সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ডাকটিকিট প্রদর্শনী

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ১:৩৭ পিএম
কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ডাকটিকিট প্রদর্শনী

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লায় ডাকটিকিট প্রদর্শনী, ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ও ডাক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘ময়নামতিপেক্স ২০২৫’ কুমিল্লায় ডাকটিকিট প্রদর্শনী প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
  • দুই দিনব্যাপী এ ঐতিহাসিক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা প্রধান ডাকঘরে।
  • ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং কুমিল্লা প্রধান ডাকঘরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী চলবে রবিবার (২৪ আগস্ট) পর্যন্ত।

কুমিল্লায় ডাকটিকিট প্রদর্শনী, ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ও ডাক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘ময়নামতিপেক্স ২০২৫’

কুমিল্লায় ডাকটিকিট প্রদর্শনী প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দুই দিনব্যাপী এ ঐতিহাসিক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা প্রধান ডাকঘরে। ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং কুমিল্লা প্রধান ডাকঘরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী চলবে রবিবার (২৪ আগস্ট) পর্যন্ত।

কুমিল্লায় ডাকটিকিট প্রদর্শনী
Mohammad Shariful Alam Chowdhury

‘ময়নামতিপেক্স ২০২৫’ শিরোনামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগ্রাহকদের দুর্লভ ও আকর্ষণীয় ডাকটিকিট, খাম, পোস্টমার্ক এবং অন্যান্য ফিলাটেলিক সামগ্রী স্থান পেয়েছে। আয়োজনটির মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ডাকটিকিট সংগ্রহের ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং ফিলাটেলির প্রতি আগ্রহ জাগানো।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক বিভাগের পরিচালক আল মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফিলাটেলিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকবর হোসেন, কুমিল্লা বিভাগীয় ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এবং কুমিল্লা প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি ইকবাল মজিদ।

প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে বিশেষ উদ্বোধনী খাম, চারটি ওভারপ্রিন্ট ডাকটিকিট, দুইটি সিলমোহর এবং একটি অ্যারোগ্রাম উন্মুক্ত করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো “Definitive Stamps” এর উপর ওভারপ্রিন্ট ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছে, যা ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ডাকটিকিট প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরে শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহ্যে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা ডাকটিকিট সংগ্রাহক সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন এবং আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

কুমিল্লায় ডাকটিকিট প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মকে ডাকটিকিটের ঐতিহ্য ও ইতিহাস জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

ফরিদা হত্যাসহ সব হত্যার বিচার দাবিতে দেবীদ্বারে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ পিএম
ফরিদা হত্যাসহ সব হত্যার বিচার দাবিতে দেবীদ্বারে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশে গুম, খুন, মাদক, সন্ত্রাস, ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে দেবীদ্বার নিউমার্কেটের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড পরেশ কর

তিনি বলেন, “ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশে চলমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির একটি নির্মম বহিঃপ্রকাশ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভূমিহীন সংগঠনের উপজেলা সভাপতি মো. মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভূমিহীন নেতা …-এর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নিজেরা করি সংস্থার বিভাগীয় সংগঠক মতিউর রহমান, আব্দুল জব্বার, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, ভূমিহীন নেতা বাদল মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

দুই দশক ধরে চরম জনভোগান্তি

২০ বছরেও শেষ হয়নি ডাকাতিয়া নদীর হাওরা ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪২ পিএম
২০ বছরেও শেষ হয়নি ডাকাতিয়া নদীর হাওরা ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত হাওরা ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঝলম ও হাওরাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মিত অংশটি এখন কার্যত ধান শুকানো ও গবাদিপশু রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০০৫ সালে শুরু, শেষ হয়নি ২০ বছরেও

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম কর্নেল (অব.) এম আনোয়ার উল আজিম ঝলম ইউনিয়নের ডাকাতিয়া নদীর ওপর হাওরা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়নে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

কিন্তু সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট ও প্রয়োজনীয় পাকাকরণ না করেই ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। ফলে উঁচু সেতুটি নির্মিত হলেও সেটিতে ওঠা ও স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলের উপযোগী কোনো ব্যবস্থা তৈরি হয়নি।

‘সেতু আছে, চলাচলের ব্যবস্থা নেই’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝলম ও হাওরা গ্রামের মধ্যবর্তী ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক সম্পন্ন না হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না তারা। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। বর্তমানে সেতুর ওপর ও আশপাশে ধান শুকানো এবং গবাদিপশু রাখার মতো কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটি দ্রুত চালু করা গেলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে।

নতুন করে টেন্ডারের উদ্যোগ

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ঠিকাদার সেতুর কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছেন। বর্তমানে সেতুটি সংস্কার ও অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত কাজ শেষ এবং সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

নারী শিক্ষায় ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান

৩৩ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি, কটিয়াদী বালিকা বিদ্যালয় সরকারীকরণের জোর দাবি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২১ এএম
৩৩ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি, কটিয়াদী বালিকা বিদ্যালয় সরকারীকরণের জোর দাবি

১৯৯৩ সালে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারীকরণ হয়নি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সরকারীকরণের দাবি জানিয়েছেন কটিয়াদীবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু একটি বিদ্যালয়কে সরকারীকরণের বিষয় নয়; বরং কটিয়াদী উপজেলার নারী শিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং একটি ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্ন।

১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার ঘোষণা

১৯৯৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কটিয়াদী সফরকালে কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. কামাল সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সরকারীকরণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু দীর্ঘ ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবায়িত হবে এবং তারেক রহমানের হাত ধরে খালেদা জিয়ার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ মিলবে।

ছয় দশকের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক ও বিজ্ঞানচর্চায়ও প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে সুনাম। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বহু নারী বর্তমানে প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, বিচার বিভাগ ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রায় ১ একর ৯৩ শতাংশ জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য এ জমি যথেষ্ট।

বিদ্যালয়টির সরকারীকরণে দীর্ঘসূত্রতা দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।
অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন
সংসদ সদস্য, কিশোরগঞ্জ-২

২৬ শিক্ষকের ১২ পদই শূন্য

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হলে শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার ব্যয় কমে আসবে এবং আরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।

‘অন্য পাইলট বিদ্যালয় সরকারি, বালিকা বিদ্যালয় কেন নয়?’

অভিভাবক মোহাম্মদ মতিউর রহমান কাজল ও সাবেক প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা বলেন, কটিয়াদীর অন্য পাইলট বিদ্যালয় ইতোমধ্যে সরকারীকরণ হয়েছে। অথচ নারী শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় দীর্ঘদিনেও সরকারি হয়নি।

তাদের মতে, নারী শিক্ষার প্রসার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত এ বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা জরুরি।

‘সব নথিপত্র এখনও সংরক্ষিত’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালাহ উদ্দিন ভূঞা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান কাঞ্চন জানান, সরকারীকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।

তারা বলেন, সরকারীকরণের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এত দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি সরকারি করার দাবি জানান তারা।

এমপি জালাল উদ্দিনের আশ্বাস

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বিদ্যালয়টির সরকারীকরণে দীর্ঘসূত্রতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এখন শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা

কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি কটিয়াদীর নারী শিক্ষার দীর্ঘ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে থাকা জনপদের মেয়েদের শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট দূর, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সরকারীকরণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

×
ENG