১৩১ বারেও শেষ হয়নি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত, বিচার দেখার আকুতি মায়ের

১৩১ বারেও শেষ হয়নি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত, বিচার দেখার আকুতি মায়ের। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
১৫ বছরেও অধরা হত্যার রহস্য, জীবনের শেষ প্রান্তে ছেলে-পুত্রবধূর হত্যার বিচার চান সালেহা মনির
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত। আদালত ১৩১ বার সময় নির্ধারণ করলেও এখনো জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন। আগামী ৫ নভেম্বর ১৩২তম বারের মতো প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর হতাশার মধ্যে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সাগরের মা সালেহা মনিরের এখন একটাই আকুতি—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত ছেলে ও পুত্রবধূ হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।
ছেলে ও পুত্রবধূকে হারানোর স্মৃতি মনে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭৪ বছর বয়সী সালেহা মনির। এত বছরেও কেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হলো না, সেই প্রশ্ন তাঁর।
সালেহা মনির বলেন, “কোন মা তাঁর সন্তানের হত্যার বিচার চাইবেন না? ঘটনাটা তো একেবারেই স্পষ্ট ছিল। এত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ কেউ কিছু বের করতে পারল না।”
ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বেঁচে থাকতে যেন বিচার দেখে যেতে পারি, এটাই আমার আশা।”
সালেহা মনির জানান, গণমাধ্যমে তিনি দেখেছেন, তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টাস্কফোর্সের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এর আগে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
মামলার তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মেহেরুন রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম রোমান। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের নামে বারবার সময় বাড়ানোর আবেদন মামলাটিকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
রোমান বলেন, “টাস্কফোর্সের বারবার ছয় মাস করে সময় বাড়ানোর আবেদন আসলে তদন্ত বিলম্বিত করার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এতে প্রমাণ হয়, তদন্তে তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।”
তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এবং টাস্কফোর্সের প্রধানকে তলব করা হয়েছে। রোমানের মতে, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি। প্রসিকিউটরের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১৫ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত
সাগর সরওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় তাঁদের হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান। তাঁদের মধ্যে তানভীর ও মিন্টু বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পলাশ পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
তিন দফায় বদলেছে তদন্ত সংস্থা
২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হওয়ার পর প্রথমে ওই থানার পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তিন দিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিবি তদন্ত চালায়।
এরপর ২০১২ সালের এপ্রিলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি মামলাটির তদন্ত করে। বর্তমানে বাহিনীটির নাম স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মামলাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে এর আহ্বায়ক করা হয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নতুন তদন্তে কতটা অগ্রগতি
গত ১৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয় টাস্কফোর্স।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের তদন্তকারীরা ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছিলেন। টাস্কফোর্স দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও ৯০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আলামত ও তথ্য তদন্তের স্বার্থে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ সময়ে তদন্ত সংস্থার পরিবর্তন, বারবার সময় বৃদ্ধি এবং নতুন করে আলামত সংগ্রহের উদ্যোগ—কোনোটিই এখনো মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। ফলে সাগর-রুনি হত্যার বিচার কবে শুরু হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
একদিকে দুই পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, অন্যদিকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সালেহা মনিরের শেষ আকুতি—ছেলে ও পুত্রবধূ হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি। ১৫ বছরেও তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে পুলক ঘটকের ক্ষোভ, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ভয় দেখাচ্ছে সরকার’

সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি। একই ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে আটক করার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং মৌলিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তাঁরা অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।
এদিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলক ঘটক বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং একজন সম্পাদককে আটক করা গণতন্ত্র ও সভ্যতার সঙ্গে চরম বৈরিতার শামিল।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগবিহীন একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভাগাভাগির ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকার নিজেদের বৈধতার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার এখন নার্ভাস। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
পুলক ঘটক আরও বলেন, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের শীর্ষ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে সাংবাদিক সমাজকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইন প্রয়োগের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে, যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়’—উপদেষ্টা জাহিদের এমন বক্তব্য মানুষকে ভীত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
পুলক ঘটক বলেন, অনৈতিক ও দুর্বল সরকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। হত্যা, নির্যাতন ও নিবর্তনমূলক আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক।
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে সেবা গ্রহীতাকে পিটিয়ে আহত, ভিডিও ভাইরাল

