বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’!

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম
দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’!

DCIM101MEDIADJI_0256.JPG

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’! দখল-দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গর্বিত গোমতী, ৭৭২ দখলদার চিহ্নিত, নেই কার্যকর পদক্ষেপ

দখল আর দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার এক সময়ের গর্ব গোমতী নদী এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এই নদী আজ ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত। দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। দুর্গন্ধ, পচা পানি, মরা প্রাণী আর আবর্জনায় পূর্ণ এই নদী এখন স্থানীয়দের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। অথচ ২০০৩ সালে শুরু হওয়া উচ্ছেদ পরিকল্পনা দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানি পচে গিয়ে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। দুই পাড়ের বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে মরা গরু, ছাগল, প্লাস্টিক ও মাদকের বোতল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

দূষণে মৃত্যুপ্রায়
দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গর্বিত গোমতী, ৭৭২ দখলদার চিহ্নিত, নেই কার্যকর পদক্ষেপ। ছবি : সংগৃহিত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ষাটের দশকে শহর রক্ষায় গোমতী নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা বর্তমানে ‘পুরাতন গোমতী’ বা ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত। এই নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি ও অবৈধ দোকানপাট। কচুরিপানা, আবর্জনা আর দখলের ফলে নদীটি খালে পরিণত হয়েছে।

থানা রোড, চাঁনপুর, গাংচরসহ বিভিন্ন এলাকায় কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় নদীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাছ চাষের জন্য জোর করে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হলেও তা সাময়িক।

নদীপাড়ের বাসিন্দা জালাল সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি নদীতে মরা গরু, কুকুর আর আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। গন্ধে টেকা যায় না। অথচ কেউ কিছু বলছে না।”

পাউবো কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, “৭৭২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। তবে লোকবল সংকটে অভিযান চালানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে শিগগিরই উচ্ছেদ শুরু হবে।”

আদর্শ সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সাল থেকে একাধিকবার উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৬ সালে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে দখলদারের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

চাঁনপুর এলাকার এক ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা বলেন, “সরকার যদি পুনর্বাসন করে উচ্ছেদ করে, তাহলে আমরা আপত্তি করবো না। কিন্তু হুট করে উচ্ছেদ করলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো?”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গোমতী নদীকে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে গড়ে তুললে এটি কুমিল্লার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে পারে।”

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, “২০২১ সালে একনেক সভায় গোমতী উন্নয়ন প্রকল্পে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু দখলদার উচ্ছেদ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। কাজ চলমান রয়েছে।”

দখল-দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গোমতী নদী আজ কাঁদছে। দুই যুগ ধরে চলা ‘উচ্ছেদ পরিকল্পনা’ যেন ক্ষমতার দড়ি টানাটানির খেলায় বন্দি। গোমতী বাঁচাতে হলে এখনই চাই সাহসী ও কঠোর পদক্ষেপ।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

আহত আরও ৩, আটক প্রাইভেটকার

দেবীদ্বারে প্রাইভেটকার-অটোর সংঘর্ষে নিহত ১

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১৮ পিএম
দেবীদ্বারে প্রাইভেটকার-অটোর সংঘর্ষে নিহত ১

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় প্রাইভেটকার ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল ওহাব (৬৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার কুরুইন মঙ্গলের পুকুরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল ওহাব কুরুইন সাহাবুদ্দির বাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কুরুইন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল ওহাবকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে মোহনপুর গ্রামের নাজমুলের ছেলে সিয়াম (১৫) রয়েছেন। অপর দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানা-এর ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘাতক প্রাইভেটকারটি আটক করা হয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মাইলস্টোন ট্রাজেডি

অবশেষে বিশ্ববাটপার ইউনূস-আসিফসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম
অবশেষে বিশ্ববাটপার ইউনূস-আসিফসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধ্বংসকারী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার আরেক সহযোগী দেশ বিরোধী রাজাকার সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রাখেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আবেদনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজউকের কর্মকর্তা, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণার্থী পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বেশিরভাগ বাংলাদেশী সাধারন নাগরিক বলছে এসবই বিশ্ব টাউট ইউনুস গংদের মেটিকুলাস ডিজাইনে করা।

২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্ববাটপার ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমেরিকার সাথে শুয়োরের মাংস আমদানির চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এছাড়াও, তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলার আবেদন এবং বিচার দাবিতে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

কর্মদক্ষতায় বদলাচ্ছে প্রশাসনিক চিত্র

বাহুবলে জনসেবায় প্রশংসিত ইউএনও উজ্জ্বল রায়

নাজমুল ইসলাম হৃদয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
বাহুবলে জনসেবায় প্রশংসিত ইউএনও উজ্জ্বল রায়

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রশাসনে মানবিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতার নজির স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও উজ্জ্বল রায়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন ইউএনও উজ্জ্বল রায়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।

উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, মাটি কাটা, মাদক কারবার, অবৈধ ইটভাটা ও যানজট নিরসনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন তিনি। এছাড়া খাল উদ্ধার ও পরিবেশ রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান ইউএনও উজ্জ্বল রায়। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তাও করছেন তিনি।

সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানান, ইউএনও উজ্জ্বল রায় আচরণে ভদ্র, সৎ ও দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন।

ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন, “একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এতটা জনবান্ধব হতে পারেন, তা উজ্জ্বল রায়কে না দেখলে বোঝা যেত না।”

এ বিষয়ে ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের মাধ্যমে বাহুবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ইউএনও উজ্জ্বল রায়।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×