উত্তরা মাইলস্টোন বিক্ষোভে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তায় মুক্ত

উত্তরা মাইলস্টোন বিক্ষোভ- উত্তেজনা, যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার তদন্তে গিয়ে ঘেরাও হন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সি আর আবরার
উত্তরা মাইলস্টোন বিক্ষোভ মঙ্গলবার চরম উত্তেজনাকর রূপ নেয়, যখন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে তারা পুলিশের নিরাপত্তায় মুক্তি পান।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়া স্থানে পরিদর্শনে আসেন তারা। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উপদেষ্টারা ৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫-৭ জন প্রতিনিধি আলোচনার জন্য ভেতরে যান। কিন্তু খবর ছড়িয়ে পড়ে—উপদেষ্টারা ভবনের ভেতরে অবস্থান করছেন। মুহূর্তেই কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভবন ঘিরে ফেলেন এবং স্লোগান ও দাবি-দাওয়ার মাধ্যমে ঘেরাও অব্যাহত রাখেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে সঠিকভাবে উদ্ধার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তারা আরও বলেন, আইডি কার্ডে জরুরি তথ্যের অভাব, সংকীর্ণ গেটের কারণে বিলম্ব—সব মিলিয়ে বড় ধরণের অব্যবস্থাপনা হয়েছে।
উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কিছুটা শান্ত হলে উপদেষ্টারা পুলিশের নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
উত্তরা মাইলস্টোন বিক্ষোভ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জোরালোভাবে সামনে এনেছে।
প্রথম কলকাতার নোংরা গুজব ধূলিসাৎ: লাখো পেজ-আইডির ডিজিটাল সুনামিতে শেখ হাসিনার লাইভ দেখল কোটি মানুষ!

লাখো আইডি ও পেজের মহাসমুদ্র, কাঁপল ফেসবুক
‘প্রথম কলকাতা’র সস্তা গুজব ও হাস্যকর ডিজিটাল অজ্ঞতা
কড়াকড়ি ভেঙেই বিকল্প মাধ্যমে কোটি মানুষের গর্জন
‘ফেরার অঙ্গীকারে প্রশংসা, ধর্মান্ধ তোষণে তীব্র আঘাত’—শেখ হাসিনাকে নিয়ে তসলিমা নাসরিনের বিশ্লেষণ

‘কণ্ঠে ভাঙন নয়, ছিল ফেরার অঙ্গীকার; ধর্মান্ধদের তোষণেই নিজের পতনের ভিত্তি গড়েছিলেন শেখ হাসিনা’—তসলিমা নাসরিন
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতার প্রশংসার পাশাপাশি রাজনৈতিক ভুল, ধর্মান্ধ শক্তির সঙ্গে আপস, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় স্বীকারের আহ্বান নির্বাসিত লেখিকার
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরার অঙ্গীকারে প্রশংসা করেছেন বিখ্যাত লেখিকা ড. তসলিমা নাসরিন। সাম্প্রতিক ভাষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে নির্বাসিত প্রখ্যাত লেখক ড. তসলিমা নাসরিন। বক্তব্যে তিনি একদিকে শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দেশে ফেরার দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে তাঁর শাসনামলের রাজনৈতিক ভুল, ধর্মান্ধ শক্তির সঙ্গে আপস, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কড়া সমালোচনা করেছেন।
‘কণ্ঠে ভাঙন ছিল না, ছিল দেশে ফেরার অঙ্গীকার’
শেখ হাসিনার ভাষণ শুনে তসলিমা নাসরিন লেখেন, “দুই বছর দেশ থেকে দূরে থেকেও তাঁর কণ্ঠে ভাঙন ছিল না; ছিল দেশে ফেরার দৃঢ় সংকল্প। বত্রিশ বছর ধরে নির্বাসিত একজন মানুষ হিসেবে নিজের দেশে ফেরার এই আকুলতা আমি বুঝি। তাঁর দৃঢ়তা আমাকে স্পর্শ করেছে।”
বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তসলিমা নাসরিন বলেন, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, বিরোধী কণ্ঠ দমন গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনার কথা বলার, আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং নিজের দেশে ফেরার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সরকার বা আদালত নয়, জনগণই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।

