বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নির্বাসন, রাজনীতি ও প্রত্যাবর্তন

দেশে দ্রুত ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
দেশে দ্রুত ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি Sheikh Hasina বলেছেন, তিনি খুব দ্রুতই দেশে ফিরবেন এবং “গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের গর্ব” নিয়েই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসবেন। ভারতের দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, জঙ্গিবাদ, বিচারব্যবস্থা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক Gautam Lahiriকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন, “আমার অনুপস্থিতি নীরবতা নয়। দেশের মানুষের জন্য আমি প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ বা দমন করার যে কোনো চেষ্টা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ মানুষের দল, জনগণের হৃদয়ে বেঁচে থাকা একটি রাজনৈতিক শক্তি।”

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলের ভেতরে শুদ্ধিকরণের প্রশ্ন উঠলেও শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ নিজের সাংগঠনিক প্রক্রিয়াতেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মূল্যায়ন করবে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে “ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা” চালাচ্ছে।

দেশত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি; বরং “রাজনৈতিক নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে” বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একইসঙ্গে দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের “সময়য়ের সাহসী যোদ্ধা” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছিল। তিনি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের সুফল এখনও জনগণ ভোগ করছে।

জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন রক্ষায় বিশ্বকে আরও সোচ্চার হতে হবে। তিনি দেশের জনগণের উদ্দেশে বলেন, “হতাশ হওয়ার কিছু নেই। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার দাবি

মুরাদনগরে ‘গায়েবি মিছিল’ দেখিয়ে ৭৪ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ফুঁসে উঠছে জনতা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ এএম
মুরাদনগরে ‘গায়েবি মিছিল’ দেখিয়ে ৭৪ জনকে আসামি করে পুলিশের মামলা, ফুঁসে উঠছে জনতা

মুরাদনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের দাবি, এজাহারে বর্ণিত তারিখ, সময় ও স্থানে কোনো মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, মামলার আসামিদের অনেকেই মামলা দায়েরের পর জানতে পেরেছেন যে ওই দিন মুরাদনগরে কথিত একটি মিছিল হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলে মামলাটিকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।

কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম থাকা নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ‘গায়েবি’, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন মুরাদনগর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মহিন উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৫ জুন ভোর আনুমানিক ৬টা ৫৫ মিনিটে মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নম্বর নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরা নগর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সিএন্ডবি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে।

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি করার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি

তবে মামলায় অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের দাবি, উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্য, মহাসড়কের মতো ব্যস্ত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলে তা সাধারণ মানুষের নজর এড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ ওই দিন ওই এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা সড়ক অবরোধের ঘটনা কেউ প্রত্যক্ষ করেননি।

মামলার অন্যতম আসামি এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মামলার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি কুমিল্লায় ছিলেন না।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, “৪ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে মহানগর গোধূলি ট্রেনে কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। ভৈরব স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে গভীর রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছাই। রাত ৪টার দিকে বাসায় প্রবেশ করি। পরদিন কন্যা সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। এরপর ৬ জুন বিকেলে ঢাকায় থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসি। অথচ ৫ জুন সকালে মুরাদনগরে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ এনে আমাকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এটি রাজনৈতিক দৈন্যতার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন মুরাদনগরে কোনো মিছিল হয়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহল থেকেও মন্তব্য করা হয়েছিল। এরপরও তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছ

এজাহার অনুযায়ী মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
১. সৈয়দ তানভীর আহমেদ ফয়সাল (৪৬), পিতা- মৃত সৈয়দ সেলিম, সাং- আন্দিকুট, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

২. শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৭), পিতা- নান্নু মিয়া, সাং- পূর্ব জাঙ্গাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৩. আবুল কাশেম (৩৫), পিতা- মোহাম্মদ নূরু মিয়া, সাং- ফুলঘর, ০৭নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৪. ভুট্টু মিয়া (৪৮), পিতা- মৃত রেহমত মিয়া, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৫. হানিফ বাদশা (৫৫), পিতা- মৃত আকরম আলী মাস্টার, সাং- আন্দিকুট, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৬. কাউছার মোল্লা (৪১), পিতা- কাশেম মোল্লা, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৭. মোতাহার হোসেন মোল্লা (৪২), ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা- কুমিল্লা।

৮. সোহেল মুন্সী (৪০), পিতা- মালেক মুন্সী, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

৯. ওসমান বাছর (৪২), পিতা- বাবরু মিয়া, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১০. হাবিব উল্লাহ মুন্সি (২০), পিতা- লিটন মাস্টার, সাং- পাক দেওড়া, ০৪নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১১. জাফিল হোসেন (৪৩), পিতা- মৃত আমীর আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১২. জসিম উদ্দিন (৪০), পিতা- মৃত করিম মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৩. মশিউর রহমান (৩৫), পিতা- মৃত আলিম মাস্টার, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৪. সেলিম মিয়া (৪০), পিতা- রবি উল্লাহ, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৫. পাপন মিয়া (৩৮), পিতা- সিরাজ মিয়া, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৬. ফজলু মিয়া (৪৫), পিতা- মৃত কিতাব আলী, সাং- জাভড়া, ০১নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৭. জাহিদুল ইসলাম জানু (৪৮), পিতা- মৃত রহিদ মিয়া, সাং- পূর্ব জাঁদাল, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

