সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে প্রশ্ন—তিনি কি সত্যিই শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান?

মো. নেসার উদ্দিন প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৩৫ পিএম
জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে প্রশ্ন—তিনি কি সত্যিই শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান?

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জেড আই খান পান্না: শেখ হাসিনা মামলায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কেন বাড়ছে?
  • জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
  • শেখ হাসিনার মামলায় তার সম্পৃক্ততা, অবস্থান, আগ্রহ এবং সময় নির্বাচন—সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

জেড আই খান পান্না: শেখ হাসিনা মামলায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন কেন বাড়ছে?

জেড আই খান পান্নাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার মামলায় তার সম্পৃক্ততা, অবস্থান, আগ্রহ এবং সময় নির্বাচন—সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তিনি আসলে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা ব্যাখ্যা।

মানবাধিকার কর্মী হিসেবে দীর্ঘ পথচলা

উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন নথি অনুসারে জেড আই খান পান্না বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত মানবাধিকারকর্মী। তিনি আইন শালিস কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর ট্রাস্টি। পাশাপাশি তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
বিগত কয়েক দশক তিনি মানবাধিকার, বিচারপ্রাপ্তি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছেন।

আগের সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন

বিগত সরকারের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়ন, গুম-খুন বিষয়ে তিনি ছিলেন প্রকাশ্য সমালোচক। বিশেষত ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি রিট করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারের কঠোর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সেই সময়ের অবস্থান দেখে অনেকেই তাকে “রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা মানবাধিকারভিত্তিক কণ্ঠ” হিসেবে বিবেচনা করতেন।

ইউনূস সরকারের সময়ে নীরবতা—এটাই প্রথম প্রশ্ন

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অঙ্গনে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি অস্বাভাবিকভাবে নীরব ছিলেন।
সমর্থন নয়, সমালোচনা নয়—কোনো অবস্থানই নেননি।

মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তার এই মৌনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অনেকে বলছেন—এই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তার রাজনৈতিক সতর্কতা বা কৌশল।

রায় ঘোষণার সময় হঠাৎ ঘোষণা—তিনি শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চান!

প্রশ্ন এখানেই সবচেয়ে বেশি।
মামলার প্রায় শেষ পর্যায়ে তিনি জানান—
“আমি শেখ হাসিনার আইনজীবী হতে চাই।”

কিন্তু তখন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স কাউন্সেল ছিল আমির হোসেন।
আইনজীবী পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।
তাই অনেকে মনে করেন—এই ঘোষণা ছিল প্রতীকী, গণমাধ্যমে আলোচনায় আসার কৌশল, অথবা রাজনৈতিক বার্তা।

মঞ্চ-৭১: ঘোষণা, অনুপস্থিতি এবং গ্রেপ্তার—সবই নিয়ে রহস্য

তিনি “মঞ্চ-৭১” নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন—উদ্দেশ্য বলা হয় মুক্তিযুদ্ধ রক্ষা।
কিন্তু—

প্রথম প্রেসক্লাব ব্রিফিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন না

তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়

তিনি নিজে গ্রেপ্তার হননি

পরে তিনি তাদের জামিনের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান

এখানেও প্রশ্ন তৈরি হয়—
তার অনুপস্থিতি কি কৌশলগত সুরক্ষা ছিল? নাকি এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য ব্যাখ্যা আছে?

শেষমেশ শেখ হাসিনার পরবর্তী মামলায় ডিফেন্স লইয়ার—প্রশ্ন আরও গভীর

সব বিতর্কের শেষে শেখ হাসিনার পরবর্তী মামলায় তিনি সরকারিভাবে ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে যুক্ত হন।

এই নিয়োগ অনেককে বিস্মিত করে।
কারও মতে—এটি মানবাধিকারবিষয়ক নীতি অনুসরণ;
কারও মতে—এটি রাজনৈতিক পুনর্সংযোগ;
আবার অন্যদের মতে—পূর্বের নীরবতা, সময় নির্বাচন এবং বর্তমান গ্রহণ—সব মিলিয়ে এক অস্বচ্ছ চিত্র তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনার কর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শেখ হাসিনার দলের বেশিরভাগ কর্মী তার প্রতি আস্থাহীন।
তাদের দাবি—

তার পূর্বের অবস্থান স্পষ্ট নয়

তিনি হঠাৎ করে আসেন

তার উদ্দেশ্য বোঝা যায় না

তাই অনেকেই চান না তিনি শেখ হাসিনার আইনি দলে থাকুন।

জেড আই খান পান্না বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবুও তার নীরবতা, সক্রিয়তা, সময় বেছে নেওয়া, প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা এবং পরবর্তী আইনি যুক্তি—সবই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তিনি সত্যিই শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াতে চান, নাকি এখানে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় কৌশল—এটা এখনো পরিষ্কার নয়।
শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে—তার অবস্থান মানবাধিকার, রাজনীতি নাকি ব্যক্তিগত কৌশলের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের হয়রানি, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি; চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ, হয়রানি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠান। এতে পরীমনি ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পরীমনিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অশ্লীল বক্তব্য, সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয় ও অঙ্গভঙ্গি এবং নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পমূল্য বা শিক্ষাগত গুরুত্ব নেই—এমন কর্মকাণ্ড চলচ্চিত্র, ভিডিও, অডিও-ভিজ্যুয়াল, স্থিরচিত্র কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে ধারণ ও প্রচার না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে পরীমনিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। ওই দিন সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

নোটিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পাশাপাশি তাঁর ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনায় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সুজন চন্দ্র মণি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীও আহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তাঁর মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

নোটিশে বলা হয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ নেই।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালত থেকে বের হওয়ার পর পরীমনি সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান। রবিউলের ডান হাত জন্মগতভাবে ছোট এবং ওই হাতে তিনটি আঙুল না থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাতটি ব্যবহার করতে পারেন না। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে পরীমনি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও এতে বলা হয়।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ তাঁর পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত। একই সঙ্গে এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অন্যদিকে, গত ৬ নভেম্বর পরীমনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতকে মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করে একটি অশ্লীল পোস্ট দিয়েছেন বলেও নোটিশে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ এএম
সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় গাড়ি; নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, অতিরিক্ত গতিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করছে ট্রাফিক বিভাগ

সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ১৩ বাংলাদেশির সবাই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। শনিবার মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিরা তিনটি পরিবারের সদস্য।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা। দুর্ঘটনায় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও আরেক মেয়ে ইউসরা আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই গাড়িতে থাকা আলম শাহ হারিয়েছেন স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়াকে। দুর্ঘটনায় আলম শাহ ও তাঁর ছেলে ফয়সাল আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আহত ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তি গফুর আলম।

কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন পরিবারের প্রধানসহ চারজন সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালমান কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে কোম্পানির চার বাংলাদেশি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল বলে জানা গেছে। ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন নাইমা খন্দকার; ২০ দিন ধরে থানায় জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, লিখিত অভিযোগ চেয়েছে পুলিশ

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার। শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানিকর অপপ্রচার ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব?’

নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। পাশাপাশি তিনি জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেসবুক পোস্টে নাইমা লেখেন, দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নাইমার দাবি, তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার তাঁকে নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তিনি নিজ বাসায় একা থাকায় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।

নাইমা লেখেন, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাঁকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে তাঁর প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় নাইমা খন্দকার বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ এবং স্বামী মাহবুব হোসেন তুষার বলে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে ফেসবুক আইডি থেকে এমন অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাইমা খন্দকার মৌখিকভাবে ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×
ENG