কুমিল্লায় নকল হাজতি ধরা: টাকার বিনিময়ে জেল খাটতে রাজি যুবক
কুমিল্লায় নকল হাজতি, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা পড়েন টেকনাফের নুর মোহাম্মদ, প্রকৃত আসামি এখনও পলাতক
কুমিল্লায় নকল হাজতি হিসেবে ধরা পড়েছেন নুর মোহাম্মদ নামে এক যুবক। গত ১৪ আগস্ট থেকে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। কারাগারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আসল পরিচয় ফাঁস হওয়ার পর জানা যায়, তিনি ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাদক মামলার আসামি জোবাইদ পুতিয়ার হয়ে হাজতবাস করতে রাজি হয়েছিলেন।
নুর মোহাম্মদের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বাবার নাম ফকির আহাম্মদ। অপরদিকে আসল আসামি জোবাইদ পুতিয়া একই উপজেলার নাইট্যমপাড়ার বাসিন্দা, বাবার নাম আবদুর রহমান।

কারা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন জোবাইদ পুতিয়া। তিনি ওই বছরের আগস্ট থেকে ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক থাকেন। বর্তমানে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
গত ১২ আগস্ট আদালতে জোবাইদ পুতিয়া পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করেন নুর মোহাম্মদ। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে নেওয়ার পর ফিঙ্গারপ্রিন্টে বেরিয়ে আসে আসল পরিচয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে হাজতবাস করতে এসেছেন। প্রকৃত আসামি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিন দিনের মধ্যে জামিন হবে।
আইনজীবী এ এইচ এম আবাদ বলেন, “আসামি আত্মসমর্পণের সময় নিজেকে জোবাইদ পুতিয়া বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। আমি তাঁর এনআইডি চাইলে তিনি জানান, প্রবাস থেকে আসায় সঙ্গে নেই। পরে কারাগারে সব ফাঁস হয়ে যায়। পেশাগত জীবনে এমন প্রতারণা দেখিনি।”
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার হালিমা আক্তার জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্টে বিষয়টি ধরা পড়ার পর আদালতকে জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তারসহ নকল হাজতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লায় নকল হাজতি ধরা পড়ায় আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।




















