মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

জেল ভেঙে জঙ্গিসহ ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক—ইউনূসের শাসনে এই ভয়াবহ ব্যর্থতার দায় কার?

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম
ইউনূসের আমলে জেলের নিরাপত্তা ভেঙে ৬৯০ বন্দি পলাতক—এই ব্যর্থতার দায় কার?

ইউনূসের আমলে জেলের নিরাপত্তা ভেঙে ৬৯০ বন্দি পলাতক। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক, যাদের মধ্যে দুই জঙ্গিও রয়েছে।
  • মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
  • কারা মহাপরিদর্শকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক, যাদের মধ্যে দুই জঙ্গিও রয়েছে। মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

কারা মহাপরিদর্শকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও এখনও ৬৯০ জনের সন্ধান মেলেনি। শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়েছিল ৮২৬ জন; তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রশাসনের সক্ষমতা, কারাগারের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এত বিপুলসংখ্যক বন্দি কীভাবে কারাগার থেকে পালানোর সুযোগ পেল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা কোথায় ভেঙে পড়েছিল—তা নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

তবে ইউনূস সরকার বা তার প্রশাসন সরাসরি বন্দিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে—এমন কোনো প্রমাণ বা কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্যে উল্লেখ না থাকলেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ বলছে এটা তাদের চোখের সামনে ঘটেছে, এ ঘটনায় সরাসরি জঙ্গি নেতা ইউনুস ও তার প্রশাসন জড়িত। কারাগার ভাঙার পেছনে কোনো অবহেলা, নিরাপত্তাগত ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্র বা প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা জরুরি।

কারা মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার হলেও বন্দির সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার। কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গিসহ ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন
কারা মহাপরিদর্শক

কারাগারে মাদক ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানান তিনি। গত দুই বছরে এসব অভিযোগে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দুই জঙ্গিসহ শত শত বন্দি এখনও বাইরে রয়েছে। তারা কোথায় আছে, কীভাবে এতদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাদের পুনরায় গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বেগমগঞ্জে ১৪ দিনের নবজাতককে পানির ড্রামে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, মা গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ পিএম
বেগমগঞ্জে ১৪ দিনের নবজাতককে পানির ড্রামে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, মা গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাত্র ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগম (১৯)কে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ি এলাকায় সৌরভের বসতঘরে ঘটনাটি ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে ঘরের ভেতরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত ফাতেমা বেগম বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।

নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে শিশুটির মাকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের তথ্য জানিয়েছেন।
মো. শামসুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বেগমগঞ্জ থানা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর নবজাতককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় ফাতেমাকে শিশুটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে আবার বলেন, জিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে। তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।

পরে রাত ১০টার দিকে বসতঘরের এক কোণে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রাম খুলে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা শিশুটিকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি কান্নাকাটি করত, ঘুমাত না এবং তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটত—এমন বিরক্তি ও মানসিক চাপ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, শিশুটিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রামে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফাতেমা বেগমকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে শিশুটিকে হত্যার পেছনে শুধু পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপ ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সিএনজি ভাড়া থেকে সরকারি সম্পদ দখল—মুরাদনগরে প্রশাসনের ‘নীরবতা’ নিয়ে ক্ষোভ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
সিএনজি ভাড়া থেকে সরকারি সম্পদ দখল—মুরাদনগরে প্রশাসনের ‘নীরবতা’ নিয়ে ক্ষোভ

মুরাদনগরে প্রশাসনের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন, সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি ঘোষণা বা অনুমোদন ছাড়াই কয়েকদিনের ব্যবধানে নির্ধারিত ভাড়া ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়লেও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদনগর রুটে আগে যেখানে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হতো প্রায় ৮০ টাকা, বর্তমানে অনেক সিএনজি চালক ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কের দূরত্ব বা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া পরিবর্তনের কোনো দৃশ্যমান ঘোষণা ছাড়াই এভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

তবে কয়েকজন সিএনজি চালকের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে তারা প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, আগে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকায় যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যেত, বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সময় তার চেয়ে কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি গাড়ির খরচ, সংসার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা আর্থিক চাপে রয়েছেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুরাদনগরের সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দারোরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মোস্তফা মুন্সী।

মুরাদনগরের প্রশাসন যেন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছে। ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, মাটিখেকোদের তৎপরতা, জন্মনিবন্ধন নিয়ে অনিয়ম, ফসলি জমি নষ্ট, পুকুরে মাছ চাষের কারণে সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ এবং সরকারি সম্পদ লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
মো. মোস্তফা মুন্সী
আহ্বায়ক- দারোরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল।

মোস্তফা মুন্সীর অভিযোগ, শুধু সিএনজি ভাড়া নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। সরকারি সম্পদ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে তার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে সিএনজির ভাড়া নির্ধারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো এবং উপজেলার অন্যান্য জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—শুধু সতর্ক করেই কি দায়িত্ব শেষ হবে, নাকি সিএনজি ভাড়া থেকে শুরু করে সরকারি রাস্তা দখল, কৃষিজমি নষ্ট ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় মুরাদনগর প্রশাসন দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? এখন সেটিই দেখার বিষয়।

​আদালতের নির্দেশ অমান্য! মুরাদানগরের ১৭১টি খাল উদ্ধারে হাইকোর্টের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছে না স্থানীয় প্রশাসন। ৩ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ছবি : আজকের কথা
​আদালতের নির্দেশ অমান্য! মুরাদানগরের ১৭১টি খাল উদ্ধারে হাইকোর্টের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছে না স্থানীয় প্রশাসন। ৩ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

​”উল্লেখ্য, কুমিল্লার মুরাদানগরে অবৈধ দখলে থাকা কোম্পানীগঞ্জ থেকে নবীনগর এবং সালপা থেকে পিপরিয়ার প্রধান খালসহ ১৭১টি সংযোগ খাল উদ্ধারে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় প্রশাসনকে এই ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে আদেশ প্রতিপালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা তোয়াক্কা করছে না মুরাদনগর স্থানীয় প্রশাসন। এতে করে হাইকোর্টের নির্দেশও কার্যত উপেক্ষিত ও পাত্তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।”

মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশুবিক্রির অভিযোগ, ফিরে পেতে আকুতি

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ এএম
মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশুবিক্রির অভিযোগ, ফিরে পেতে আকুতি

কুমিল্লার মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশুকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মা তাছলিমা আক্তার এখন শিশুটিকে ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর এবং বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সরেরপাড় এলাকায়।

ভুক্তভোগী তাছলিমা আক্তার সরেরপাড় গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে এবং মোস্তফাপুর গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী। ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া শিশুটি তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।

তাছলিমার অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে মজিদ কলেজ মাঠ এলাকায় একটি স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, তার কোলের সন্তান আর নেই।

কান্নায় ভেঙে পড়ে তাছলিমা বলেন, “আমি কোনো টাকাপয়সা চাই না। আমার কোলের সন্তানকে সুস্থভাবে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন।” তাঁর অভিযোগ, খালা চক্রান্ত করে শিশুটিকে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছেন।

তবে তাছলিমার খালা ছেনোয়ারা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, তাছলিমার মামা বাবুল মিয়া বিষয়টি জানেন।

অন্যদিকে বাবুল মিয়া জানান, তিনি শুধু একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছেন। শিশুটিকে কারা নিয়ে গেছে বা বর্তমানে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বরং শিশুটির বাবা আল-আমিন বিষয়টি জানেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিশুটির বাবা আল-আমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে, তা খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. শফিউল আলম
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), বাঙ্গরা বাজার থানা।

সন্তানের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত তাকে নিরাপদে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অসহায় মা তাছলিমা আক্তার।

×
ENG