নতুন ভোটার নিবন্ধনে বারবার হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে মারধরের শিকার; কর্মকর্তা বলছেন, ঘটেছে ধস্তাধস্তি
কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসে এক কর্মকর্তার কক্ষে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে, এর বাইরে কিছু হয়নি।
অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম রবিন সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকার বাসিন্দা। তার বোন মোসা. সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নাকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করানোর জন্য তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। বুধবার সকালে বোনকে নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে গেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, বোনের নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন তিনি। প্রতিবার নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে নতুন নতুন ভুলের কথা জানানো হতো। সব ভুল একসঙ্গে জানাতে বারবার অনুরোধ করেও কোনো সমাধান পাননি।
তিনি বলেন, “আমি মানলাম, আমার সব কাজে ভুল আছে। কিন্তু কী কী ভুল আছে, তারা সব একসঙ্গে বলেনি। একেক দিন গেলে পরে একেকটি ভুলের কথা বলে। আমার বোন গেলে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আমি বারবার অনুরোধ করেছি, সব ভুল একসঙ্গে বলেন, সব ঠিক করে নিয়ে আসব।”
রবিউলের ভাষ্য, বুধবার সকালে আবারও কাগজপত্রে একটি ভুল ধরিয়ে দেওয়া হলে এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কার্যালয়ের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন।
তার দাবি, ঘটনার সময় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি রবিউলকে কিল-ঘুষি মারছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সেবা নিতে আসা ব্যক্তিকে এভাবে কক্ষে আটকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিও ধারণ করতে গেলে অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন। পরে তিনি একটি ভিডিওতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, রবিউল নিজেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিলেন। তার বোনের আবেদন করা কাগজপত্র যাচাই করে বাবার ওয়ারিশ সনদ, জন্মসনদসহ বিভিন্ন নথিতে অন্তত তিনটি অসংগতি পাওয়া যায়। সেগুলো সংশোধন করে আনতে বলা হলেও তিনি তা না করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। একজন সেবা গ্রহীতাকে মারধর করা যেমন ঠিক হয়নি, তেমনি অভিযোগকারীর আচরণও সঠিক ছিল না।
তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা হবে।
দেবীদ্বারে আরআরএমইপি প্রকল্পের আওতায় ১৫ ইউনিয়নে লটারিতে ১৫০ নারী কর্মী নিয়োগ, আবেদন ২৭২ জনের

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত নারীরা পাবেন দৈনিক ৩০০ টাকা পারিশ্রমিক, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের (আরআরএমইপি) আওতায় ১৫টি ইউনিয়নে ১৫০ জন নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
নিয়োগ কার্যক্রমে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন থেকে মোট ২৭২ জন নারী আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১০ জন করে মোট ১৫০ জনকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়।

কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাত ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাদ রিয়াসনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ইউপি সদস্য এবং নিয়োগপ্রত্যাশী বিপুলসংখ্যক নারী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ সড়কের টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ, বনায়নের পরিচর্যা, সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের তদারকি এবং বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাদ রিয়াসন বলেন, প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১০ জন করে নারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত কর্মীরা দৈনিক ৩০০ টাকা পারিশ্রমিক পাবেন। এর মধ্যে প্রত্যেকের নিজস্ব হিসাবে ১০০ টাকা করে জমা রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত নারী কর্মীদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাশাপাশি তাদের বসবাসের স্থান এলজিইডি কর্তৃক তালিকাভুক্ত রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য সড়কের দুই কিলোমিটারের মধ্যে হতে হবে, যাতে সহজেই কর্মস্থলে যাতায়াত করতে পারেন।
উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “নারী কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও যোগ্য নারীদের কর্মসংস্থানের আওতায় আনতেই উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচিত নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।





