২০২৪ সালের আন্দোলন ও রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার বক্তব্যের উল্লেখ করে তসলিমা নাসরিন বলেন, আন্দোলনটি পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্দোলন চলাকালে প্রাণহানি, আহত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের জন্য শেখ হাসিনার সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, “শুধু ষড়যন্ত্রের কথা বললে ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না। নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়; একজন নেতার সবচেয়ে বড় সাহস।”
‘ধর্মান্ধদের তোষণই পতনের পথ তৈরি করেছে’
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে ধর্মান্ধ শক্তির সঙ্গে আপসের বিষয়টি তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে বারবার ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, হেফাজতের দাবি মেনে পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগতিশীল ও অমুসলিম লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইসলামি জঙ্গিদের হাতে মুক্তচিন্তকরা নিহত হওয়ার পর তাঁদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো লেখকদের ধর্মের সমালোচনা না করার পরামর্শ দেওয়া ছিল গুরুতর রাজনৈতিক ভুল।
তসলিমা নাসরিনের ভাষায়, “ক্ষমতা রক্ষার জন্য যে ধর্মান্ধ জিহাদি অপশক্তিকে তিনি বছরের পর বছর তুষ্ট ও প্রশ্রয় দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সেই শক্তিই ছাত্রদের আন্দোলনে ঢুকে আন্দোলনটিকে নিজেদের রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে তাঁর পতন ঘটিয়েছে। তিনি শুধু ষড়যন্ত্রের শিকার নন; ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে তাঁর ধারাবাহিক আপসই সেই ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার জমি তৈরি করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মান্ধ শক্তিকে তুষ্ট করে সাময়িকভাবে ক্ষমতা রক্ষা করা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই শক্তিই রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে গ্রাস করে—বাংলাদেশে তারই বাস্তব উদাহরণ দেখা গেছে।
স্বচ্ছ বিচার ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির আহ্বান
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেন, তিনি চান শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন। তবে সেই ফেরা যেন হত্যা, ফাঁসি বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য না হয়; বরং স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচারিক প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে হোক।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি তাঁর পতনের পর সংঘটিত হত্যা, লুটপাট, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারীর ওপর সহিংসতা, সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তকদের কণ্ঠরোধ এবং ইসলামি মৌলবাদী সহিংসতারও সমানভাবে বিচার হতে হবে।
তাঁর ভাষায়, “ন্যায়বিচার বেছে বেছে করা যায় না।”
নিজের ভুল স্বীকার করেই ফিরতে হবে
প্রতিক্রিয়ার শেষাংশে বাংলাদেশকে প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, শেখ হাসিনাকে শুধু ক্ষমতার দাবিদার হিসেবে নয়, বরং নিজের শাসনের সাফল্য ও ব্যর্থতা—দুটোরই সত্য স্বীকার করতে প্রস্তুত একজন নেতা হিসেবে দেশে ফিরতে হবে।
তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা যদি অতীতের গুরুতর রাজনৈতিক ভুলগুলো স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে আর কখনো আপস না করার অঙ্গীকার করেন, তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
‘ফেরাতে পারেনি সরকার, এখন শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় ফেরার খবরেই এত ভয়’—সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

হাফিজের রাজনৈতিক অতীত, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে পারেন—এমন আলোচনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের “ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে” মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রবীণ অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে “ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে” বলে মন্তব্য করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, “শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাননি। তাকে রাষ্ট্রীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্র আজ পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে পারেনি।”
হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক অতীতের সমালোচনা করে শরিফুল আলম চৌধুরী দাবি করেন, ২০০৭ সালের ১/১১-এর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় হাফিজ উদ্দিন বিএনপি ভেঙে আলাদা নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় নির্বাচন কমিশন ও তৎকালীন প্রশাসন তাকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শরিফুল আলম চৌধুরী আরও দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান প্রশাসন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়নি। তার অভিযোগ, এখন শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা আলোচনায় আসতেই সরকার আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং শরিফুল আলম চৌধুরীর উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



















