কুমিল্লায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে বর্ষার ঐতিহ্য || বর্ষার ভাসায় ভেসে এসেছে জমজমাট ‘চাইয়ের হাট’!
কুমিল্লায় বর্ষা এলেই হাটবাজারে এক ভিন্ন আমেজ—জমে ওঠে মাছ ধরার দেশীয় ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। ছবি : সংগৃহিত।
কুমিল্লায় বর্ষা এলেই হাটবাজারে এক ভিন্ন আমেজ—জমে ওঠে মাছ ধরার দেশীয় ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। জেলার খাল-বিল, নদীঘেরা ভূপ্রকৃতিতে বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়ে ওঠে নিম্নাঞ্চল। আর এই সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে শুরু হয় গ্রামীণ মাছ শিকারের উৎসব। সেই উৎসবেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে বাঁশের তৈরি ‘চাই’।
চান্দিনা, তিতাস, মুরাদনগর, মেঘনা উপজেলার অন্তত ২৫টির বেশি হাটে এখন সপ্তাহে দুই দিন করে বসে ‘চাইয়ের হাট’। প্রতিটি হাটে চাহিদা মতো বিক্রি হচ্ছে এই মাছ ধরার ফাঁদ। কুমিল্লার মাধাইয়া ও দোল্লাই নবাবপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে একটি চাই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দোল্লাই নবাবপুরের ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া বলেন, “এই মৌসুমে আমি প্রতি হাটে ৬০-৭০টা চাই বিক্রি করি। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে কিনে নিয়ে যায়। বর্ষার শেষ দিকে চাইয়ের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। তখন পানি কমে গেলে নিম্নাঞ্চলের মাছগুলো জমির আইলের কাছে এসে পড়ে। চাই পুঁতে রাখলে অনেক মাছ ধরা পড়ে।”
এই ‘চাই’ মূলত বাঁশের তৈরি একধরনের ফাঁদ, যা পানির প্রবাহে রেখে দেওয়া হয়। মাছ চলাফেরা করতে গিয়ে ঢুকে পড়ে ভিতরে, আর আর বের হতে পারে না। প্রাচীন এই কৌশল আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
মহিচাইল গ্রামের আবুল বাশার মাধাইয়া হাটে এসে ৫টি চাই কিনে নিলেন। তিনি বলেন,“প্রতিদিন ২-৩ কেজি মাছ ধরতে পারি। তা থেকে ৩-৪ শত টাকা আয় হয়। চাই দিয়ে যা মাছ ধরি, তা দিয়ে সংসারের চাহিদা মেটাই। বাকি বিক্রি করে দেই।”
তিনি আরও বলেন, এই দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ ধরায় এখনো মেতে ওঠে গ্রামের ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ। অনেকটা উৎসবের মতো চলে এই কার্যক্রম। কেউ নিজের খালের পাশে চাই পুঁতে, কেউ আবার জমির আইলের নিচে লুকিয়ে রাখে মাছ ধরার ফাঁদ।
মাছের এই মৌসুমে যেমন চাঙা হয়ে ওঠে গ্রামের অর্থনীতি, তেমনি ফিরে আসে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়াও। আধুনিকতার ভিড়েও গ্রামীণ মানুষ আজও ধরে রেখেছে তাদের এই প্রাচীন প্রযুক্তি, যা তাদের জীবিকার এক বড় সহায়ক পদ্ধতি।
























