দ্রুত টেন্ডারের অপেক্ষায় এলাকাবাসী
মুরাদনগরে জাহাপুর ইউনিয়নের দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি, দ্রুত টেন্ডারের আশ্বাস

জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা-নয়াকান্দি-দুলারামপুর সড়কের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে মাপজোখ কার্যক্রমের দৃশ্য। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৭ নম্বর জাহাপুর ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণের কাজ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে। এরই মধ্যে শুশুন্ডা-নয়াকান্দি-দুলারামপুর সড়ক পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জরিপ ও মাপজোখের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে সাতমোড়া মাজার-ছয়ফুল্লাকান্দি-ভল্লবদী-কাচারিকান্দা হয়ে জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের মাপজোখের কাজ টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে এলেই অবশিষ্ট জরিপ শেষ করে দ্রুত টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুশুন্ডা-নয়াকান্দি-দুলারামপুর সড়কের মাপজোখের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে সাতমোড়া মাজার-ছয়ফুল্লাকান্দি-ভল্লবদী-কাচারিকান্দা হয়ে জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের জরিপ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই কাজ শেষ করে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কগুলো বেহাল অবস্থায় থাকায় হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ নিরসনে সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুশুন্ডা-নয়াকান্দি-দুলারামপুর সড়কের প্রাথমিক জরিপ ও মাপজোখের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্পটির টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে সাতমোড়া মাজার থেকে ছয়ফুল্লাকান্দি, ভল্লবদী, কাচারিকান্দা হয়ে জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জরিপ কার্যক্রম শুরু হলেও টানা বৃষ্টির কারণে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই পুনরায় কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব সড়ক শুধু একটি গ্রামের নয়; আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কগুলো উন্নয়ন হলে ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সড়কগুলোর উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
অবশেষে মাপজোখের কাজ শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী যে বহু প্রতীক্ষিত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। তারা দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন একটি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তাই এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জাহাপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
জানা গেছে, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর-বাঙ্গরা) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া, সৈয়দ শরিফ, হাসানসহ এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজসেবক। তারা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বৃষ্টিজনিত সাময়িক বাধা কেটে গেলে অবশিষ্ট জরিপ শেষ করে খুব দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে। এতে জাহাপুর ইউনিয়নের বহু বছরের যোগাযোগ সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে মায়ের চোখের সামনেই ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ৮ বছরের মিনহার

ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দেবীদ্বারের ছোটশালঘরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মায়ের সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় মোসা. মিনহা (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার ছোটশালঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিনহা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বারানি গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে তার মা জুলেখা আক্তার দেবীদ্বার উপজেলার ছোটশালঘর এলাকায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সোমবার সকালে মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে দেখাতে দেবীদ্বারে নিয়ে যান তিনি। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছোটশালঘর বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে নামেন তারা।
এ সময় মিনহা দৌড়ে সড়ক পার হতে গেলে সিলেটগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে মায়ের চোখের সামনেই ঘটনাস্থলে শিশুটির মৃত্যু হয়।
সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মা জুলেখা আক্তার শোকে ভেঙে পড়েন। তার আহাজারিতে ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করতে চাই না: ধর্মমন্ত্রী

মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে ব্যবসা করেছে, এখন আরেকটি দল জুলাইয়ের চেতনাকে নিয়ে ব্যবসা করছে। বিএনপি কোনো চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি করতে চায় না; বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায়।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে আমরা কোনো রাজনৈতিক ব্যবসা করতে চাই না। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।
কায়কোবাদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিকের সন্তান। তিনি সবসময় দেশের দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেন। চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে অনেক দিন সময় দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য তিনি ও তার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও প্রবাসী কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিও নতুন করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাত্র আট মাসে এসব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।
অনুদান বিতরণ প্রসঙ্গে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আরও পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপযুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে এ অর্থ বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। সমাজের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ কোটি চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কর্মসূচি সফল করতে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। কর্মসূচিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের যথাক্রমে ১০ হাজার, সাত হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান, মুরাদনগর সার্কেল পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল আহসান ও সদস্য সচিব সুমন মাস্টারসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
যুব উন্নয়নে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান
যুব দিবসে মুরাদনগরে ১০ উদ্যোক্তাকে ঋণ, বিতরণ সাড়ে ১০ লাখ টাকা

ধর্মমন্ত্রীর প্রধান অতিথি থাকার কথা থাকলেও আসেননি, সভাপতিত্ব করেন এসিল্যান্ড সাকিব হাসান খান
কুমিল্লার মুরাদনগরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ১০ জন তরুণ উদ্যোক্তার হাতে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ ঋণ বিতরণ করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে ‘দক্ষ যুব গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কবি নজরুল মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ততার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন।

যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা মুজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, যুব সংগঠক এ কে এম নেয়ামুল হক ও সফল আত্মকর্মী মো. জাহিদ।
বক্তারা বলেন, যুবসমাজ দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচিত ১০ জন তরুণ উদ্যোক্তার হাতে মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়।




























