কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক বেহাল, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় মানুষ শুধু সময় নয়, জীবন ঝুঁকিতেও ফেলছেন প্রতিদিন। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ভরসা রাখলেও তারা এখন চাইছেন বাস্তব পদক্ষেপ।
কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক বেহাল, দুর্বল নির্মাণ আর সংস্কার বিলম্বে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে। খানাখন্দ আর ভাঙাচোরা রাস্তায় নিত্যদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অল্প বৃষ্টিতেই জমে থাকা পানিতে ঢাকা পড়ে যায় গর্ত, বাড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি যে সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছিল, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের কাঁচামাল। ফলে স্থায়িত্ব কমে গেছে। আর এখন ভাঙা রাস্তার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন অনেকে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কুমিল্লা শহরে প্রবেশের অন্যতম পথ আলেখারচর-শাসনগাছা সড়কের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। দূর্গাপুর থেকে শাসনগাছা ফ্লাইওভার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তায় গর্ত আর ভাঙাচোরা অংশে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল কিংবা কর্মস্থলে যেতে প্রতিদিনই এই রাস্তায় জ্যাম, ধাক্কাধাক্কি, দুর্ঘটনার ভয় তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
বিশেষত কোটবাড়ি ট্যুরিজম জোন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সেনানিবাস ও বার্ড এলাকায় যাতায়াতে যে সড়কটি ব্যবহার হয়, সেখানে বড় বড় গর্ত আর ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থ মানুষজন।
টমছমব্রিজ থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পড়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায়। সেখানে ১৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা থাকলেও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে সওজের অনুমতি না থাকায়।
সিটি কর্পোরেশন বলছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। সচিব মোহাম্মদ মামুন বলেন, “কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করব।”
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, “কোটবাড়ি থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সড়কের টেকসই সংস্কারের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।”
কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় মানুষ শুধু সময় নয়, জীবন ঝুঁকিতেও ফেলছেন প্রতিদিন। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ভরসা রাখলেও তারা এখন চাইছেন বাস্তব পদক্ষেপ।






















