গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

ঢাকার বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’—যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে গঠিত সাতটি ম্যুরাল দেয়াল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর এবার পুরো স্থাপনাটিই নিশ্চিহ্ন করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিতর্কের মুখে এই স্থানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণের।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকে একে “ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা” বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ বলেন, “যাদের স্মৃতি মুছতে চায়, তারাই একদিন ইতিহাসে মুছে যাবে।”

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এতে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ভাস্কর্য ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দেয়ালচিত্রে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের দিন ওই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জায়গাটি পরিত্যক্ত পড়ে ছিল।
এখন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে গণমিনার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি জনগণের অর্থে তৈরি হবে, এবং ৫ আগস্টের মধ্যে একটি দৃশ্যমান রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বিজয় সরণিকে কেন্দ্র করেই বড় পরিসরে পরিকল্পনা করছি, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।”
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন। তাদের স্মরণেই এই গণমিনার নির্মিত হবে।”
এদিকে ২৫ জুন, ডিএনসিসির সপ্তম সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়—ভাঙা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর জায়গায় জুলাই শহীদদের স্মরণে উন্মুক্ত স্থান ও একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, “ইতিমধ্যে কনসেপ্ট প্রস্তুত। ১০-১২ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—’গণমিনার’ নির্মাণের নামে বিজয় সরণির পূর্ববর্তী ইতিহাস মুছে ফেলার এই উদ্যোগ কি যথার্থ? মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ আর বঙ্গবন্ধুর প্রতীকী উপস্থিতিকে বাদ দিয়ে নির্মিত গণমিনার আদৌ গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে তো?
‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে?
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।


























