলেছে। একজন সেনাপ্রধান হয়েও ওয়াকার যেভাবে ইউনূস সরকারের টিকে থাকার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন, তা শুধু আশ্চর্যের নয়—গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার ভবিষ্যতের জন্য তা ভয়ানক বিপদের পূর্বাভাসও বটে।

একদিকে সেনাপ্রধান ওয়াকার নিজেকে নিরপেক্ষ বললেও বাস্তবতায় তিনি বারবার এমন ভূমিকা রেখেছেন যা ‘অরাজনৈতিক পেশাদারিত্ব’কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার সময় সেনাবাহিনীকে ছাত্রদের উপর গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত, পরে ভারতীয় সেনাপ্রধান ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ফোনে শেখ হাসিনাকে ভারতে পাঠানোর আয়োজন, জামাতকে সবার আগে বৈঠকে ডাকা, এবং ইউনূসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা—সবই প্রমাণ করে তিনি শুধু একজন সেনাপ্রধান নন, বরং রাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূস মূলত পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষত ডিপ স্টেটের প্রিয়পাত্র। তাঁকে সামনে রেখে নতুন এক ধরনের ‘ডিপ পার্লামেন্টারি স্ট্রাকচার’ কায়েম করা হচ্ছে, যেখানে জনগণের ভোট বা গণতন্ত্র কেবল মুখরোচক বুলি মাত্র। ওয়াকার এখানে দায়িত্ব নিয়েছেন ভারসাম্য রক্ষার—ভারত, চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানকে সামলে দেশের ভিতরে ইউনূসের সরকারকে দীর্ঘায়িত করতে।
সেনাসদরে দরবার ডেকে ওয়াকার যখন সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে ১০ দফা তুলে ধরলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন—তিনি বুঝি ‘ঘুম ভেঙে’ উঠেছেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ইউনূস নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ নাটক করে আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিলেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলও ওয়াকারের পাশে না দাঁড়িয়ে নির্বাচন দাবি করেই থেমে গেল।
জামাত এর মধ্যেই দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা—সব জায়গায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। আজহার মুক্তি, মূর্তি ও ম্যুরাল ধ্বংস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী হামলা সবই চলছে সেনাবাহিনীর চোখের সামনে, কখনো কখনো তাদের অংশগ্রহণে। অথচ ওয়াকার বরাবর ‘নির্বিকার’। ফলে এই অবস্থা প্রমাণ করে জামাত-ইসলামিস্টদের ‘নতুন বন্দোবস্ত’কেই সমর্থন দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে সেনাবাহিনীর ভেতর থেকেও ইউনূস সরকার ওয়াকারের বিরুদ্ধে ক্যু চেষ্টা চালায়। সেনাপ্রধান তখন ক্ষমতা আরও সংহত করলেও সরকার বদলের পথে অগ্রসর হননি। বরং তিনি রাশিয়া সফর শেষে ফিরে এসে আবারো সেনা দরবার ডেকে সরকারকে ‘নরম বার্তা’ দিলেন।
সাম্প্রতিক মব ভায়োলেন্স, মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ভাঙা, কে এম নূরুল হুদার গলায় জুতার মালা পরানো, এবং সরকারের মদতে চলা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধেও জেনারেল ওয়াকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি—বা নেননি।
❝ তাহলে কি তিনি শেষ বিচারে ইউনূসের লোক? ❞
পর্যবেক্ষণ বলছে, জেনারেল ওয়াকার ও মুহাম্মদ ইউনূস উভয়ই ক্ষমতা কাঠামোর দুই মেরু হলেও একে অপরের পরিপূরক। ওয়াকার সামলাচ্ছেন সামরিক-অভ্যন্তরীণ-আঞ্চলিক ভারসাম্য, আর ইউনূস সামলাচ্ছেন পশ্চিমা অনুমোদন। ফলে দুইজন মুখোমুখি দেখালেও মূলত একই ছাতার নিচে অবস্থান করছেন।
তাই যেসব আওয়ামীপন্থী বা বিএনপি ঘরানার মানুষ ভেবে বসে আছেন, ওয়াকার একদিন শেখ হাসিনাকে বা বিএনপিকে ফিরিয়ে আনবেন, তারা ভয়ানক ভুল করছেন। তার অবস্থান ও অভিলাষ ‘অরাজনৈতিক’ বলে যতই প্রচার হোক, বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান তাঁর ‘নিরপেক্ষতা’ নয়, বরং তার অবস্থান পরিবর্তনের ওপরই নির্ভর করছে।
জেনারেল ওয়াকার যদি সত্যিই মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন, তাহলে আজকের বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংকট এতটা গভীর হত না। বরং দেখা যাচ্ছে, দৃশ্যমান বিরোধিতার আড়ালে দুইজনই একই ক্ষমতা কাঠামোর নিরাপদ খেলোয়াড়—যারা জনগণের শ্বাসরুদ্ধ গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের শর্তে রাষ্ট্র চালিয়ে যাচ্ছেন।
🔑 সারসংক্ষেপ (চুম্বক পয়েন্ট):
- জেনারেল ওয়াকার দৃশ্যত নিরপেক্ষ হলেও কার্যত ইউনূস সরকারের চালিকাশক্তি
- জামাত-ইসলামিস্টদের প্রশাসনে প্রভাব বেড়েছে, মব ভায়োলেন্সে সেনা নীরব
- ওয়াকারের ভারত-রাশিয়া সংযোগ বনাম ইউনূসের পশ্চিমা মদত
- সেনাবাহিনীর ‘আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা’ও কার্যত দৃশ্যভ্রম মাত্র
- নির্বাচন পিছোলে সবচেয়ে লাভবান জামাত, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় গাড়ি; নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, অতিরিক্ত গতিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করছে ট্রাফিক বিভাগ
সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ১৩ বাংলাদেশির সবাই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। শনিবার মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিরা তিনটি পরিবারের সদস্য।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা। দুর্ঘটনায় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও আরেক মেয়ে ইউসরা আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একই গাড়িতে থাকা আলম শাহ হারিয়েছেন স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়াকে। দুর্ঘটনায় আলম শাহ ও তাঁর ছেলে ফয়সাল আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আহত ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তি গফুর আলম।
কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন পরিবারের প্রধানসহ চারজন সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালমান কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে কোম্পানির চার বাংলাদেশি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল বলে জানা গেছে। ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন নাইমা খন্দকার; ২০ দিন ধরে থানায় জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, লিখিত অভিযোগ চেয়েছে পুলিশ
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার। শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানিকর অপপ্রচার ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব?’
নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। পাশাপাশি তিনি জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফেসবুক পোস্টে নাইমা লেখেন, দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
নাইমার দাবি, তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার তাঁকে নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তিনি নিজ বাসায় একা থাকায় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।
নাইমা লেখেন, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাঁকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে তাঁর প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় নাইমা খন্দকার বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ এবং স্বামী মাহবুব হোসেন তুষার বলে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে ফেসবুক আইডি থেকে এমন অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছি।’
এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাইমা খন্দকার মৌখিকভাবে ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লায় মববাজদের দৌরাত্ম্য! শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপি নেতারা

ঐতিহ্য সংরক্ষণের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ, বৈধ ওয়ারিশ আরমা দত্তের সাইনবোর্ড গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ-নিন্দা
কুমিল্লায় এবার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৈতৃক বাড়ির সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর শাখার নেতাদের বিরুদ্ধে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবির আড়ালে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বাড়িটিতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িটির বৈধ ওয়ারিশ আরমা দত্তের মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শনিবার সাইনবোর্ড ভাঙচুরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি সংস্কার, সংরক্ষণ এবং সেখানে স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি উঠলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে আরমা দত্ত উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা উল্লেখ করে বাড়িতে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে।
সাইনবোর্ডে লেখা ছিল, ‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’
ঐতিহ্য রক্ষার নামে সাইনবোর্ড ভাঙচুর
এনসিপির কুমিল্লা মহানগর শাখার নেতাদের দাবি, বাড়িটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। তাদের অভিযোগ, বাড়িটি বিক্রির প্রচেষ্টা হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে এবং পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বিক্রি ঠেকাতেই সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তারা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর এনসিপির নেতারা বাড়িটিতে গিয়ে প্রথমে স্থাপনাটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। পরে তাঁরা সাইনবোর্ডটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কাওসারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়। এটি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। তাই বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন তাঁরা।
শনিবার মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে আমরা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। এ কাজে আশা করি সরকার ও ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্তকে পাশে পাব। এ জায়গা বিক্রি কিংবা বহুতল ভবন করতে চাইলে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।’
‘আমার সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার’
এদিকে আরমা দত্ত বলেন, ‘এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমি এর বৈধ ওয়ারিশ। এটা কুমিল্লাবাসীও জানেন। তাই এ বাড়ির জায়গা আমি কী করব, রাখব নাকি বিক্রি করব—সেটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি থাকলেও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিতে এভাবে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোনো সম্পত্তি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করলেই কি তার মালিক বা বৈধ ওয়ারিশের অধিকার উপেক্ষা করে কেউ নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন? সংরক্ষণের দাবি থাকলে তা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলছেন তাঁরা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলার বিষয়ে তাঁরা কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে ও তাঁর ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।


























