বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে ৩ খুন: ইউপি চেয়ারম্যান ও বাছির অধরা

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫, ২:৫৮ পিএম
মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে ৩ খুন: ইউপি চেয়ারম্যান ও বাছির অধরা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি।
  • কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে এক পরিবারের ৩ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
  • ইতোমধ্যে ইউপি মেম্বার বাচ্চু মিয়াকে গ্রেফতার করলেও পলাতক রয়েছেন চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বাছির মিয়া।

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে এক পরিবারের ৩ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ইতোমধ্যে ইউপি মেম্বার বাচ্চু মিয়াকে গ্রেফতার করলেও পলাতক রয়েছেন চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বাছির মিয়া।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার আগের রাতে পরিকল্পনার বৈঠক হয় বাছির মিয়ার নেতৃত্বে। পরদিন সকালে বাড়ির সামনে শিমুল বিল্লাহ ও বাচ্চু মিয়া একত্র হয়ে হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সকাল ৭টার দিকে তারা এলাকাবাসীকে উসকে দিয়ে রোকসানা আক্তার রুবির বাড়িতে হামলা চালান।

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার
মুরাদনগরে মা-ছেলে মেয়ে হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র তিনটি জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং প্রমাণ করে দিয়েছে, ভয়ের সংস্কৃতিতে কোথাও মানবতা টিকে নেই। ছবি : সংগৃহিত

ঘটনার চার দিন পর পর্যন্তও প্রধান দুই আসামি শিমুল বিল্লাহ ও বাছির মিয়া অধরা থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‍্যাবের তালিকাভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে তিনজন এজহারভুক্ত এবং বাকিরাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

এদিকে মামলার বাদী নিহত রোকসানা আক্তারের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ, মেম্বার বাচ্চু ও বাছির মিয়া আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে প্রথমে মা রোকসানাকে, এরপর বোন জোনাকীকে এবং পরে ভাই রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। সবশেষে আমার ছোট বোন রুমাকেও মাথায় কোপানো হয়।”

শুক্রবার মামলার আগেই পুলিশ প্রথম দফায় দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার সকালে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে বাকি ছয়জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোবাইল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

আলোচিত মুরাদনগরের ট্রিপল মার্ডার মামলায় আদালতে হাজির করা গ্রেফতারদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ এখনও পলাতক। র‍্যাব জানিয়েছে, তাকে ও বাছির মিয়াকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার-এর ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মোবাইল চুরির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নেতৃত্বে তিনজনকে হত্যা, একটি পরিবারের ধ্বংস আর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার এ ঘটনা দ্রুত বিচার দাবি করছে সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক আজকের কথা
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
— মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), দাউদকান্দি মডেল থানা, কুমিল্লা

কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।

কিশোর গ্যাং ধরতে অভিযান

দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৬ এএম
দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক, অভিভাবকদের ভিড়ে থানায় উত্তেজনা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৯ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বুধবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে আটক কিশোরদের থানায় আনার পর তাদের স্বজন ও অভিভাবকদের ভিড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ২৮ কিশোর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যায়।

বুধবার রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানার ভেতরে ভাঙচুর এবং কিশোরদের বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থানার ভেতরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন কক্ষে মানুষের প্রবেশ ও হট্টগোলের কারণে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।

দৈনিক আজকের কথা
সর্বমোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আটকের খবর পেয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের ফিরিয়ে নিতে থানায় এসে হট্টগোল করেন। কেউ কেউ বাইরে থেকে উত্তেজনা ছড়ায় ও ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় এবং ভিড়ের মধ্যে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়। থানায় ভাঙচুরের বিষয়টি মিথ্যা।
— মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), দাউদকান্দি মডেল থানা, কুমিল্লা

তবে ওসি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজতে দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে মোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, সর্বমোট ৫৯ আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে একটি কক্ষে ২৮ জন অবস্থান করছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন। ওসির দাবি, বাইরে থেকেও কেউ কেউ উত্তেজনা ছড়ায় এবং থানার দিকে ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার একটি অংশ খুলে যায় এবং মানুষের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়।

অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ২৮ কিশোরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় থানার ভেতরে ব্যাপক ভিড় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।

ঘটনার পর থানার সামনে আটক কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের তৎপর হতে দেখা যায়।

আটক কিশোরদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে কিশোরদের স্বজনদের দাবি, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড নেই।

ওসি জানান, তথ্য যাচাই করে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকাতেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে বলে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, রাতভর অভিযান চলবে। অভিযান শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজন আটক রয়েছে—সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর গণমাধ্যমকে সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।

দাউদকান্দির ঘটনায় একদিকে পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের হট্টগোলে একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যাওয়াসহ কিছু চেয়ার উল্টে যায়। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থানার ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ফলে কিশোরদের আটকের কারণ, থানায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং ২৮ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

ডার্বি নাসীরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতা ওই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির অন্য নেতাদের বক্তব্যও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে দিন দিন তাদের ‘আস্ফালন’ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”

পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্যের পর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, তাঁদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।

×
ENG