জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে প্রশ্ন—তিনি কি সত্যিই শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান?

জেড আই খান পান্না: শেখ হাসিনা মামলায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কেন বাড়ছে?
জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার মামলায় তার সম্পৃক্ততা, অবস্থান, আগ্রহ এবং সময় নির্বাচন—সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তিনি আসলে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ব্যাখ্যা।
মানবাধিকার কর্মী হিসেবে দীর্ঘ পথচলা
উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন নথি অনুসারে জেড আই খান পান্না বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত মানবাধিকারকর্মী। তিনি আইন শালিস কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর ট্রাস্টি। পাশাপাশি তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
বিগত কয়েক দশক তিনি মানবাধিকার, বিচারপ্রাপ্তি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন।
আগের সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন
বিগত সরকারের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়ন, গুম-খুন বিষয়ে তিনি ছিলেন প্রকাশ্য সমালোচক। বিশেষত ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি রিট করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের কঠোর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সেই সময়ের অবস্থান দেখে অনেকেই তাকে “রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা মানবাধিকারভিত্তিক কণ্ঠ” হিসেবে বিবেচনা করতেন।
ইউনূস সরকারের সময়ে নীরবতা—এটাই প্রথম প্রশ্ন
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অঙ্গনে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি অস্বাভাবিকভাবে নীরব ছিলেন।
সমর্থন নয়, সমালোচনা নয়—কোনো অবস্থানই নেননি।
মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তার এই মৌনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অনেকে বলছেন—এই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তার রাজনৈতিক সতর্কতা বা কৌশল।
রায় ঘোষণার সময় হঠাৎ ঘোষণা—তিনি শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান!
প্রশ্ন এখানেই সবচেয়ে বেশি।
মামলার প্রায় শেষ পর্যায়ে তিনি জানান—
“আমি শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চাই।”
কিন্তু তখন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স কাউন্সেল ছিল আমির হোসেন।
আইনজীবী পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।
তাই অনেকে মনে করেন—এই ঘোষণা ছিল প্রতীকী, গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার কৌশল, অথবা রাজনৈতিক বার্তা।
মঞ্চ-৭১: ঘোষণা, অনুপস্থিতি এবং গ্রেপ্তার—সবই নিয়ে রহস্য
তিনি “মঞ্চ-৭১” নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন—উদ্দেশ্য বলা হয় মুক্তিযুদ্ধ রক্ষা।
কিন্তু—
প্রথম প্রেসক্লাব ব্রিফিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন না
তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়
তিনি নিজে গ্রেপ্তার হননি
পরে তিনি তাদের জামিনের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান
এখানেও প্রশ্ন তৈরি হয়—
তার অনুপস্থিতি কি কৌশলগত সুরক্ষা ছিল? নাকি এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য ব্যাখ্যা আছে?
শেষমেশ শেখ হাসিনার পরবর্তী মামলায় ডিফেন্স লইয়ার—প্রশ্ন আরও গভীর
সব বিতর্কের শেষে শেখ হাসিনার পরবর্তী মামলায় তিনি সরকারিভাবে ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে যুক্ত হন।
এই নিয়োগ অনেককে বিস্মিত করে।
কারও মতে—এটি মানবাধিকারবিষয়ক নীতি অনুসরণ;
কারও মতে—এটি রাজনৈতিক পুনর্সংযোগ;
আবার অন্যদের মতে—পূর্বের নীরবতা, সময় নির্বাচন এবং বর্তমান গ্রহণ—সব মিলিয়ে এক অস্বচ্ছ চিত্র তৈরি হয়েছে।
শেখ হাসিনার কর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শেখ হাসিনার দলের বেশিরভাগ কর্মী তার প্রতি আস্থাহীন।
তাদের দাবি—
তার পূর্বের অবস্থান স্পষ্ট নয়
তিনি হঠাৎ করে আসেন
তার উদ্দেশ্য বোঝা যায় না
তাই অনেকেই চান না তিনি শেখ হাসিনার আইনি দলে থাকুন।
জেড আই খান পান্না বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবুও তার নীরবতা, সক্রিয়তা, সময় বেছে নেওয়া, প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা এবং পরবর্তী আইনি যুক্তি—সবই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তিনি সত্যিই শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান, নাকি এখানে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় কৌশল—এটা এখনো পরিষ্কার নয়।
শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে—তার অবস্থান মানবাধিকার, রাজনীতি নাকি ব্যক্তিগত কৌশলের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।





