১৮. আমান উল্লাহ পারভেজ (৩০), পিতা- আবুল হাসেম, সাং- দারোরা (উত্তর পাড়া), ০১নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

১৯. আজিজুল হক (৩৬), পিতা- মৃত আব্দুল বারেক, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২০. সাইফুল ইসলাম রাজিব (৫৫), পিতা- আকমত আলী, সাং- পরমতলা (রহমান মেম্বার বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২১. রুবেল (২৮), পিতা- মৃত মোসলেম, সাং- পরমতলা (ছলমুদ্দিন বাড়ি), থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২২. ফয়সাল (৩৫), পিতা- নুরুল ইসলাম ধনু, সাং- পরমতলা বকশী বাড়ি, ০২নং ওয়ার্ড, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

২৩. অলিউল্লাহ মোল্লা (৫০), পিতা- আব্দুস সালাম, সাং- পাক দেওড়া, থানা- বাঙ্গরা বাজার, জেলা- কুমিল্লা।

২৪. জুয়েল (২৮), পিতা- শামসু মিয়া, সাং- রহিমপুর, থানা- মুরাদনগর, জেলা- কুমিল্লা।

এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম থাকা অধিকাংশ ব্যক্তি বাঙ্গরা বাজার ও মুরাদনগর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মামলার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকে বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারছেন না বলেও দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা নতুন কিছু নয়। তবে কোনো ঘটনার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

এদিকে মামলাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে মামলার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও তদন্তের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলাটি ঘিরে মুরাদনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে এ মামলাটিকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কমিটির মুরাদনগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যেখানে কথিত ঘটনার দিন ও সময়ে কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা সমাবেশের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে কাদের খুশি করতে গিয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে এমন একটি গায়েবি মামলা দায়ের করলো, সেটি জনমনে বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলেরই লাভ হবে না; বরং এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা এ ধরনের মামলা সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”
বিবৃতিতে তিনি মামলাটির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে পুনঃতদন্তের দাবি জানান।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

গাঁজা-ইয়াবাসহ পুলিশের অভিযান

নন্দীগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে চার কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭

নাজমুল হুদা, বগুড়া থেকে : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
নন্দীগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে চার কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৭

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে চার মাদককারবারিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে উপজেলার কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ভাটরা ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার সাগর হোসেনকে (২৫) ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে বুড়ইল ইউনিয়নের ভদ্রদিঘী বাজার এলাকা থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ সময় কহুলী গ্রামের আব্দুস সালাম (৪০), গোলাম মোস্তফা (৬২) এবং ভদ্রদিঘী গ্রামের শফিকুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন— গোপালপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা, চককয়া গ্রামের আফছার আলী আকন্দ এবং জামালপুর গ্রামের আল-আমিন।

নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজু কামাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকসহ আটক চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ারেন্টভুক্ত তিন আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সকলকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

স্বাস্থ্য সচেতনতায় নতুন উদ্যোগ

দেবীদ্বারে এসএ সরকারি কলেজে হেলথ ক্লাবের উদ্বোধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম
দেবীদ্বারে এসএ সরকারি কলেজে হেলথ ক্লাবের উদ্বোধন

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে হেলথ ক্লাব: শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান আহসান পারভেজ

কুমিল্লার দেবীদ্বার সুজাত আলী (এসএ) সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শারীরিক-মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘হেলথ ক্লাব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এবং দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “হেলথ ক্লাব শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে উৎসাহিত করবে। সুস্বাস্থ্যই একজন শিক্ষার্থীর সফলতার অন্যতম ভিত্তি। স্বাস্থ্য সচেতন শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যাগুলো খোলামেলা আলোচনা করে চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করে, তাহলে তারা সুস্থ জীবনযাপনের পাশাপাশি পড়াশোনায়ও আরও মনোযোগী হতে পারবে। সুস্বাস্থ্য মেধা বিকাশে সহায়ক, আর মেধাবী তরুণরাই দেশ ও জাতির উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।”

অধ্যাপক জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক মো. কবির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক সাহেদ ইকবাল চৌধুরী, প্রভাষক মাহবুবা জিন্নাত, রাসেল আল মামুন, ফারজানা আক্তার, জসিম উদ্দিন, রাজিব রায়, রাসেদুল ইসলাম, বিধান তন্দ্র দেব, আশ্বাস আক্তার এবং দেবীদ্বার এসএ সরকারি কলেজ প্রাক্তন ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল আমিন ও ডা. বায়েজিদ হোসেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর আবু হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত হেলথ ক্লাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×