শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুরাদনগরে তিন খুন: শিমুল চেয়ারম্যানকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

ফাহিমা বেগম প্রিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম
মুরাদনগরে তিন খুন: শিমুল চেয়ারম্যানকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মুরাদনগরে তিন খুন-এর ঘটনায় ১০ দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত
  • ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল এখনও পলাতক।
  • তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন—ঘাতকেরা এখনও তাদের খুনের হুমকি দিচ্ছে।

মুরাদনগরে তিন খুন-এর ঘটনায় ১০ দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল এখনও পলাতক। তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন—ঘাতকেরা এখনও তাদের খুনের হুমকি দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, কেন ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করা যায়নি পরিকল্পনাকারী চেয়ারম্যানকে।

কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি এলাকায় গত ৩ জুলাই মোবাইল ফোন চুরি ও মাদক কারবারের গুজবের ভিত্তিতে রোকসানা বেগম রুবি, তাঁর মেয়ে জোনাকি আক্তার ও ছেলে রাসেল মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রুবির অন্য দুই মেয়ে—রিক্তা আক্তার ও রুমা আক্তার প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। রুমা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে রিক্তা বলেন, ‘আমরা দুই বোন এখন আতঙ্কে আছি। মা, ভাইবোনের হত্যার পর ঘাতকরা সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে প্রয়োজনে ৫-১০ কোটি টাকা খরচ করে আমাদেরও মেরে ফেলবে। দিনরাত আতঙ্কে থাকি। অপরিচিত কাউকে দেখলে মনে হয়, ঘাতকেরা এলো।’

পরদিন, ৪ জুলাই, বাঙ্গরা বাজার থানায় রিক্তা আক্তার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে মো. সবির আহমেদ, মো. নাজিম উদ্দীন বাবুল, ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া, রবিউল আউয়াল, দুলাল, আতিকুর রহমান, বয়েজ মাস্টার, আকাশ ও সর্বশেষ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার বিকেলে তাঁদের কোর্টে হাজির করা হলে বিচারক মমিনুল হক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে আদালতের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, রিমান্ডে নেওয়া কোনো আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

মামলার বাদী রিক্তা আক্তার জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ বাড়ির গেটে তালা দিয়ে রেখেছে। স্থানীয়রা বাড়ি দেখতে এলেও তারা বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না। রিক্তা বলেন, ‘ঘটনায় অন্য গ্রামের লোকজনও ছিল, যাদের আমি চিনতে পারিনি। শিমুল চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেই প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের নাম জানা যাবে।’

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। বাদী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা ডিবির ওসি মো. আবদুল্লাহ বলেন, তিন দিনের রিমান্ডে আটক আসামিরা কিছু তথ্য দিয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পলাতক আসামি, বিশেষ করে মুরাদনগরে তিন খুনএর মূল হোতা শিমুল চেয়ারম্যানকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

এলাকার খবর

ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ

কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বেরুয়াইল গ্রামে একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনিক মিয়া ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
— মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা
(ওসি), কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পুলিশ বাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন অনিক মিয়া। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের মৎস্য খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে গরুর জন্য কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খামারের পানিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

তাড়াইলে ব্যতিক্রমী চিত্র

তাড়াইলে দুই এইচএসসি কেন্দ্রে মাত্র ২ পরীক্ষার্থী, দায়িত্বে ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
তাড়াইলে দুই এইচএসসি কেন্দ্রে মাত্র ২ পরীক্ষার্থী, দায়িত্বে ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দুই এইচএসসি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র দুইজন পরীক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এতে দুটি কেন্দ্রেই দেখা যায় ব্যতিক্রমী চিত্র।

তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০৫ জন। কিন্তু এদিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন কেবল একজন পরীক্ষার্থী। তিনি হাজী মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলগঞ্জের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের মহিনন্দ এলাকায়।

এই কেন্দ্রে হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনেয়ার হোসেন। এছাড়া ছিলেন দুইজন সহকারী হল সুপার, দুইজন কক্ষ পরিদর্শক, পাঁচজন সহায়ক কর্মচারী, তিনজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার এবং ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

পরীক্ষার্থী একজন হলেও শিক্ষা বোর্ডের সব নির্দেশনা মেনেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল,
আনোয়ার হোসেন
হল সুপার, তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্র

অন্যদিকে তাড়াইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দামসুর এলাকার বাসিন্দা প্রিয় রঞ্জন বর্মন। এ কেন্দ্রেও একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষার্থী সংখ্যা কম হলেও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, সহযোগীর বুকে বিদ্ধ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ এএম
নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, সহযোগীর বুকে বিদ্ধ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টু (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুর বুকে লাগে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এএনএম ইমরান খান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল), নোয়াখালী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হকার্স মার্কেটের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয় থেকে বের হয়ে মূল গলির ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

এ সময় ইয়াছিন সেন্টু আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে একটি গুলি কাশেমের হাত ছুঁয়ে গিয়ে সেন্টুর বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুর বুকে লাগে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

×
CLOSE X